পরিচিতের এটিএম কার্ড ছিনতাই করে চল্লিশ হাজার টাকা লোপাট!
টাকা নিয়ে বচসার জন্যই পশ্চিম বন্দর থানার সোনাই রোডে পরিত্যক্ত গুদামে খুন হতে হয়েছিল দুষ্কৃতী আকলাম খানকে। খুনের ঘটনায় ধৃতকে জেরা করে প্রাথমিক ভাবে এমন তথ্যই উঠে এসেছে পুলিশের হাতে।
গত ২ জানুয়ারি সকালে বন্দর এলাকায় গাড়ি প্রস্তুতকারী একটি বহুজাতিক সংস্থার পরিত্যক্ত গুদাম থেকে গলা কাটা অবস্থায় উদ্ধার
হয় সেখানকার পরিচিত দুষ্কৃতী আকলাম খানের দেহ। তদন্তে নেমে ২৫ জানুয়ারি উত্তরপ্রদেশের গাজিপুরের বাসিন্দা সন্তোষ গুপ্ত
নামে এক যুবককে গ্রেফতার করে পুলিশ। সন্তোষকে জেরায় উঠে আসে মহম্মদ সাবির শাহ নামে আর এক ব্যক্তির নাম। মঙ্গলবার রাতে তারাতলা রোড থেকে গ্রেফতার করা হয় সাবিরকে। তার বাড়িও উত্তরপ্রদেশের গাজিপুরে।
সাবিরকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ জেনেছে, ১ জানুয়ারি রাতে আকলামকে খুনের ঘটনায় সন্তোষ এবং সাবির ছাড়াও বাবর নামে আর এক দুষ্কৃতী জড়িত ছিল। সে-ও গাজিপুরের বাসিন্দা। আকলাম, সন্তোষ, সাবির এবং বাবর— চার জনেই দীর্ঘ দিন বন্দর এলাকায় থাকত। পুলিশ জানিয়েছে, বর্ষবরণের রাতে বাবরের এটিএম কার্ড কেড়ে নিয়ে ৪০ হাজার টাকা লোপাট করেছিল আকলাম।
ধৃতেরা পুলিশকে জানিয়েছে, আকলামের সঙ্গে তাদের আগে থেকেই পরিচয় ছিল। বহু দিন ধরেই আকলাম বন্দর এলাকায় একচেটিয়া ভাবে ডাকাতি, তোলাবাজি ও ছিনতাইয়ে যুক্ত ছিল। তদন্তকারীদের অনুমান, আকলামের এহেন একচেটিয়া আধিপত্য মেনে নিতে পারেনি
সন্তোষ-সাবির-বাবরেরা। পুলিশ জানিয়েছে, ক্রমেই সন্তোষ, সাবির ও বাবরের সঙ্গে রেষারেষি বাড়ছিল আকলামের। তার উপরে বাবরের এটিএম কার্ড ছিনতাই করে টাকা লোপাট করায় ১ জানুয়ারি রাতে আকলামের সঙ্গে তিন জনের বিবাদ চরমে পৌঁছয়। ওই রাতেই খুন হয় আকলাম। লালবাজারের এক কর্তা বলেন, ‘‘ধৃতদের জেরা করে বাবরের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।’’