Advertisement
E-Paper

কলকাতার কড়চা: অপুর সংসারের ষাট বছর

অপুর দিক থেকে অবিশ্যি... বিয়ের পরে দিনে দিনে অপর্ণার প্রতি তার ভালবাসা ও admiration বেড়েছে। সে বুঝেছে যে কোনও কোনও ব্যাপারে অপর্ণা তার থেকেও বেশি mature।’’

শেষ আপডেট: ২৯ অক্টোবর ২০১৮ ০০:০০

তখন ‘অপুর সংসার’ তৈরির প্রস্তুতি চলছে। সিনেমায় নবাগত সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে অপু-চরিত্র এবং অপু-অপর্ণার সম্পর্ক নিয়ে অনবরত আলোচনা করতেন সত্যজিৎ রায়, একটি নোটও লিখে দিয়েছিলেন তাঁকে, তাতে এক জায়গায় ছিল: ‘‘কলকাতায় এসে কিছুদিনের মধ্যে অবিশ্যি অপর্ণা অপুকে আরও ভালভাবে চিনেছে... অপর্ণা এখন অপুকে মানুষ হিসেবেই ভালবাসে, শ্রদ্ধা করে, hero হিসেবে নয়। অপুর দিক থেকে অবিশ্যি... বিয়ের পরে দিনে দিনে অপর্ণার প্রতি তার ভালবাসা ও admiration বেড়েছে। সে বুঝেছে যে কোনও কোনও ব্যাপারে অপর্ণা তার থেকেও বেশি mature।’’ (প্রবন্ধ সংগ্রহ, আনন্দ)। লিখেছেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ও: ‘‘আজ এটুকু বলতে পারি, ‘অপু’র একটা হয়ে-ওঠা ছিল। এবং সেই হয়ে-ওঠার মধ্যে ছিল এক কালজয়ী প্রতিভার স্পর্শ। মানিকদা। সত্যজিৎ রায়।... দুটি ফুলস্ক্যাপ পাতায় নিজের হাতে লিখলেন, ‘অপু’ চরিত্রটি সম্পর্কে ওঁর ভাবনা। মানিকদার স্বভাবসিদ্ধ ডিটেল-এর ছোঁয়া সেখানেও।’’ (গদ্যসংগ্রহ ১, দে’জ)। ‘অপুর সংসার’ মুক্তি পেয়েছিল ১৯৫৯-এর ১ মে, ইতিমধ্যেই ষাট বছরে পা দিয়েছে। এই ছবির সঙ্গে অপু-চিত্রত্রয়ীর বাকি ছবি দু’টি, ‘পথের পাঁচালী’ ও ‘অপরাজিত’রও রেস্টোর্ড ভার্সন তৈরি হয়ে গিয়েছে। নিউ ইয়র্কে মুক্তিও পেয়েছিল ছবি তিনটির সেই রেস্টোর্ড ভার্সন, ২০১৫-র মে মাসে, উপলক্ষ ছিল ‘পথের পাঁচালী’-র ষাট বছর পূর্তি। উদ্বোধন করেছিলেন সন্দীপ রায়, বললেন ‘‘আগেও সেখানে অপু-ট্রিলজি এক সঙ্গে দেখানো হয়েছে, কিন্তু দ্য ক্রাইটেরিয়ান কালেকশন-এর রেস্টোর্ড ভার্সন দেখানো হল ২০১৫-তেই প্রথম। বিদেশিদের মধ্যে অভূতপূর্ব সাড়া পড়তে দেখেছিলাম।’’ এ বার কলকাতায় দেখানো হচ্ছে সেই রেস্টোর্ড ভার্সন, রবীন্দ্রসদনে ১১ নভেম্বর। আয়োজনে ফিল্ম হেরিটেজ ফাউন্ডেশন ও দ্য ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব ফিল্ম আর্কাইভস। সন্দীপ রায়ের সৌজন্যে প্রাপ্ত ‘অপুর সংসার’-এর শুটিংয়ের ছবিটিতে সত্যজিৎ, সুব্রত মিত্র, সৌমিত্র প্রমুখ।

শিল্পীর শতবর্ষ

পুরনো ঢাকার বাবুবাজার এলাকায় কালীবাড়ির পাশ দিয়ে চলে গিয়েছে জিন্দাবাহার লেন। এই রাস্তার শুরুতেই ছিল বিখ্যাত এক কবিরাজ পরিবারের বাড়ি, আর সেই পরিবারেই জন্ম শিল্পী পরিতোষ সেনের। তরুণ বয়সেই নিজের আঁকা ছবি ডাকযোগে পাঠিয়ে দেন মাদ্রাজে, দেবীপ্রসাদ রায়চৌধুরীর কাছে। দেবীপ্রসাদ তাঁকে ডেকে নিলেন মাদ্রাজ আর্ট স্কুলে। ঢাকা ছাড়লেও আজীবন তিনি শৈশবস্মৃতি লালন করেছেন, সে কথা লিখেছেন জিন্দাবাহার বইয়ে। পরে প্যারিসে শিল্পকলা অধ্যয়ন করেন, প্রশংসা পান খোদ পিকাসোর। ইউরোপীয় শিল্পকলার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ পরিচয়ে গড়ে তোলেন স্বকীয় শিল্পশৈলী। ক্যালকাটা গ্রুপের তিনি প্রতিষ্ঠাতা-সদস্য। শিক্ষকতা করেছেন যাদবপুরে স্কুল অব প্রিন্টিং টেকনোলজিতে। দেশবিদেশে তাঁর অনেক প্রদর্শনী হয়েছে, বহু বিশিষ্ট সংগ্রহে আছে তাঁর ছবি। শিল্পকলা নিয়ে লেখালিখিও করেছেন। ১৮ অক্টোবর ১৯১৮-য় তাঁর জন্ম, ২২ অক্টোবর ২০০৮-এ প্রয়াণ। মৃত্যুর আগে পর্যন্ত সক্রিয় ছিলেন শিল্পসৃজনে। বিশিষ্ট এই শিল্পীর জন্মশতবর্ষ পেরিয়ে গেল নিঃশব্দেই। ৩০ অক্টোবর সন্ধে ৬টায় বাংলা আকাদেমি সভাঘরে রাজ্য চারুকলা পর্ষদের আয়োজনে পরিতোষ সেন স্মারক বক্তৃতা— মনসিজ মজুমদার বলবেন ‘বর্ণময় শিল্পী-ব্যক্তিত্ব পরিতোষ সেন’ শীর্ষকে।

একনায়ক

একুশ শতকীয় ফ্যাসিবাদের অসমাপ্ত এলিজি এ বার নাটককার চন্দন সেনের কলমে। আমরা গত শতকের প্রথমার্ধকেই কেবল ফ্যাসিবাদের সময়কাল হিসেবে চিহ্নিত করি ইতিহাসের নিয়মে। অথচ তা ক্রমশই চারিয়ে যাচ্ছে এই নতুন শতকেও, নানা রঙে নানা চেহারায় বহু দেশেই এখন একনায়কতন্ত্রের কৌশলী কিংবা ছদ্মবেশী দখলদারি। কিন্তু কী ভাবে, সমকালীন প্রেক্ষিতে তারই সাহসী বিশ্লেষণ হ-য-ব-র-ল নাট্যগোষ্ঠীর নতুন প্রযোজনায়— ‘একনায়কের শেষ রাত’। ভয়ঙ্কর একনায়কের ভূমিকায় দেবশঙ্কর হালদার। হিরণ মিত্রের দৃশ্যপ্রকল্প ও আবহ-সৃজনে গৌতম ঘোষ। চন্দন সেনের নির্দেশনায় প্রথম অভিনয় মধুসূদন মঞ্চে ৩১ অক্টোবর সন্ধে সাড়ে ছ’টায়, পরবর্তী অভিনয় অ্যাকাডেমিতে ১৮ নভেম্বর সন্ধে সাড়ে ছ’টায়।

তথ্যচিত্র

বিখ্যাত পরিচালকদের ক্যামেরায় প্রখ্যাত সাহিত্যিক-কবিরা। ভারতীয় ভাষা পরিষদ হল-এ (থিয়েটার রোড) সাহিত্য অকাদেমি এবং ভারতীয় ভাষা পরিষদ আয়োজিত ‘তথ্যচিত্র উৎসব এবং বই বাজার’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে ২-৬ নভেম্বর, বিকেল ৩টে-সন্ধে ৭টা, দেখা যাবে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, নবনীতা দেব সেন, মহাশ্বেতা দেবী, অন্নদাশঙ্কর রায়, সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ, নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী, গুলজার, বুদ্ধদেব বসু, মনোজ দাস, নবকান্ত বরুয়া, রমাকান্ত রথ, কেদারনাথ সিংহের মতো বিশিষ্ট কবি-সাহিত্যিকদের জীবনকর্ম নিয়ে তথ্যচিত্র। পরিচালনায় সন্দীপ রায়, বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত, রাজা মিত্র, মেঘনা গুলজার যেমন আছেন, তেমনই উৎপলেন্দু চক্রবর্তী, প্রফুল্লকুমার মহান্তি, জয়দীপ মুখোপাধ্যায়, অলোক বন্দ্যোপাধ্যায়, কে বিক্রম সিংহ, অমিয় চট্টোপাধ্যায়, কে জি দাসও আছেন। উদ্বোধন করবেন নবনীতা দেব সেন।

ঋত্বিকচর্চা

তিনি তো কেবল দেশভাগের যন্ত্রণার ভাষ্যকার নন, দূরে কাছে যখনই ঘর ভাঙে, গ্রামপতনের শব্দ হয়, শ্রীলঙ্কায় কিংবা হাঙ্গেরিতে, তখন আমাদের ঋত্বিক ঘটকের শিল্পকর্ম মনে পড়ে, যা অনিকেত মানুষকে আবার ঠিকানা খুঁজে দেয়।— বলছিলেন চলচ্চিত্রবেত্তা সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়, ঋত্বিকচর্চার প্রসারে যাঁর প্রধান ভূমিকা। ঋত্বিক ঘটকের (৪ নভেম্বর ১৯২৫ - ৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৬) আসন্ন জন্মদিন উপলক্ষে তাঁর সৃষ্টি নিয়ে বলবেন সঞ্জয়। ৩ নভেম্বর সন্ধে সাড়ে পাঁচটায় জানুস-এ (১৮৭ পার্ক স্ট্রিট)। দেখানো হবে ঋত্বিকের দু’টি তথ্যচিত্র ‘রামকিঙ্কর’ ও ‘ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ’। অভিনীত হবে ওগলাম নাট্যগোষ্ঠীর ‘নীলকণ্ঠ: লং-শট, ক্লোজ়-আপ ও সাম্প্রতিক’। ওগলাম-এর সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে দৃশ্য ও কবিতার সোঁতা। এই উদ্যোক্তা ত্রয়ী আর চিত্রকূট আর্ট গ্যালারি আগের দিন ২ নভেম্বর সন্ধে ৬টায় বালিগঞ্জ ফাঁড়ি-লগ্ন গ্যালারিটিতে এক আড্ডার আয়োজন করেছে সঞ্জয়-রচিত বুনো স্ট্রবেরি ও কালীঘাট নিয়ে, লেখকই তাতে মূল আড্ডাধারী।

চিত্র-প্রদর্শনী

১৯৮৩। সদ্য ইতালি থেকে চিত্রকলা নিয়ে পাশ করে এসেছেন করুণা সাহা, ফ্রান্স থেকে শানু লাহিড়ী, সরকারি আর্ট কলেজ থেকে সন্তোষ রোহতগি, ইউরোপের চিত্রকলার সঙ্গে পরিচিত হয়ে এসেছেন শ্যামশ্রী বসু, স্বশিক্ষিত মীরা মুখোপাধ্যায়। এতৎসত্ত্বেও এঁরা কিন্তু প্রত্যেকেই ব্রাত্য হয়ে রইলেন শিল্পসমাজে। কারণ? ‘তাঁরা গার্হস্থ্য কাজ করবেন, শিল্পকলার কী বোঝেন?’— এই ছেঁদো যুক্তিতে। তাঁরাই গর্জে উঠে তৈরি করলেন ‘দ্য গ্রুপ’। সেই পাঁচ মহিলা শিল্পীর তৈরি সংস্থা আজ পনেরো জনের গোষ্ঠী। ৪ নভেম্বর তাঁদেরই ৩৫তম বার্ষিক প্রদর্শনী অ্যাকাডেমির দক্ষিণ গ্যালারিতে। উদ্বোধন করবেন সরকারি আর্ট কলেজের অধ্যক্ষ ছত্রপতি দত্ত। অন্য দিকে শিল্পী তপন করের মাধ্যম নির্বাচনটা বেশ অভিনব। তিনি প্রথম মাধ্যম হিসেবে কাজ করেছেন কাদামাটিতে। আবার সেই শিল্পকর্ম রাঙিয়েছেন ইটের টুকরো শিলে ঘষে পাওয়া লাল রঙে। কিংবা চুন, কাপড়ে দেওয়ার নীল বা দোয়াতের কালি দিয়েই। অনেক পরে কাজ করেছেন তেল মাধ্যম, মোম রং, জল রং, গালা ইত্যাদিতে। এ বার তাঁর ত্রয়োদশ একক চিত্রকলা প্রদর্শনীতে মোট দশ রকম মাধ্যমে করা ছবি প্রদর্শিত হবে। ৪ নভেম্বর সন্ধ্যা ৬টায় অ্যাকাডেমির পশ্চিম গ্যালারিতে।

দর্শনাগার

কালীঘাটের অন্যতম ব্যস্ত রাস্তা গুরুপদ হালদার স্ট্রিট। হালদাররা মা কালীর সেবায়েত পরিবার, কিন্তু গুরুপদ হালদারের খ্যাতি সে কারণে নয়। পণ্ডিত এই মানুষটির ব্যাকরণ দর্শনের ইতিহাস এখনও বিশ্ববিদ্যালয়-পাঠ্য, তাঁর বৈদ্যক-বৃত্তান্ত আকরগ্রন্থ হিসেবে স্বীকৃত। তাঁরই নামাঙ্কিত রাস্তায় তাঁর বিশাল বাসভবন ‘দর্শনাগার’ ছিল কলকাতার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্য। ভবনটির ভবিষ্যৎ নিয়ে আদালতে মামলা চলছিল, পুজোয় আদালত বন্ধের অবকাশে হঠাৎ ভেঙে ফেলা হল মূল বাড়ির অনেকটাই। হেরিটেজ কমিশন শেষ মুহূর্তে এগিয়ে এসেছে, তাতে কতটুকু কী বাঁচানো যাবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। ঐতিহ্য সংরক্ষণে প্রয়াসী নানা সংগঠনও সরব। কিন্তু এই ঘটনা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল, একদা প্রাসাদনগরী কলকাতার ঐতিহ্য রক্ষা আজও নিতান্ত শৈশবেই পড়ে আছে।

ষাটে পা

তুকারামকে নিয়ে সে দিনের সেই তরুণ কবি তাঁর যাত্রা শুরু করেছিলেন। তিনিও যে ব্যতিক্রমী হবেন এতে আর আশ্চর্য হওয়ার কী-ই বা আছে! ঋক্ষ-মেষ কথা-র মতো রূপকথার বাস্তব দিয়ে কবিজীবন শুরু করে অবশেষে— দ্বৈপায়ন হ্রদের ধারে। তিনি সুবোধ সরকার। ২৮ অক্টোবর ষাটে পা দিলেন। আর সেই জন্মদিনকে ঘিরে রবিবারের সকালে শিশির মঞ্চে হয়ে গেল এক মনোজ্ঞ অনুষ্ঠান, আয়োজনে প্রতিভাস। ছিলেন যোগেন চৌধুরী, শুভাপ্রসন্ন, ইন্দ্রনীল সেন, গৌতম ঘোষ, ব্রাত্য বসু প্রমুখ। প্রতিভাস প্রকাশ করল সুবোধ সরকারকে নিয়ে একটি সঙ্কলন না-কাটা হিরের দ্যুতি। দৃশ্যতই আপ্লুত সুবোধ জানালেন, ‘‘কবিতা লিখেছি তাই আমি একা নরকগামী। নরকগামী হতে হতেও বার বার খুঁজেছি ভাল জায়গাটা কোথায়।’’

শব্দচিত্র

শব্দের সঙ্গে শব্দ গেঁথে চিত্র ফুটে ওঠে কবিতায়। সে চিত্র অনুভবের। আবার শব্দ, বাক্য, কবিতা তুলি ও কালি দিয়ে সুন্দর ভাবে লেখা হলে তা-ও চিত্র হয়ে ওঠে, সে চিত্র চোখে দেখার। জাপানে এই শৈলীকে বলে ‘শোদো’, যার অর্থ ইংরেজিতে ‘ক্যালিগ্রাফি’র কাছাকাছি। নীলাঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায় জাপানের হাইকু বা ওয়াকা কবিতার ধারায় নিজের বাংলা কবিতা আর কবিতায় ব্যবহৃত শব্দ লিখতে চেয়েছেন ঘন কালো রং আর তুলি দিয়ে, জাপানি শৈলীতে। এই সব নিয়ে আজ, ২৯ অক্টোবর সন্ধে সাড়ে ছ’টায় মায়া আর্ট স্পেস-এ উদ্বোধন হবে তাঁর একক প্রদর্শনী। প্রকাশিত হবে কবিতার ইংরেজি অনুবাদ-সহ বই একটা কিছু হারিয়েছিল। প্রদর্শনী ৬ নভেম্বর পর্যন্ত।

শ্যামাসঙ্গীত

তাঁর প্রথম শটটাই ছিল আউটডোর। গরুমহিষানি-তে। পাহাড়ের ঢাল বেয়ে দৌড়তে দৌড়তে একটা টিলায় পা রেখে সূর্যের দিকে তাকিয়ে গাইতে হবে, ‘সূয্যিমামা কেমন আছো’। প্রথম শটেই ‘ওকে’। সেটা ১৯৬৬। সলিল দত্তের এই ‘প্রস্তরস্বাক্ষর’ ছবিতে তিনি ছিলেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের ছোটবেলার চরিত্রে। আর ‘হংসরাজ’ তাঁর ষোড়শ ছবি। অরিন্দম গঙ্গোপাধ্যায়ের বাহান্ন বছরের অভিনয় জীবনে ‘হংসরাজ’ আর ‘সাধক বামাক্ষ্যাপা’ নিঃসন্দেহে স্মরণীয়। ‘সাধক বামাক্ষ্যাপা’ তো এক রেকর্ড সৃষ্টিকারী বাংলা ধারাবাহিক। অভিনেতা-গায়ক অরিন্দমের কণ্ঠে এই ধারাবাহিকে ব্যবহৃত বহু শ্যামাসঙ্গীতের মধ্যে দশটি গান নিয়ে ২৯ অক্টোবর গোলপার্কের রামকৃষ্ণ মিশনের শিবানন্দ প্রেক্ষাগৃহে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় প্রকাশ করবেন ‘জয় তারা’ অ্যালবামটি (ভাবনা)।

নবারুণ

আজও ‘সাবভার্সন’ শব্দটার সুপ্রযুক্ত বাংলা প্রতিশব্দ নেই। কিন্তু বাংলায় নবারুণ ভট্টাচার্য ছিলেন, তাই এত দিন তার দরকার পড়েনি, বললে মনে হয় অত্যুক্তি হবে না। নন্দিত ও নিন্দিত মানুষটি পলিটিক্যাল কারেক্টনেসকে পাত্তা দিতেন না, তাঁর দর্শনে এবং কলমে মানুষ মানুষই, অতিমানুষ বা অবমানব কোনওটাই নয়। স্বকীয় কমিউনিস্ট অবস্থান থেকে বলতেন কমিউনিস্টদের কথা একটু নুন দিয়ে খেতে হয়, সেই মানুষটাই আবার রাতে অপেক্ষায় থাকতেন গতায়ু এক প্রিয় বন্ধুর। ভাষে ও আভাসে অপ্রতিদ্বন্দ্বী নবারুণের সৃষ্টি মঞ্চে, ছবিতে এসেছে বার বার। এ বার কলকাতার নাট্যদল গোত্রহীন (দমদম) আয়োজন করেছে তাঁরই নামে তিন দিন ব্যাপী ‘সংস্কৃতি কার্নিভাল’। ২-৪ নভেম্বর পাইকপাড়ার মোহিত মৈত্র মঞ্চে নাটক, সিনেমা, কবিতা, বই, আড্ডা, সব কিছুর উৎস ও অনুপ্রেরণা তিনিই। সমস্বরে নবারুণের কবিতা-বলার সঙ্গে মশাল জ্বালিয়ে উৎসবের শুরু, তিন দিনে থাকছে পাঁচটি নাট্যপ্রযোজনা— ‘পৃথিবীর শেষ কমিউনিস্ট’, ‘ফ্যাতাড়ুর কিস্‌সা টু পয়েন্ট জ়িরো’, ‘আংশিক চন্দ্রগ্রহণ’, ‘অটো’ ও ‘বেবি কে’। ৪ নভেম্বর ঋত্বিক ঘটকের জন্মদিন, গোত্রহীন-এরও, উৎসবমঞ্চে দ্বৈত উদ্‌যাপনের পর নবারুণের লেখালিখি নিয়ে আড্ডা ‘চালাও হুজ্জুত!’, সুমন মুখোপাধ্যায় ও কৌশিক করের সঙ্গে থাকবেন গোত্রহীন (দমদম)-এর সুপ্রতিম রায়। দেখানো হবে চলচ্চিত্র-নির্মাতা কিউ-এর তথ্যচিত্র ‘নবারুণ’। থাকছে ‘ভাষাবন্ধন’-এর স্টল, নবারুণ ও প্রণতি ভট্টাচার্যকে নিয়ে পোস্টার প্রদর্শনীও। প্রকাশিত হবে একটি সচিত্র পুস্তিকাও।

Korcha Kolkata কলকাতার কড়চা Apur Sangsar Satyajit Ray
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy