যে কোনও ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করলেই পার্কের পরিবেশগত ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। তাই যে কোনও অনুষ্ঠানে পার্ক ভাড়া দেওয়া যাবে না। সম্প্রতি একটি মামলায় দিল্লির ক্ষেত্রে এমনই নির্দেশ দিয়েছে জাতীয় পরিবেশ আদালত।
ফলে তিনটি পুরশাসিত অঞ্চলের অধীন দিল্লির রামলীলা ময়দান-সহ ১২৯টি পার্কে যাবতীয় অনুষ্ঠানের জন্য বুকিং বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যদিও পরিবেশ আদালতের রায়কে চ্যালেঞ্জ করা যায় কি না, আপাতত সেই পথ খুঁজছেন ওই তিন পুর কর্তৃপক্ষ।
সেই সূত্রেই কলকাতার পরিবেশকর্মীদের একাংশ শহরে পার্ক ভাড়ার প্রসঙ্গটি তুলে এনেছেন। তাঁদের বক্তব্য, বিভিন্ন অনুষ্ঠানের জন্য কলকাতাতেও অনেক পার্ক ভাড়া দেওয়া হয়। বিশেষ করে দেশপ্রিয় পার্ক, যতীন দাস পার্ক ও ট্র্যাঙ্গুলার পার্ক বছরে একাধিক বার ভাড়া দেওয়া হয়। ফলে সেখানকার পরিবেশেরও ক্ষতি হয়। তা যাতে না হয়, সেটা পুর কর্তৃপক্ষের নিশ্চিত করা উচিত। এক পরিবেশকর্মীর কথায়, ‘‘পার্কের সৌন্দর্যায়ন করলাম, আবার সেখানে অনুষ্ঠানের জন্য ভাড়াও দিলাম— উন্নয়ন আর ক্ষতি দুটো একসঙ্গে চলতে পারে না।’’ আরও এক পরিবেশকর্মীর বক্তব্য, ‘‘এ শহরে যেটুকু সবুজ রয়েছে, তার অনেকটা পুর পার্কগুলিই ধরে রেখেছে। সেটাও যদি রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক অথবা বিভিন্ন অনুষ্ঠানের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তা হলে লাভ কী?’’
কলকাতা পুর কর্তৃপক্ষের দাবি, সব ক’টি নয়, শহরের কয়েকটি পার্কই অনুষ্ঠানের জন্য ভাড়া দেওয়া হয়। তা-ও নিয়মিত নয়। এক পুরকর্তার কথায়, ‘‘ভাড়া দেওয়া বাবদ পুরসভার বার্ষিক ৩০-৪০ লক্ষ টাকা আয়ও হয়।’’ কলকাতা পুর প্রশাসকমণ্ডলীর সদস্য দেবাশিস কুমার জানাচ্ছেন, কলকাতার ক্ষেত্রে তো এখনও এই নির্দেশ আসেনি। তাঁর কথায়, ‘‘তা ছাড়া শহরে খোলা জায়গা বলতে পার্কগুলিই রয়েছে, যেখানে অনুষ্ঠান হয়ে থাকে। দিল্লির মতো এখানেও যদি তা বন্ধের নির্দেশ দেয় জাতীয় পরিবেশ আদালত, সেটাই মানা হবে। মানুষ বাকিটা বিচার করবেন।’’