Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২৪ অক্টোবর ২০২১ ই-পেপার

কবিতার পাঠযোগ্যতার নির্ণায়ক শ্রোতারাই

নিজস্ব সংবাদদাতা
০৪ মে ২০১৮ ০২:৪৫
কবিতার জন্য: দেশ পত্রিকা আয়োজিত আলোচনাসভায় ব্রততী বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শ্রীজাত। পার্ক স্ট্রিটে, বৃহস্পতিবার। নিজস্ব চিত্র

কবিতার জন্য: দেশ পত্রিকা আয়োজিত আলোচনাসভায় ব্রততী বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শ্রীজাত। পার্ক স্ট্রিটে, বৃহস্পতিবার। নিজস্ব চিত্র

অতঃপর উপসংহার হোক— ‘সব কবিতাই আবৃত্তিযোগ্য এবং কোনও কবিতাই আবৃত্তিযোগ্য নয়।’

দেশ পত্রিকা আয়োজিত আলোচনাচক্র খানিক এই মর্মেই শেষ করলেন শ্রীজাত এবং ব্রততী বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার, পার্ক স্ট্রিট অঞ্চলের এক বই বিপণিতে।

আসলে এমন উপসংহারই তো হওয়ার কথা ছিল! যেখানে আলোচনার বিষয় ‘সব কবিতা আবৃত্তিযোগ্য নয়’! বস্তুত, আলোচনাচক্রের পরিসরও ছিল অভিনব। ফেসবুক লাইভে আলোচনাসভা পৌঁছে গিয়েছিল অসংখ্য দর্শকের সামনে। কেবল দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না দর্শকেরা, বাংলাদেশ থেকেও কবিতা-অনুরাগী প্রশ্ন পাঠিয়েছেন আলোচকদের কাছে। ভার্চুয়াল আলোচনাসভায় প্রশ্ন নিয়ে অংশ নিয়েছিলেন দর্শকেরাও। এবং স্বাভাবিক ভাবেই সেখানে ঘুরে-ফিরে এসেছে সেই বহু আলোচিত প্রশ্ন, অনেক আলোচনাতেও যার উত্তর পাওয়া যায় না। কোনও কোনও কবিতা কি একান্তই ব্যক্তিগত নয়? আবৃত্তিকার মঞ্চে দাঁড়িয়ে আদৌ কি ভাগ করে নিতে পারেন জীবনানন্দের অতলান্ত কাব্য-গভীরতা?

Advertisement

পারেন, জানালেন শ্রীজাত। বললেন, ব্রততীর কণ্ঠই তার প্রমাণ। আর ব্রততী শোনালেন কবিতার অন্দর আর বাহিরের গল্প। শঙ্খ ঘোষকে উদ্ধৃত করে শোনালেন, ‘বাইরের দিকে মুখ করে রাখা’ আর ‘ভেতরে রক্তক্ষরণে’র কবিতার তফাত। জীবনানন্দ আবৃত্তি করে বোঝালেন, কী ভাবে রক্তক্ষরণের কবিতাও সকলের হয়ে ওঠে পাঠের গভীর এবং নিরন্তর ব্যাখ্যায়। শ্রীজাত এবং ব্রততী একই কবিতা পাশাপাশি আবৃত্তি করে বোঝালেন কবিতার ভিন্ন ভিন্ন পাঠ।

সভায় কবি শোনালেন নিজের কবিতা অন্যের মুখে শোনার অনুভূতি। তা যেন ক্যালাইডোস্কোপের মতো। কাচের টুকরোর মতোই অনুভূতিগুলো বদলাতে থাকে। নিজের সৃষ্টির ভিন্ন ব্যাখ্যা পাওয়া যায়। কবিও হয়ে ওঠেন নিজের কবিতার পাঠক ও শ্রোতা।

আসলে সব কবিতাই আবৃত্তিযোগ্য। যদি শ্রোতা তার মর্ম ছুঁতে পারেন। ঠিক যেমন অযোগ্য শ্রোতার কাছে কোনও কবিতাই পাঠযোগ্য নয়!

আরও পড়ুন

Advertisement