Advertisement
E-Paper

মহেশতলায় আছেটা কী শোভনের? ভোটের মুখে জেলা সভাপতির বিরুদ্ধে তোপ প্রার্থী শ্বশুরের

উপনির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থীর মূল চ্যালেঞ্জার হওয়ার কথা বিজেপি বা সিপিএমের। কিন্তু গোলপার্কে অভিজাত আবাসনের ফুটপাথে রত্না চট্টোপাধ্যায়কে ঘিরে শোভন অনুগামীদের বিক্ষোভের আঁচটা যেন দাবানলের মতো পৌঁছে গিয়েছে মহেশতলায়।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৫ মে ২০১৮ ১৮:৩৭
গ্রাফিক: শৌভিক দেবনাথ।

গ্রাফিক: শৌভিক দেবনাথ।

এক জন দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা তৃণমূলের সভাপতি। তথা জামাই। অন্য জন জেলা তৃণমূলের গুরুত্বপূর্ণ নেতা এবং মহেশতলা বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী। তথা শ্বশুর।

উপনির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থীর মূল চ্যালেঞ্জার হওয়ার কথা বিজেপি বা সিপিএমের। কিন্তু গোলপার্কে অভিজাত আবাসনের ফুটপাথে রত্না চট্টোপাধ্যায়কে ঘিরে শোভন অনুগামীদের বিক্ষোভের আঁচটা যেন দাবানলের মতো পৌঁছে গিয়েছে মহেশতলায়। ‘‘আমার এলাকায় ওই বিক্ষোভ করার ক্ষমতা শোভন চট্টোপাধ্যায়ের হবে না।’’ ভোটের মাত্র কয়েক দিন আগে নিজের দলের জেলা সভাপতির প্রতি এমনই চ্যালেঞ্জের সুর মহেশতলার তৃণমূল প্রার্থী দুলাল দাসের গলায়।

ভোটের প্রস্তুতি তুঙ্গে, প্রচারাভিযান একেবারে শেষ পর্যায়ে। দীর্ঘ দিন ধরেই ৩৫ ওয়ার্ডের বিশাল পুর এলাকার দেখভাল তাঁরই হাতে। তবে এ বার তিনি পুর নির্বাচনের প্রার্থী নন। মহেশতলা পুরসভার চেয়ারম্যান দুলাল দাস এ বার মহেশতলা বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী।

মহেশতলা পুরসভার সবক’টা ওয়ার্ড মহেশতলা বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে পড়ে না। ৮ নম্বর আর ১১ থেকে ৩৫ নম্বর— এই ২৬টি ওয়ার্ড নিয়ে মহেশতলা বিধানসভা কেন্দ্র। এলাকার গলি-তস্য গলিও হাতের তালুর মতো চেনা দুলাল দাসের। ঘরে ঘরে পৌঁছে গিয়ে ভোটটা চেয়ে এসেছেন ইতিমধ্যেই। কিন্তু দলের জেলা সভাপতি তথা কলকাতার মেয়র তথা রাজ্যের মন্ত্রী শোভন চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে শ্বশুর দুলাল দাসের সম্পর্কটা ইদানীং মোটেই ভাল যাচ্ছে না। সম্পর্কের এই অবনতি রাজনৈতিক কারণে নয়, একেবারেই পারিবারিক। কিন্তু রাজনৈতিক নেতাদের পারিবারিক অশান্তিও পরিবারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। অতএব মহেশতলার তৃণমূল কর্মীদের একাংশের মধ্যেই প্রশ্ন— ‘কাননদা (শোভন) আর রত্নাদির ঝামেলা যে জায়গায় পৌঁছেছে, তাতে পার্টিটারও ক্ষতি হচ্ছে না কি?’

কী রকম ক্ষতি? শোভন চট্টোপাধ্যায় এবং তাঁর স্ত্রীয়ের মধ্যে গোলমাল হলে তৃণমূলের ক্ষতি হবে কী ভাবে? মহেশতলারই এক প্রবীণ বাসিন্দা এ প্রশ্নে বিস্মিত হন- ‘‘দলের ক্ষতি হয় না! ভাবমূর্তি ঘা খায় না!’’

শোভন-রত্নার গোলমাল বেশ কয়েক মাস ধরেই প্রকাশ্যে এসে পড়েছে। খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিরক্তি প্রকাশ করেছেন তা নিয়ে। তাতেও বদলায়নি পরিস্থিতি। বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা থেকে বিন্দুমাত্র পিছু হঠতে রাজি নন শোভন। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে দক্ষিণ কলকাতার গোলপার্ক এলাকায় শোভন চট্টোপাধ্যায়ের আবাসনের সামনের ফুটপাথে ধর্নায় বসেন শোভনের স্ত্রী রত্না। মেয়ের ভিসার জন্য আবেদনপত্রে সই চাই বাবা শোভনের। রত্নার অভিযোগ, সব শর্ত পূরণ করা সত্ত্বেও শোভন সই করছেন না। তাই তিনি ফুটপাথে ধর্নায় বসতে বাধ্য হয়েছেন। শোভনের পাল্টা অভিযোগ, ভিসার আবেদনপত্রে ভুল তথ্য দেওয়া হচ্ছে, সেই আবেদনপত্রেই তাঁকে সই করতে বলা হচ্ছে।

শোভনের বাড়ির সামনে তখনও ধর্নায় রত্না। —নিজস্ব চিত্র।

শুক্রবার বেলা পর্যন্ত গড়িয়েছে টানাপড়েন। শোভনের অভিযোগের ভিত্তিতে রবীন্দ্র সরোবর থানা গ্রেফতার করে রত্নাকে। পরে রত্না চট্টোপাধ্যায়ের জামিনও হয়। তার মাঝেই গোলপার্কে রত্না চট্টোপাধ্যায়কে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান কয়েকশো শোভন অনুগামী।

আরও পড়ুন: সাইকেলের পিছনে ছুটে হেনস্থাকারীকে ধরলেন কলেজপড়ুয়া তরুণী

গোটা ঘটনাপ্রবাহের আঁচ মহেশতলায় না পৌঁছনোই অস্বাভাবিক। শোভনের নির্বাচনী ক্ষেত্র বেহালা পূর্ব এবং দুলাল দাসের মহেশতলা লাগোয়া। অর্থাৎ প্রায় একই এলাকায় রাজনীতি শ্বশুর-জামাইয়ের। রত্না-শোভনের গোলমাল থেকে যে দুলাল দূরে থেকেছেন, তেমনও নয়। মেয়ের পাশে দাঁড়িয়ে জামাইয়ের বিরুদ্ধে অনেক কথাই বলেছেন তিনি। তার পরে আবার এই পরিস্থিতি— ভোট প্রচার যখন শেষ পর্বে, তখন মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত শোভনের বাড়ির সামনে ধর্নায় রত্না

হতে পারে মহেশতলা দুলাল দাসের নিজের এলাকা। হতে পারে এত দিন ওই কেন্দ্রের বিধায়ক ছিলেন দুলাল দাসেরই স্ত্রী কস্তুরী দাস (যাঁর মৃত্যুতে উপনির্বাচন)। তা বলে কি জেলা সভাপতি শোভনের কোনও প্রভাব নেই মহেশতলায়? এলাকার শোভন অনুগামীরা কি দুলাল দাসের উপর খুশি?

আরও পড়ুন: গড়িয়ায় ট্যারেন্টুলা! কামড় খেয়ে হাসপাতালে গৃহবধূ

তৃণমূল প্রার্থী নস্যাৎ করে দিলেন সব প্রশ্ন। বললেন, ‘‘কিছুই যায়-আসে না। শোভন চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে আমার মেয়ের সম্পর্ক কোন পথে গড়াচ্ছে, তার সঙ্গে ভোটের কোনও সম্পর্ক নেই।’’ কিন্তু রত্না চট্টোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করা হল। থানা-পুলিশ, উকিল-মোক্তার— নির্বাচনী প্রচার থামিয়ে সে সব ঝক্কি তো নিশ্চয়ই পোহাতে হল দুলাল দাসকে? ‘‘শুনুন, আমার মেয়ে স্বয়ংসম্পূর্ণ। কারও সাহায্যের প্রয়োজন ওর হয় না। ও নিজের লড়াই নিজেই লড়তে পারে। থানা-পুলিশ-উকিল নিয়ে আমাকে কিছুই করতে হয়নি। ও নিজেই ব্যবস্থা করে নিয়েছে।’’ বললেন দুলালবাবু।

কিন্তু শোভন চট্টোপাধ্যায়ের অনুগামীরা যে ভাবে বিক্ষোভ করলেন রত্নাকে ঘিরে, তার আঁচ কি ভোটে পড়বে? রত্নার বাবা হওয়ার কারণে শোভন অনুগামীরা কি মহেশতলায় দুলাল দাসের বিরুদ্ধে চলে যাবেন? এ বার আরও বেপরোয়া জবাব দুলালের। বললেন, ‘‘আমার এখানে শোভন চট্টোপাধ্যায়ের আছেটা কী? এখানে ওঁর লোক আবার কে! রত্না যেখানে ধর্নায় বসেছিল, সেটা শোভনের এলাকা। তাই বিক্ষোভ করতে পেরেছে। মহেশতলায় সে রকম কিছু করার ক্ষমতা ওঁর নেই।’’

Sovan Chatterjee Ratna Chatterjee Dulal Das Maheshtala
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy