Advertisement
E-Paper

কলকাতা পুলিশ এবং সিপিএমের ৪৫ মিনিটের স্নায়ুযুদ্ধ! শেষমেশ বিবাদী বাগে স্বাক্ষরিত হল ইন্দিরা এবং সেলিমের ‘ভদ্রলোকের চুক্তি’

এক দিকে কলকাতা পুলিশের ডিসি (সেন্ট্রাল) ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়, অন্য দিকে, সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। দু’জন মুখোমুখি হলেন না, কিন্তু তাঁদের মধ্যে বার্তা আদানপ্রদান করলেন দুই তরফের দূত।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৪ মার্চ ২০২৬ ২৩:৩২
(বাঁ দিকে) ডিসি সেন্ট্রাল ইন্দিরা মুখোপাধ্য়ায় এবং সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম (ডান দিকে)।

(বাঁ দিকে) ডিসি সেন্ট্রাল ইন্দিরা মুখোপাধ্য়ায় এবং সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম (ডান দিকে)। — নিজস্ব চিত্র।

কলকাতা পুলিশ এবং সিপিএম নেতৃত্বের মধ্যে মত বিনিময় হল ‘দূত’ পাঠিয়ে। দীর্ঘক্ষণ স্নায়ুযুদ্ধ চলার পরে দু’পক্ষের মধ্যেই হল সমঝোতা। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকের দফতরের সামনে বামেদের অবস্থান নিয়ে হয়ে গেল ‘ভদ্রলোকের চুক্তি’। বুধবার ‘ঐতিহাসিক’ চুক্তির সাক্ষী থাকল বিবাদী বাগের রাস্তা।

দিনক্ষণ ঘোষণা না হলেও নির্বাচনের বেশি দেরি নেই। এখনও ৬০ লক্ষ জনের নাম ‘বিবেচনাধীন’। বামেদের দাবি আগে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করতে হবে। এই দাবিতেই মিছিল করে আসার পরে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরের সামনে অবস্থান শুরু করেছিল সিপিএম-সহ বামদলগুলি। বৃহস্পতিবার সেখানেই হবে সমাবেশ। কিন্তু বামেদের অবস্থানের স্থান নিয়ে বুধবার রাত ৯টা থেকে ৯টা ৪৫ পর্যন্ত সিপিএম ও পুলিশের মধ্যে চলল স্নায়ুযুদ্ধ। এক দিকে কলকাতা পুলিশের ডিসি (সেন্ট্রাল) ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়, অন্য দিকে, সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। দু’জন মুখোমুখি হলেন না, কিন্তু তাঁদের মধ্যে বার্তা আদানপ্রদান করলেন দুই তরফের দূত।

‘বাম দূত’- এর সঙ্গে কথা বলছেন ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়।

‘বাম দূত’- এর সঙ্গে কথা বলছেন ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়। — নিজস্ব চিত্র।

রাত ৯টা নাগাদ ইন্দিরার নেতৃত্বে বামেদের অবস্থানস্থলের সামনে আসে বিশাল পুলিশ বাহিনী। সঙ্গে বাস ও প্রিজ়ন ভ্যান। এর পর বাম নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ করে পুলিশ। জানানো হয়, শহরের অন্যতম ব্যস্ত রাস্তার পুরোটা দখল করে অবস্থান করা যাবে না। অবস্থানের জায়গা সংকুচিত করতে হবে। পুলিশের তরফে বার্তা ছিল, ছোট গাড়ি চলাচলের জন্য একটি লেন ছেড়ে দিয়ে অপর লেনে অবস্থান কর্মসূচি চালানোর।

 ‘পুলিশ দূত’-এর সঙ্গে কথা বলছেন মহম্মদ সেলিম।

‘পুলিশ দূত’-এর সঙ্গে কথা বলছেন মহম্মদ সেলিম। — নিজস্ব চিত্র।

রাত ৯টা ২০ নাগাদ বামেদের ‘দূত’ তরুণ বন্দ্যোপাধ্যায় ইন্দিরার কাছে এসে জানান, রাতে পুরো লেন জুড়েই অবস্থান চলবে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে একটি লেন ছেড়ে দেওয়া হবে। তা শুনে ডিসি ইন্দিরা বলেন, ‘‘পুলিশ অন্যায্য কথা বলছে না। জোর করে বামেদের তুলেও দিচ্ছে না। তাই সহযোগিতা করা উচিত।’’ তারপরে তিনি বাম নেতা তরুণের সঙ্গে এক পুলিশকে ‘দূত’ হিসাবে সেলিমের সঙ্গে কথা বলার জন্য পাঠান। পুলিশের কথা শুনে সেলিমের বার্তা, আগে বাস ও প্রিজ়ন ভ্যান সরাতে হবে। তিনি বলেন, ‘‘মনে হচ্ছে যেন আপনারা আমাদের ভয় দেখাতে চাইছেন।’’ জানান, বাস ও প্রিজ়ন ভ্যান সরিয়ে নেওয়ার পরে অবস্থান কর্মসূচির স্থান সংকুচিত করার বিষয়ে ভাবনাচিন্তা করা হবে। সেই ‘বার্তা’ নিয়ে ‘পুলিশের দূত’ ফিরে আসেন ইন্দিরার কাছে। সব শুনে ডিসি পুলিশকে নির্দেশ দেন, বাস ও প্রিজ়ন ভ্যান সরিয়ে দেওয়ার। সেই বার্তা পুলিসের তরফে সেলিমের কাছে যাওয়ার পরে সেলিম জানান, বৈঠক করার পরে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

কিছুক্ষণের মধ্যেই রাস্তার ধারেই বসে বামদলের বর্ধিত সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠক। সেলিম-সহ ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন অনাদি সাহু, শ্রীদীপ ভট্টাচার্য, কল্লোল মজুমদার প্রমুখ। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, পুলিশের বক্তব্য অযৌক্তিক নয়। তবে পথ-সহ সমস্ত রকমের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুলিশকে সুনিশ্চিত করতে হবে। বামেদের তরফে পুলিশকে সেই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। তার পরে উদ্যোগী হয়ে পুলিশ ব্যারিকেড সরিয়ে দেয়। খুলে দেওয়া হয় রাস্তার এক দিক। বিবাদী বাগের রাস্তার দুই লেনের এক দিকে চলাচল করতে শুরু করেছে ছোট গাড়ি। একই সময়ে অন্য দিকে চলছে অবস্থান কর্মসূচি।

বুধবার ইন্দিরা ও সেলিম মুখোমুখি না হলেও পুলিশ ও বামেদের তরফে দু’জনেই দূত পাঠিয়ে সেরে ফেললেন ‘ভদ্রলোকের চুক্তি’।

Indira Mukherjee Mohammed Selim SIR Election Commission
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy