Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১ ই-পেপার

কলকাতার কড়চা: ব্রাত্যজনের নাট্য আয়োজন

২৮ মে ২০১৮ ০০:০০

আমাদের যখন কমবয়স ছিল তখন যে সুযোগটা পাইনি, সে সুযোগটাই এখনকার কমবয়সিদের কাছে এনে দেওয়ার চেষ্টা করছি।’’ বলছিলেন ব্রাত্য বসু, কালিন্দী ব্রাত্যজন-এর কর্ণধার, তাঁদের ‘সপ্তম আন্তর্জাতিক নাট্য আয়োজন’ সম্পর্কে। ‘‘ফেলে-আসা বয়সটায় আমরা কী ভীষণ আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে থাকতাম নাটকের সঙ্গে, দেশের বাইরে সারা দুনিয়া জুড়ে থিয়েটারে যে সমস্ত কাণ্ড ঘটে যাচ্ছে তার খবরও রাখতাম প্রতিনিয়ত, কিন্তু দেখতে পেতাম না। নাটকের মঞ্চরূপ না দেখতে পেলে, থিয়েটারের যে নিজস্ব ভাষা তা শিখব কেমন করে। আমাদের থিয়েটারের তো এটাই সব চেয়ে বড় সমস্যা। অন্য দিকে আন্তর্জাতিক পরিসরের সিনেমা কত সহজে আমাদের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে, লাগাতার ফেস্টিভ্যাল তো বটেই, এমনকী ইন্টারনেটের মাধ্যমেও। এ সুযোগটা থিয়েটার-কর্মীদের কাছে আসে না। অতএব আমাদের এই আন্তর্জাতিক আয়োজন যদি নাট্যকর্মীদের কাছে গোটা পৃথিবীর বিভিন্ন নাট্যনির্মাণের প্যাটার্নগুলি পৌঁছে দিতে পারে, তবেই আমাদের অভিপ্রায় সার্থক।’’ ব্রাত্যর কথার সূত্রেই জানা গেল যে এ বারের নাট্যায়োজনে রাশিয়া, ইতালি, মিশর, আলজেরিয়া, টিউনিশিয়ার নাটক দেখতে পাবেন এ শহরের দর্শক। এ সব নাটকে নাট্যভাষার নতুন নতুন নিরীক্ষা, বিষয়বস্তু বা আঙ্গিক নিয়ে বিবিধ প্রকার ভাঙচুর, যেমন মিশরের সেন্টার ফর আর্টিস্টিক ক্রিয়েটিভিটি-র প্রযোজনা ‘ফ্ল্যাশব্যাক’-এ (সঙ্গে তারই একটি দৃশ্য) নির্দেশক মহম্মদ হাবিব শেক্সপিয়রের ‘রোমিয়ো জুলিয়েট’-এর বিনির্মাণ করেছেন। বিদেশি এই বিশিষ্ট জনেদের উপস্থিতিতে ২৯ মে বিকেল সাড়ে ৫টায় অ্যাকাডেমিতে নাট্য আয়োজনের উদ্বোধন করবেন মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। সমাপ্তি ৩ জুন, সে অনুষ্ঠানে এ বঙ্গের নবীন নাট্যশিল্পীদের সংবর্ধনা। ছ’দিন ব্যাপী এই আয়োজনে আছে এখানকার নাট্যপ্রযোজনাও। ২ জুন সকাল সাড়ে ১০টায় ‘বিষ্ণু বসু স্মারক বক্তৃতা’ দেবেন মেঘনাদ ভট্টাচার্য, অভিনেতা ও নির্দেশকের সম্পর্ক নিয়ে। ‘‘কেন্দ্রীয় সরকারের কোনও রকম সাহায্য ছাড়াই এ আয়োজন।’’ খেয়াল করিয়ে দিলেন ব্রাত্য।

চলচ্চিত্রে রবীন্দ্রনাথ

Advertisement



‘‘কিশোরকুমারের গানের ভক্ত ছিলেন বাবা, তা ছাড়া ওঁর সঙ্গে আমাদের পারিবারিক যোগাযোগও ছিল। ‘চারুলতা’য় যখন ঠিক করলেন বাবা যে ওঁকে দিয়ে রবীন্দ্রনাথের গান গাওয়াবেন, রীতিমতো উল্লসিত হয়েছিলেন উনি। বাবা চেয়েছিলেন রবীন্দ্রসঙ্গীতের ঘরানার বাইরে একেবারে নতুন তরতাজা গলায় ‘আমি চিনি গো চিনি’ গাওয়াতে, বম্বে গিয়ে কিশোরকুমারের গান রেকর্ডিং করিয়ে এনেছিলেন।’’ সঙ্গে সত্যজিৎ ও কিশোরের ছবিটি প্রসঙ্গে বলছিলেন সন্দীপ রায়। সত্যজিৎ-ঋত্বিক-মৃণাল ছাড়াও তপন সিংহ তরুণ মজুমদার অজয় কর... এ রকম বহু বিশিষ্ট বাঙালি পরিচালকের ছবিতে রবীন্দ্রগানের ব্যবহার আজও স্মৃতিধার্য। সেই স্মৃতিই বলবেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, যিনি অজস্র ছবিতে রবীন্দ্রগানে লিপ দিয়েছেন। আর কথকের ভূমিকায় সতীনাথ মুখোপাধ্যায়। গানগুলি গাইবেন শ্রীকান্ত আচার্য শ্রাবণী সেন প্রমুখ। হৃষীকেশ মুখোপাধ্যায়, বাসু চট্টোপাধ্যায় তাঁদের হিন্দি ছবিতে রবীন্দ্রগানের প্রভাবে সুরারোপিত যে সব গান কিশোরকুমারকে দিয়ে গাইয়েছিলেন, সেগুলি এখানে গাইবেন সপ্তক ভট্টাচার্য। আজ সন্ধে সাড়ে ৬টায় জি ডি বিড়লা সভাঘরে অনুষ্ঠানটি: ‘চলচ্চিত্রে রবীন্দ্রনাথ’। উদ্যোক্তা রেডিয়াস-এর রবীন্দ্র-শ্রদ্ধার্ঘ্য।

পঞ্চকবির কন্যা



পড়াশোনায় তিনি বরাবরই তুখড়। উচ্চ মাধ্যমিকে মেয়েদের মধ্যে প্রথম হয়ে ইতিহাস নিয়ে ভর্তি হন লেডি ব্রেবোর্ন কলেজে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমএ ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায় ওরফে ‘পঞ্চকবির কন্যা’-র কলেজে অধ্যাপনা দিয়ে কর্মজীবন শুরু। ২০১১-তে ‘পঞ্চকবির গান’ নামে নিজস্ব ধারা তৈরি করেন। এক সঙ্গে পাঁচ কবি— রবীন্দ্রনাথ, দ্বিজেন্দ্রলাল, রজনীকান্ত, অতুলপ্রসাদ, নজরুলকে নিয়ে শুরু করেন এক অসামান্য কাজ। গানের টানে ছেড়ে দিলেন কলেজের চাকরি। এ যাবৎ তাঁর প্রায় ২০টি অ্যালবাম প্রকাশিত। রচনা করেছেন প্রামাণ্য গ্রন্থ রজনীকান্ত। সোনাগাছির ছেলেমেয়েদের নিয়ে প্রচুর কাজ করেছেন, করছেনও। এ বার এই শিল্পীরই সঙ্গীত জীবনের কুড়ি বছর পূর্তি উপলক্ষে ২৯ মে সন্ধে সাড়ে ৬টায় আইসিসিআর-এ এক অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়েছে। অনুষ্ঠানের প্রথমার্ধে শিল্পী গাইবেন ‘পঞ্চকবির গান’, দ্বিতীয়ার্ধে ‘অভিনেত্রী কথা’ বা ‘Songstress’। থাকবেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, নবনীতা দেব সেন, শুভাপ্রসন্ন, গৌতম ঘোষ, দেবজিত্ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ।

তাৎপর্য

আন্তর্জাতিক সংগ্রহালয় দিবস কি শুধু ‘কী করা উচিত’ তা নিয়ে আলোচনায় বা উৎসবে পালনীয়, না নতুন কর্মোদ্যোগের সূচনা? সারা বিশ্বের সংগ্রহশালায় ১৮ মে দিনটি বিশেষ তাৎপর্যের। রাজ্য সরকারের প্রত্নতত্ত্ব ও সংগ্রহালয় অধিকারের উদ্যোগে বেহালার রাজ্য সংগ্রহশালা ভবনে প্রাসঙ্গিক বক্তৃতা ও নৃত্যপ্রদর্শনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান তো ছিলই। আর, সংগ্রহশালার সংলগ্ন আদি ভবনে মূলত গবেষকদের জন্য উন্মুক্ত হল সংরক্ষিত পাথরের মূর্তি ভাস্কর্যের দু’টি গ্যালারি। এ ছাড়াও উদ্বোধন হল প্রকাশনা ও রেপ্লিকা প্রদর্শনের নবরূপায়িত বিভাগ। মুদ্রা প্রচলনের ইতিহাস ও তা তৈরি নিয়ে আয়োজিত হল কর্মশালাও।

শিক্ষা নিয়ে

যে বিদ্যা জাগতিক কোনও কাজেই লাগে না, বিদ্যাচর্চার নিরিখে তা-ই সবচেয়ে উঁচু মানের। গণিতবিদ জি এইচ হার্ডির এই কথাটি কালক্রমে প্রবাদে পরিণত হয়েছে। বেশির ভাগ সাধারণ মানুষেরই অবশ্য সেই বিলাসিতার অবকাশ নেই, শিক্ষা তাদের জন্য চাকরি পাওয়ার জরুরি ধাপ মাত্র। প্রশ্ন হল, এই দুই মেরুর মধ্যে শিক্ষার গতিপথ কোন দিকে বাঁক নেবে? কর্মমুখী প্রশিক্ষণই কি শিক্ষার ভবিষ্যৎ, জ্ঞানচর্চা নেহাত অতীতের স্মৃতি? আরও প্রশ্ন, শিক্ষা কি রাজনীতির সংস্রব এড়িয়ে চলবে, না কি ছাত্রদের জন্য খুলে দেবে বিতর্কের পরিসর? শুধুই মেধার নিরিখে নির্ধারিত হবে শিক্ষার অধিকার, না কি সামাজিক ন্যায়বিধানের দায়িত্বকে অস্বীকার করার কোনও সুযোগ থাকতে পারে না? শিক্ষানীতি কোন পথে চলবে, যে কোনও গণতন্ত্রে তা একটি প্রধান আলোচ্য হওয়া বিধেয়। এবং, সেই আলোচনায় অংশগ্রহণ করতে হবে নাগরিক সমাজকে— প্রতিষ্ঠানের গণ্ডির বাইরে বেরিয়ে এসেই। প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে, রাষ্ট্রের সঙ্গে সংলাপ তৈরি করতে হবে। ‘ফ্রেন্ডস অব ডেমোক্রেসি’-র উদ্যোগে তেমনই একটি আলোচনাসভা ২ জুন বিকেল পাঁচটা থেকে, সেন্ট পলস মিশন স্কুল অডিটোরিয়ামে (৫ স্কট লেন, বঙ্গবাসী কলেজের বিপরীতে)। ‘শিক্ষার দিকবদল’ শীর্ষক সভায় বক্তা অধ্যাপক সুকান্ত চৌধুরী ও কুমার রাণা।

অন্য ভূমিকায়

বেলুড় মঠে হাঁটছেন স্বামী গম্ভীরানন্দ মহারাজ, পাশে এক যুবক। যুবকটি বললেন, আমাকে আকাশবাণী যেতে হবে, একটা বেতার-নাটকের ব্যাপার আছে। বেতার নাটক শুনে সন্ন্যাসীর মৃদু মন্তব্য, ‘অপাণিপাদ, কিন্তু দ্রুতগতি।’ যুবকটির মনে হল, ঠিক কথা, হাত-পা নেই এই শিল্পমাধ্যমের, তবু দ্রুতি আছে। মহারাজের কাছেই মন্ত্রদীক্ষা হল যুবকটির। এক বার চিঠিতে লিখলেন, একটা চলচ্চিত্রে আমার কাজ করার কথা হচ্ছে, কিন্তু আমি দোলাচলে। গুরু লিখে পাঠালেন, অবশ্যই অভিনয় করবে, কোনও দ্বিধা রেখো না। সেই ছবিটি তপন সিংহের ‘বাঞ্ছারামের বাগান’, যুবকটি মনোজ মিত্র। ছবি দেখে সপ্রশংস সত্যজিৎ রায় তাঁকে বলেছিলেন, বৃদ্ধের চরিত্রে ঠিক অভিনয় করে তরুণরাই, কারণ তারা পরিশ্রম করে, করতে পারে। এই সব মণিকণা বেরিয়ে এল রামকৃষ্ণ মিশন ইনস্টিটিউট অব কালচার, গোলপার্কে মনোজ মিত্রের ‘স্বামী গম্ভীরানন্দ স্মারক বক্তৃতা’য়।

কাজের জগতে



কর্মরত সত্যজিৎকে নিয়ে হীরক সেনের স্থিরচিত্রের প্রদর্শনী: ‘রে অ্যাট ওয়ার্ক’, গগনেন্দ্র প্রদর্শশালায়, ২-৪ জুন (প্রতি দিন ২-৮টা)। ‘পথের পাঁচালী’ মুক্তির তারিখটি ছিল ২৬ অগস্ট, হীরকেরও জন্মতারিখ সেটি। সত্যজিৎ রায়কে নিয়ে তাঁর ছবি-তোলা শুরু সত্তর দশকে, আশির দশক থেকে তিনি সত্যজিতের ফিল্ম-ইউনিটে পাকাপাকি আলোকচিত্রী। সত্যজিৎ-প্রয়াণের পর সন্দীপ রায়ের ফিল্মেরও তিনি আলোকচিত্রী। ‘‘সন্দীপ আমার ছেলেবেলার বন্ধু, ওর স্ত্রী ললিতাও আমার বন্ধু। ‘মেসোমশাই’ সম্বোধন করতাম সত্যজিৎ রায়কে, অসম্ভব স্নেহপ্রবণ ছিলেন, নিরন্তর উৎসাহ দিতেন আমায় ছবি-তোলায়। রায় পরিবারের কাছে আমি আজীবন কৃতজ্ঞ।’’ ২ জুন বিকেল সাড়ে ৫টায় প্রদর্শনীটি উদ্বোধন করবেন সন্দীপ। আয়োজক আলিপুর সর্বজনীন-এর এটি সত্যজিৎ-শ্রদ্ধার্ঘ্য। সঙ্গের ছবিটি প্রদর্শনী থেকে, ১৯৮৯-এ তোলা।

দস্যু কেনারাম



মহুয়া, মলুয়া, চন্দ্রাবতী। ‘মৈমনসিংহ গীতিকা’র কথা উঠলেই এই পালা তথা গীতিকাগুলির উল্লেখ অবিসংবাদিত। পুব বাংলার শেকড় ছাড়িয়ে এ বঙ্গেও তারা বহুল মঞ্চায়িত। বরং খানিক উপেক্ষিত ‘দস্যু কেনারামের পালা’। সাত দল ডাকাত শাসন করে গারো পাহাড় থেকে সাগরপাড়, তাদের ঘরের পো কেনারাম বড় হয়ে ওঠে অপার জিঘাংসা সঙ্গী করে। এক দিন পথে ভক্ত-গায়ক বংশী দাসকে পেয়ে খুনের নেশা চাপে তার, বংশী সকাতরে জানায় অন্তিম ইচ্ছে, সে গাইবে দেবী মনসার স্তবগান। গান শুনে বিভোর কেনারামের মতি ফেরে, লোক-ইতিহাসও পায় ভবিষ্যতের মধুক্ষর গায়ক কেনারামকে। এ বার অশোক প্রামাণিকের নির্দেশনায় শ্যামবাজার ব্লাইন্ড অপেরা মঞ্চে আনছে ‘দস্যু কেনারামের পালা’, মিনার্ভা থিয়েটারে ২৯ মে সন্ধে সাড়ে ছ’টায়।

শিল্পধর্মী

উত্তর কলকাতার এক ব্যবসায়ী পরিবারে ১৯৪৩ সালে জন্ম। সংস্কৃতিচর্চার আবহেই বড় হয়ে ওঠা। নেশা ছিল ফুটবলও, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা ও আইন নিয়ে স্নাতকোত্তর পড়ার সময়েও গোলরক্ষকের ভূমিকায় নেমেছেন প্রশান্ত দাঁ। পাশাপাশি কর্মজীবন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে। এরই মধ্যে ১৯৭০-এর দশকের গোড়াতেই শিল্পকলায় মজে গেলেন তিনি। যামিনী রায়, দেবীপ্রসাদ রায়চৌধুরী, অতুল বসু, চিন্তামণি কর, সুভো ঠাকুর, পরিতোষ সেন, প্রদোষ দাশগুপ্ত, গোপাল ঘোষ, গণেশ পাইন প্রমুখের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ, আর পত্রপত্রিকায় শিল্প বিষয়ে লেখার সূচনা— যা আজও অব্যাহত। শিল্প-সমালোচক হিসেবে অর্জন করেছেন বিশিষ্টতা। শিল্প ও শিল্পীদের নিয়ে লিখেছেন, সম্পাদনা করেছেন অনেক বই। পেয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমির জীবনকৃতি সম্মান-সহ নানা পুরস্কার। এ বার তাঁকে নিয়েই তৈরি হয়েছে একটি তথ্যচিত্র, ‘শিল্পধর্মী পথিক’। ‘বাউন্ডুলে’ প্রযোজিত ছবিটির পরিচালনায় শুভব্রত। বাউন্ডুলের আয়োজনে ২ জুন বিকেল সাড়ে ৫টায় চিত্রকূট শিল্পশালায় শিল্পী রবীন মণ্ডল ও শিল্পরসিক প্রকাশ কেজরীবালের সম্মাননা অনুষ্ঠান, শেষে দেখানো হবে তথ্যচিত্রটি।

তারায় তারায়



অঞ্জনদাকে না পেলে এ নাটক করতাম না। এ নাটকে তিনি ভ্যান গঘ, তাঁর মনের নানা স্তর বা বিভিন্নতা যে ভাবে বুনে দিচ্ছেন, তাঁর জীবনের রহস্যময় মোড়গুলোকে যে ভাবে অভিনীত চরিত্রের মধ্যে আঁটিয়ে ফেলছেন অঞ্জনদা...’’, মুগ্ধতা কৌশিক সেনের কণ্ঠে। শ্রীজাতর তারাভরা আকাশের নীচে (আনন্দ) উপন্যাস অবলম্বনে নতুন প্রযোজনা ‘স্বপ্নসন্ধানী’র: ‘তারায় তারায়’। নাট্যরূপ, নির্দেশনা ও অভিনয়ে কৌশিক, আর ভিনসেন্টের ভূমিকায় অঞ্জন দত্ত (সঙ্গের ছবিতে)। আপাত ব্যর্থতার বোধে বিষাদগ্রস্ত ঋত্বিকের কাছে গোটা পৃথিবীটাই হ্যালুসিনেশন ও ইলিউশন-এ মোড়া, ভ্যান গঘের অবিস্মরণীয় ছবি ‘দ্য স্টারি নাইট’-ই তার তীব্র অস্থিরতায় ভরা জীবনে একমাত্র স্বস্তি এনে দেয়। ঋত্বিকের চরিত্রে এ বছর জাতীয় পুরস্কারে সেরা অভিনেতার সম্মানপ্রাপ্ত ঋদ্ধি সেন। নাটকটিতে ঋত্বিক কলকাতা থেকে আমেরিকা যাওয়ার পর সেখানে তার মানসিক শুশ্রূষার ভার নেন যে চিকিৎসক, রুকসার আহমেদ, তাঁর ভূমিকায় রেশমী সেন। ‘‘বাঁধাধরা কনভেনশনাল নাটকীয় গঠন নেই এ নাটকে। নিরীক্ষামূলক নাটক। বাইরের ঘাত-প্রতিঘাত নয়, অন্তর্দ্বন্দ্বের নাটক। যে ‘ম্যাডনেস’ বা উন্মাদনার স্পর্শে অবিরত শিল্পের জন্ম হয়, প্রতিভা প্রকাশিত হয়, সেটাকেই ভিনসেন্ট ও ঋত্বিকের সমান্তরাল ‘জার্নি’র ভিতর দিয়ে ধরতে চেয়েছি। সঞ্চয়ন ঘোষের মঞ্চায়ন, নীল দত্তের সঙ্গীত, সুদীপ সান্যালের আলো ছাড়া এ নাটক নির্মাণ সম্ভব হত না।’’ জানালেন নির্দেশক। জ্ঞানমঞ্চে অভিনয় ২৯ মে সন্ধে ৭টা ও ৩ জুন সকাল সাড়ে ১০টায়।

আরও পড়ুন

More from My Kolkata
Advertisement