Advertisement
২৮ নভেম্বর ২০২২

কলকাতার কড়চা: অভিনয়ে ফিরলেন সুমন

অভিনয়ে নিবেদিতা মুখোপাধ্যায়, সতীশ সাউ এবং এক দল তরুণ-তরুণী। ২৯ এপ্রিল অ্যাকাডেমিতে দুপুর ৩টে ও সন্ধে সাড়ে ৬টায় প্রথম দু’টি অভিনয়, ৩০ এপ্রিল ও ১ মে জ্ঞান মঞ্চে সন্ধে সাড়ে ৬টায় পরের দু’টি অভিনয়।

শেষ আপডেট: ২২ এপ্রিল ২০১৮ ২৩:৪৬
Share: Save:

আবার নতুন করে পাগলাটে লোকটার ফেরে পড়লাম প্রায় তিন দশক বাদে বাংলা মঞ্চে অভিনয় করতে এসে।’’ বলছিলেন সুমন মুখোপাধ্যায়। ১৯৮৮-তে ‘মাধব মালঞ্চী কইন্যা’ আর ১৯৯০-এ ‘কবীর’-এ অভিনয়ের এত বছর পর চেতনা-র নতুন প্রযোজনা ‘ডন: তাকে ভালো লাগে’-তে করবেন সুমন— ডন-এর চরিত্রে (সঙ্গের ছবিতে)। মাঝখানে আর অভিনয় করেননি তা নয়, করেছেন, তবে নির্ধারিত শিল্পীর অনুপস্থিতিতে, যেমন ‘জগন্নাথ’-এ নন্দ-র চরিত্রে। নির্দেশক হিসেবে বাঙালিকে তিনি ‘তিস্তাপারের বৃত্তান্ত’ বা ‘মেফিস্টো’র মতো স্মৃতিধার্য প্রযোজনা উপহার দিয়েছেন, অথচ সরে গিয়েছেন বঙ্গরঙ্গমঞ্চ থেকে। ‘‘সেই ছিন্ন যোগাযোগ থেকে ফিরে আসছি সংযোগে, শুধুমাত্র অভিনেতা হিসেবেই। এতে নাটকের অন্য বিভাগগুলি নিয়ে মাথা ঘামাতে হয় না বলে মনোনিবেশটা গাঢ় হয় অভিনয়ে।’’ এ ছাড়াও সুমনের কাছে ‘‘চরিত্রটি লোভনীয়, রীতিমতো আইডেন্টিফিকেশন হয়, স্প্যানিশ ভাষায় তার নাম দন কিহোতে। ডনের অলীক সব ব্যাপারস্যাপার উস্কে দিয়েছে লুকোনো অন্তর্ঘাতী চেতনা, খুঁড়ে বার করেছে চাপাপড়া পাল্টে দেওয়ার স্বপ্ন, ঠেলে দিয়েছে লড়াকু অভিযানে, ভাবনায় ঘটিয়েছে বিপ্লবী বিস্ফোরণ। তবুও তাকে আটকে রাখা যায়নি মানুষের গড়ে তোলা সেই সব কারাগারে যেখানে চিন্তার শাসন হয়, বা মুক্ত ভাবনাকে একঘরে করা হয়।’’ মূল নাটক ডেল ওয়াসারমান রচিত ‘ম্যান অব লা মাঞ্চা’, অনুবাদ অরুণ মুখোপাধ্যায়ের। পরিমার্জনা ও পরিচালনায় সুজন মুখোপাধ্যায়, তিনি মনে করেন ‘‘চার পাশের বন্দিদশা, ধর্মীয় উন্মাদনা, জাতের নামে বজ্জাতি, সেন্সরশিপ সব কিছুর ঊর্ধ্বে গিয়ে তারাকে ছোঁয়ার আশা দেখানো ডনের পক্ষেই সম্ভব।’’ গানের সুর দিয়েছেন অরুণ সুমন সুজন তিন জনেই, আবহ ও সঙ্গীত আয়োজনে প্রবুদ্ধ বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিনয়ে নিবেদিতা মুখোপাধ্যায়, সতীশ সাউ এবং এক দল তরুণ-তরুণী। ২৯ এপ্রিল অ্যাকাডেমিতে দুপুর ৩টে ও সন্ধে সাড়ে ৬টায় প্রথম দু’টি অভিনয়, ৩০ এপ্রিল ও ১ মে জ্ঞান মঞ্চে সন্ধে সাড়ে ৬টায় পরের দু’টি অভিনয়।

Advertisement

দ্বিশতবর্ষে

তাঁর জীবনে অন্যতম কীর্তি ‘সোমপ্রকাশ’ পত্রিকা সম্পাদনা। ১৮৫৮ সালের ১৫ নভেম্বর পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়। ব্রজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, ‘‘সোমপ্রকাশ নামের সহিত জড়িত হইয়া পণ্ডিত দ্বারকানাথ বিদ্যাভূষণের নাম বাংলা সাহিত্যে চিরস্থায়ী হইয়া আছে।’’ ১৮৪৫ সালে তিনি ‘বিদ্যাভূষণ’ উপাধি পান। ফোর্ট উইলিয়ম কলেজে শিক্ষকতার পরে সংস্কৃত কলেজে গ্রন্থাগারিক ও অধ্যাপক এবং কিছু দিন বিদ্যাসাগরের সহকারী হিসেবেও কাজ করেন। ১৮৫৬ সালে দ্বারকানাথ (১৮১৯-১৮৮৬) পিতা হরচন্দ্র ন্যায়রত্নের সহযোগিতায় একটি মুদ্রাযন্ত্র স্থাপন করেন কলকাতার বাসায়। সম্প্রতি সৌমিত্র শ্রীমানীর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়েছে সংকলিত সোমপ্রকাশ (অরুণা প্রকাশন)। এ বার এই মনীষীর দ্বিশত জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে অবনীন্দ্র সভাগৃহে ২৬ এপ্রিল বিকাল ৫টায় এক অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়েছে। শ্যামলকুমার সেনের সভাপতিত্বে তাঁকে নিয়ে আলোচনায় বারিদবরণ ঘোষ, অনুপ মতিলাল প্রমুখ। আয়োজনে অশোকনাথ-গৌরীনাথ শাস্ত্রী স্মারক সমিতি।

Advertisement

অসময়ে

‘তুমি জানতে চেয়েছ কেমন আছি, আছি কেমন আগের মতন...’ এ গান বেঁধেছিলেন মান্না দের গাওয়া ‘খুব জানতে ইচ্ছে করে, তুমি কি সেই আগের মতন আছো...’ এ গানের উত্তরে। গানের সুর আর কথায় মুগ্ধ হয়েছিলেন মান্না দে। দত্তপুকুর হাইস্কুলের বরাবরের ‘ফার্স্টবয়’, গুরুদাস কলেজ থেকে কেমিস্ট্রি অনার্স জ্যোতিপ্রকাশ চট্টোপাধ্যায়। বাবা সতীনাথ ও মা অসীমা দু’জনেই ভাল গান গাইতেন, তাঁদের কাছেই অনুপ্রেরণা। প্রথমে অজয় সিংহ রায়, পরে পঁচিশ বছর জ্ঞানপ্রকাশ ঘোষের কাছে সঙ্গীতশিক্ষা, এ ছাড়া মান্না দের সঙ্গলাভ প্রায় বাইশ বছরের। আকাশবাণী ও দূরদর্শনের ‘গ্রেড ওয়ান’ এই শিল্পীর কথা ও সুরে মান্না দে-সহ বহু শিল্পী গান গেয়েছেন। ‘অনু’ চলচ্চিত্রে শ্রেষ্ঠ গায়ক হিসেবে উত্তমকুমার স্মৃতি পুরস্কার-সহ অনেক সম্মান তাঁর ঝুলিতে। বহু দূরদর্শন ধারাবাহিক ও চলচ্চিত্রে সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন। এ হেন শিল্পীর জীবনদীপ যেন বড্ড অসময়ে চুয়ান্ন বছরেই নিভে গেল।

ব্যতিক্রমী

মধ্যরাতের মহাকাব্যই বটে! গোটা রাত জুড়ে যে বাংলা নাটক প্রেক্ষাগৃহে অভিনীত হচ্ছে, সেই প্রযোজনার ৭৫তম অভিনয় হতে চলেছে, এটা ব্যতিক্রমী সংবাদও বটে। মহাকবি ভাসের একটি নাটিকাকে কেন্দ্র করে নির্মিত হয়েছিল ‘ঊরুভঙ্গম’ নাটক। প্রযোজনায় এই শহরের নাট্যদল ‘অর্ঘ্য’। এই নাটকটি প্রকৃতপক্ষে গোটা মহাভারতের অন্তর্জগতে এক যাত্রা। প্রথম অভিনয় হয় ২০১৩-র ১৬ ফেব্রুয়ারি। দেশের নানা প্রান্তে অভিনীত হয়েছে ‘ঊরুভঙ্গম’। মহাভারতকে কেন্দ্র করে ভারতের নানা সাহিত্য, লোকনাট্য, ছত্তীসগঢ়ের পাণ্ডবাণী, কর্নাটকের যক্ষগণ, তামিলনাড়ুর থেরেকুথু, পুরুলিয়ার ছো— নানা কিছুর মিশেল রয়েছে এই নাটকে। মণীশ মিত্রের পরিচালনায় ‘অর্ঘ্য’-র যাত্রা শুরু ১৯৯২-এ। ‘ঊরুভঙ্গম’-এর পরবর্তী অভিনয় ২৮ এপ্রিল রাত ১১টায় অ্যাকাডেমি মঞ্চে।

হুইল চেয়ার

নির্বাক অভিনয় একাডেমীর নতুন নাটক ‘হুইল চেয়ার’। নিরন্তর সাহিত্য-নির্ভর নাটক করা যাদের মজ্জায় তাদের কাজে বৈচিত্র স্বাভাবিক। রবীন্দ্রনাথের অপ্রকাশিত চিঠি, নবনীতা দেব সেন রচিত সীতা কিংবা সলমন রুশদি সব বিষয়েই অনায়াস গতিবিধির পর এ বার অনুপ্রেরণা হুমায়ুন আহমেদ। তাঁর টেলি সিরিজের একটি কাহিনি থেকে এই নাটক। নির্দেশনায় সুরঞ্জনা দাশগুপ্ত। নাটকে চরিত্র পাঁচটি। তারা সবাই আজকের দমবন্ধ পরিবেশের শিকার। তারা নিজেরাই নিজেদের আধা-মানুষ বলে পরিচয় দেয়। অদ্ভুত সব আচরণ করে। কেউ মিথ্যে বলেই চলে, কেউ আবার ভাঙচুর করতে থাকে। অথচ সবাই আপাত স্বাভাবিক। বাকিটা? প্রথম অভিনয় দমদম নাগেরবাজারে অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায় মঞ্চে ২৮ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টায়।

সেই তিরিশ বছর

১৯৭০ সালের জুন মাস, মনীষীদের মূর্তি ভাঙা তখন তুঙ্গে। ওই দলের এক আঠেরো বছরের যুবক সেই কাজের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। আত্মগোপন করে থাকার সময়ে ও কারাবাসে নিরন্তর পড়াশোনায় তাঁর মনে হয়, নকশালবাড়ির কৃষক আন্দোলনে বিপ্লব শুরু হয়ে গিয়েছে বলে ভাবাটাই অতিরঞ্জন। জেল থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকতাকে পেশা হিসাবে বেছে নিয়েছিলেন দেবাশিস ভট্টাচার্য। খুঁটিনাটি খবরের দিকে চিরকালই আগ্রহ ছিল, অবসর নেওয়ার পর দীর্ঘ পরিশ্রমে লিখলেন স্বাধীনতা-উত্তর পশ্চিমবঙ্গের তিন দশকের ইতিবৃত্ত: (১৯৪৭-১৯৭৭)/ সেই তিরিশ বছর (পরি: দে’জ)। ১৯৬৭-৭২, পাঁচ বছরে চার বার বিধানসভা ভোট কিংবা ১৯৬৮-৭৭, ন’বছরে চার বার রাষ্ট্রপতি শাসনের মতো রাজনৈতিক ঘটনার পাশে জায়গা পেয়েছে সমাজ সাহিত্য সিনেমা খেলাধুলোর স্মরণীয় তথ্যও। ওই সময়কে জানতে হলে এই বই ওল্টাতেই হবে।

বাংলার কাঁথা

বাংলায় সূচিশিল্প সুপ্রাচীন। ষোড়শ শতকেই সাতগাঁও অঞ্চলে কাঁথার মতো আচ্ছাদনী বিশেষ ভাবে বিদেশি বাজারের জন্য তৈরি হত। বাড়ির মেয়েরা ঘরে ব্যবহারের জন্য সুচের কাজ করা কাঁথায় বটুয়া থেকে বালাপোষ যা বানাতেন, তা কোথাও কিনতে পাওয়া যেত না। পারিবারিক সূত্রে টিকে থাকা এমন কাঁথার কিছু নিদর্শন ঠাঁই পেয়েছে নানা সংগ্রহশালায়, ব্যক্তিগত সংগ্রহে। আজকের ফ্যাশনে আবার ফিরে এসেছে ‘কাঁথা স্টিচ’। সুবর্ণজয়ন্তী বর্ষে ক্রাফ্‌টস কাউন্সিল অব ওয়েস্ট বেঙ্গল ও বিড়লা অ্যাকাডেমির যৌথ উদ্যোগে ‘আই অব দ্য নিড্‌ল: কাঁথা, দ্য কুইল্ট এমব্রয়ডারি অব বেঙ্গল’ শীর্ষকে কাঁথার প্রদর্শনী তথা বিক্রির আয়োজন হয়েছে, সঙ্গে আলোচনা সভা। উদ্বোধন ২৫ এপ্রিল সন্ধ্যা ৬টায় বিড়লা অ্যাকাডেমিতে। প্রদর্শনীতে কাঁথা শিল্পীদের সঙ্গে সরাসরি মত বিনিময় করা যাবে। দেখা যাবে প্রায় পঞ্চাশটি দুর্লভ কাঁথা। ২৮ এপ্রিল দুপুর ১২-২টায় রুবি গজনভির সভামুখ্যতায় আলোচনা সভায় থাকবেন নিয়াজ জামান, পাওলা ম্যানফ্রেডি, পিকা ঘোষ, মহুয়া লাহিড়ি, ঋতু শেঠি প্রমুখ। ১৩ মে পর্যন্ত (৩-৮)।

নস্টালজিয়া

গ্রামের শৈশব, সুন্দরবনের ঘ্রাণ ধরা পড়েছে তাঁর ভাস্কর্যে। মৃণালকান্তি গায়েন নিজে নিজেই আঁকা শিখেছেন। গ্রাম থেকে কলকাতায় সরকারি আর্ট কলেজে ভর্তি হতে এসে পরীক্ষার কথা শুনে হতবাক। আর্ট কলেজেরই ছাত্র সুভাষ পালের আশ্রয়ে থাকা ও টিউশনি করে আর্ট কলেজে ভর্তি, এখান থেকেই ভিসুয়াল আর্ট নিয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর, আবার এই কলেজেই মডেলিং ও স্কাল্পচার বিভাগে শিক্ষকতা। তাই বর্তমানে হেয়ার স্কুলের শিল্পশিক্ষক সুভাষ পালকে মানেন তাঁর পথপ্রদর্শক হিসেবে। কাকদ্বীপে ‘চিত্রলেখা আর্ট স্কুল’ করেছেন। দলগত ভাবে প্রায় ৭০টি ও একক চারটি প্রদর্শনী করা শিল্পীর ঝুলিতে ললিতকলা অকাদেমির জাতীয় পুরস্কার-সহ বহু সম্মান। ২৪ এপ্রিল অ্যাকাডেমিতে প্রায় পঁচিশটি ব্রোঞ্জ ভাস্কর্য নিয়ে পঞ্চম একক প্রদর্শনীর (‘রিদম্ অব নস্টালজিয়া’) উদ্বোধন সন্ধ্যা ৬টায়, চলবে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত (৩-৮)। সঙ্গে তারই একটি কাজ।

স্মারক বক্তৃতা

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্যে প্রথম ডি লিট, সেখানেই তিন দশক অধ্যাপনা, বিশেষ চর্চার বিষয় পাশ্চাত্য ধ্রুপদী সাহিত্য ও কাব্যতত্ত্ব। অধ্যাপক রমেন্দ্রকুমার সেন ছিলেন নিরহঙ্কার, খাঁটি দেশি পণ্ডিত। তাঁর স্মরণে, সেন পরিবারের আর্থিক সহায়তায়, নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন আবাসিক কলেজের ইংরেজি বিভাগ গত দু’বছর ধরে একটি স্মারক বক্তৃতার আয়োজন করে চলেছে। এ বারের বক্তা অধ্যাপক সেনের সুযোগ্য ছাত্র, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি সাহিত্যের অধ্যাপক ও স্কুল অব কালচারাল টেক্সটস অ্যান্ড রেকর্ডসের ডিরেক্টর অম্লান দাশগুপ্ত। অধ্যাপক সেনের চর্চার সূত্র ধরে বক্তৃতার বিষয়: আরিস্ততলের কাব্যতত্ত্ব। ২৩ এপ্রিল সন্ধ্যা ৬টায় কলেজ অডিটোরিয়ামে।

শতবর্ষে

নারীশিক্ষা সমিতির সভানেত্রী লেডি অবলা বসুর সহায়তায় ১৯১৯ সালের ১৪ এপ্রিল মুরলীধর বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর নিজের বাড়িতে, ১৮/১ ফার্ন রোডে শুরু করেন দক্ষিণ কলকাতার প্রথম মেয়েদের বিদ্যালয়— ‘বালিগঞ্জ গার্লস স্কুল’। বিদ্যালয়ের প্রথম কার্যনির্বাহী সমিতিতে আশুতোষ চৌধুরী সভাপতি এবং প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক হন মুরলীধর। পরে এটি স্থানান্তরিত হয় ৪ হিন্দুস্থান রোডে। ১৯৩৪ সালে মুরলীধর বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর পর স্কুলটি নাম পরিবর্তন করে হয় ‘মুরলীধর গার্লস স্কুল’। ১৯৫৭ সালে স্কুলটি উচ্চমাধ্যমিক স্তরে উন্নীত হয়। পঠনপাঠনের পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চিন্তাচেতনা বৃদ্ধিতে নজর দেওয়া স্কুলটি এ বার শতবর্ষে পড়ল। ২৪ এপ্রিল সকাল সাড়ে ৭টায় পদযাত্রার মাধ্যমে শতবর্ষ উদ্‌যাপনের সূচনা। উদ্বোধন করবেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়।

অপর্ণা

শর্মিলা ঠাকুরকে সে দিন সাজিয়ে দিয়েছিলেন মা, আর ছবিটা তুলেছিলেন বাবা। আমাদের ৩১এ লেক অ্যাভিনিউয়ের বাড়ির ছাদে।’’ স্মৃতি হাতড়াচ্ছিলেন সন্দীপ রায়, বেশি কিছু মনে থাকার কথাও নয়, কারণ ‘অপুর সংসার’-এর শুটিংয়ের সময় তাঁর নেহাতই শৈশব। ইরা ও গীতীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কন্যাকে দেখে প্রথমে একটু হতাশই হয়েছিলেন বিজয়া রায়, ‘‘পুরোপুরি শহুরে চেহারা’’। (আমাদের কথা, আনন্দ)। সত্যজিৎ কিন্তু দেখেই ছবির উপযোগী করে শর্মিলাকে সাজাতে বললেন, বিজয়া লিখছেন, ‘‘উনি যা-যা বললেন, তাই করলাম। চুলটা ঘাড় অবধি ছিল বলে টেনে খোঁপা করতে অসুবিধে হল না।... শাড়ি পরিয়ে কপালে বেশ বড় করে সিঁদুরের টিপ পরিয়ে দিলাম, আর, কী মনে হল, আমার আইব্রাউ পেনসিল দিয়ে চোখের তলাটায় একটু কাজলের মতো লাগিয়ে দিলাম। দেখতে-দেখতে শহুরে শর্মিলা গ্রামের অপর্ণায় পরিণত হল।’’ সত্যজিতের তোলা সে ছবিটিই সঙ্গে, পাওয়া গেল সন্দীপের সৌজন্যে। ২৮ এপ্রিল সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় আইসিসিআর-এ ‘সত্যজিৎ রায় স্মারক বক্তৃতা’ দিতে কলকাতায় আসছেন শর্মিলা, ২ মে সত্যজিতের জন্মদিন উপলক্ষে। শুরুতে তিনি সত্যজিতের ট্র্যাভেলস উইথ দি এলিয়েন (হার্পার কলিন্স ও সত্যজিৎ রায় সোসাইটি) গ্রন্থটি প্রকাশ করবেন। ‘এলিয়েন’ সংক্রান্ত একটি অডিয়ো-ভিস্যুয়ালও দেখানো হবে বক্তৃতার শেষে। আয়োজনে সত্যজিৎ রায় সোসাইটি। আজ সত্যজিতের মৃত্যুদিন, ছাব্বিশ বছর কেটে গেল।

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, Twitter এবং Instagram পেজ)
Follow us on: Save:
Advertisement
Advertisement

Share this article

CLOSE
Popup Close
Something isn't right! Please refresh.