বইমেলায় গিয়ে যাঁরা অ্যাপ-ক্যাব ধরে বাড়ি ফিরতে চান, তাঁদের জন্য অ্যাপ-ক্যাব ধরার নির্দিষ্ট জায়গা করে দিচ্ছে পাবলিশার্স অ্যান্ড বুক সেলার্স গিল্ড। গিল্ডের কর্তারা জানান, বইমেলার এক নম্বর গেটের কাছে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় অ্যাপ-ক্যাব স্ট্যান্ডেরব্যবস্থা করা হচ্ছে। সেখানে তিনটি বুথও তৈরি করা হবে। সেখানে অ্যাপ-ক্যাবগুলি যাত্রীদের জন্য অপেক্ষা করতে পারবে।
এ বার বইমেলায় মেট্রো সংযোগ হাওড়া পর্যন্ত হওয়ায় অনেক বেশি ভিড় হতে পারে বলে আশা করছেন গিল্ড কর্তারা। গিল্ডের সভাপতি সুধাংশুশেখর দে বলেন, ‘‘বইমেলা থেকে ফেরার সময়ে প্রতি বার অ্যাপ-ক্যাব পেতে অসুবিধা হয়।বইমেলার গেটের সামনে যে হেতু গাড়ি দাঁড়ানোয় বিধিনিষেধ রয়েছে, তাই কোথায় অ্যাপ-ক্যাব দাঁড়াবে, তা নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়। অনেক সময়ে মেলা থেকে অনেকটা দূরে গিয়ে ক্যাব ধরতে হয়। তাই হাওড়া বা শিয়ালদহ স্টেশনের মতো অ্যাপ-ক্যাবের নির্দিষ্ট জায়গা থাকলে যাত্রীদের পেতে সুবিধা হবে।’’
সুধাংশুশেখর জানিয়েছেন, এ বার বইমেলায় বেশি ভিড়ের কথামাথায় রেখে তাঁরা ইতিমধ্যে করুণাময়ী থেকে শেষ মেট্রোর সময় রাত ১০টা পর্যন্ত করার জন্য মেট্রো কর্তৃপক্ষকে আবেদন করেছেন। সেই সঙ্গে দু’টি মেট্রোর মধ্যে সময়ের ব্যবধান কমানোর কথাও বলা হয়েছে। সুধাংশুশেখর জানান, গত বছর বইমেলা চলাকালীন ছুটিরদিনগুলিতে মেট্রোর সময়সীমা বাড়ানো হয়েছিল। এ বার পুরো মেলা চলাকালীনই যদি সেই সময়সীমা বাড়ানো যায়, তা বিবেচনা করে দেখতে গিল্ড অনুরোধ করেছে মেট্রো কর্তৃপক্ষকে। অটো পরিষেবা বাড়ানোর জন্যও তাঁরা বিধাননগর পুলিশের সঙ্গে আলোচনা করবেন বলে জানিয়েছেন।
আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে বইমেলা শুরু হয়ে শেষ হবে ৩ ফেব্রুয়ারি। মাসের শেষে বইমেলা হওয়ায় মানুষের হাতে বই কেনার টাকা থাকবে কিনা, তা নিয়ে শঙ্কিত ছোট প্রকাশকেরা। তাঁদের কয়েক জনের মতে, বইমেলা চলাকালীন ২৩ থেকে ২৬ জানুয়ারি লম্বা ছুটি থাকলেও সেটা মাসের শেষ। এক প্রকাশকের কথায়, ‘‘পূর্ব অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি, ২০২৪ সালে লোকসভা ভোটের জন্য বইমেলা এগিয়ে এসে ১৮ জানুয়ারি থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত হয়। সে বার মাসের শেষে বইমেলা হওয়ায় ভিড় ভাল হলেও বিক্রিবাটা ভাল হয়নি। এ বারও বইমেলা মাসের শেষে। ভিড় হলেও বই বিক্রি হবে তো?’’
যদিও গিল্ডের সাধারণ সম্পাদক ত্রিদিব চট্টোপাধ্যায়ের দাবি, ‘‘এ বার পুরোটাই মাসের শেষে নয়। বইমেলা মাসের প্রথমে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে। তা ছাড়া বইপ্রেমীদেরঅনেকেই বইমেলার জন্য সারা বছর ধরে টাকা আলাদা সরিয়ে রাখেন। আশা করছি, বই বিক্রি ভালই হবে।’’ তিনি আরও জানান, বইমেলায় নগদের চেয়ে অনলাইন লেনদেন ক্রমশই বাড়ছে। তাই বইমেলায় যাতে অনলাইন লেনদেনে অসুবিধা না হয়, সে জন্য অনলাইন পরিষেবাসংস্থাগুলিও মেলার মাঠে বিশেষ ব্যবস্থা নিচ্ছে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)