Advertisement
E-Paper

মদের ‘পরিবহণ খরচ’ বলে তিন বছরে ৩০০ কোটি আদায় করা হয়েছে তৃণমূল আমলে! তদন্তের দাবিতে আবগারি দফতরে চিঠি

সংবাদসংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, সম্প্রতি আবগারি দফতরের কাছে তদন্তের দাবি জানিয়ে মদ ব্যবসায়ীদের সংগঠন ‘সোসাইটি ফর দ্য ওয়েলফেয়ার অফ ওয়েস্ট বেঙ্গল ফরেন লিকার লাইসেন্সিজ়’ একটি চিঠি দিয়েছে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬ ১৭:২৮
Liquor traders in West Bengal

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

পরিবহণ খরচের নাম করে তিন বছরে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা আদায় করা হয়েছে তৃণমূল আমলে— এমনই অভিযোগ করলেন পশ্চিমবঙ্গের মদ ব্যবসায়ীরা। সংবাদসংস্থা পিটিআই-র প্রতিবেদন অনুসারে, মদের খুচরো ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে পরিবহণ খরচ বাবদ তাঁদের কাছ থেকে ওই অর্থ নেওয়া হয়েছে। এর নেপথ্যে ছিলেন রাজনৈতিক প্রভাবশালী কয়েক জন। এখন ওই ‘দুর্নীতিকাণ্ডের’ তদন্ত চান তাঁরা।

আবগারি দফতরের কাছে তদন্তের দাবি জানিয়ে মদ ব্যবসায়ীদের সংগঠন ‘সোসাইটি ফর দ্য ওয়েলফেয়ার অফ ওয়েস্ট বেঙ্গল ফরেন লিকার লাইসেন্সিজ়’ একটি চিঠি দিয়েছে। তাতে তারা জানিয়েছে, তৃণমূলের সরকারের চালু করা ‘ডিস্ট্রিবিউটর-ডিপো’ ব্যবস্থা অনুযায়ী, ডিস্ট্রিবিউটরদের নিজস্ব ব্যয়ে খুচরো বিক্রেতাদের গুদামে মদ সরবরাহ করতে হত। কিন্তু নিয়ম লঙ্ঘন করে তাঁদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হয়েছে বলে অভিযোগ। পিটিআই জানিয়েছে, সম্প্রতি আবগারি কমিশনারের কাছে পাঠানো একটি চিঠিতে সংগঠনটি অভিযোগ করেছে, নিয়ম লঙ্ঘন করে খুচরো বিক্রেতাদের বিয়ার সরবরাহের জন্যই প্রতি বোতল বা ক্যানের জন্য ১০ থেকে ১৩ টাকা ‘পরিবহণ খরচ’ দিতে বাধ্য করা হয়েছে। তাঁদের এ-ও অভিযোগ, ‘ডিস্ট্রিবিউটর-ডিপো মডেল’-এ ডিস্ট্রিবিউটরদের খরচে খুচরো আউটলেটগুলিতে পণ্য সরবরাহের কথা থাকলেও খুচরো ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে পরিবহণ এবং ডেলিভারি ফি নেওয়া হত, যা অনৈতিক। আর এ জন্য কোনও রসিদ, বিল বা সেই সংক্রান্ত কোনও নথি দেওয়া হত না। ব্যবসা চালাতে বাধ্য হয়ে তাঁরা ওই পন্থা মেনে নিয়েছিলেন।

সংশ্লিষ্ট সংগঠনের সচিব বিজনকুমার পাত্র পিটিআই-কে বলেন, ‘‘২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বিয়ার, বিদেশি এবং দেশি মদ সরবরাহ থেকে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা ওই ভাবে আদায় হয়েছে।’’ তিনি আরও জানিয়েছেন, বিয়ারের ক্ষেত্রে পরিবহণ বাবদ চার্জ নেওয়া হত। বিদেশি এবং দেশি মদের সরবরাহের ক্ষেত্রেও একই রকমের বিষয় ছিল। সেখানে লোডিং এবং আনলোডিং ফি বলে টাকা তোলা হত। সরকারি রাজস্ব দেওয়া ছাড়াও রাজনৈতিক প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তিকে ওই ভাবে টাকা দিতে হয়েছে তাঁদের।

যদিও এই অভিযোগের সাপেক্ষে কোনও লিখিত তথ্য দিতে পারেননি অভিযোগকারীরা। কিন্তু তাঁদের অভিযোগ, তৃণমূল সরকারের আমলে ওই নিয়ে আবগারি বিভাগে অভিযোগ করেও কোনও ফল হয়নি। শুভেন্দুর সরকারের আমলে আবগারি বিভাগকে এ নিয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীদের আবেদন, অননুমোদিত পরিবহণ মাশুল আদায় বন্ধ হোক এবং মদ বিক্রির ক্ষেত্রে সুষ্ঠু এবং স্বচ্ছ ব্যবস্থা আনা হোক।

উল্লেখ্য, মদের সরবরাহ ব্যবস্থা ঢেলে সাজার চেষ্টার অংশ হিসাবে ২০২১ সালে তৃণমূল সরকার ‘ডিস্ট্রিবিউটর-ডিপো মডেল’ চালু করে। এর মাধ্যমে খুচরো বিক্রেতাদের কাছে মদ পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে সরকার পরিচালিত পশ্চিমবঙ্গ স্টেট বেভারেজেস কর্পোরেশন লিমিটেডের পূর্ববর্তী ব্যবস্থা বদলানো হয়। রাজ্যে পাইকারি মদ বিতরণের দায়িত্ব গ্রহণের জন্য ২০১৭ সালে ওই সংস্থাটি তৈরি হয়েছিল। সেই সময় সরকার জানিয়েছিল, এই পদক্ষেপের ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসা-বাণিজ্যে আরও বেশি স্বচ্ছতা ও নিয়ন্ত্রণ আনা সম্ভব হবে।

Liquor TMC
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy