সিরিটিতে নবনির্মিত শ্মশানের উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধু তা-ই নয়, ওয়াটগঞ্জের দইঘাটে নতুন শ্মশানের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন তিনি। সেই অনুষ্ঠান থেকেই পশ্চিমবঙ্গে শিল্প, কর্মসংস্থান, পরিযায়ী শ্রমিকদের প্রসঙ্গ তুললেন মমতা।
নবান্ন থেকে ভার্চুয়ালি সিরিটির নবনির্মিত শ্মশানের উদ্বোধন করেন মমতা। দইঘাটে নতুন শ্মশানের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হয় একই সঙ্গে। তার পরেই মমতা এ রাজ্যের শিল্পের অবস্থার কথা বলেন। তাঁর কথায়, ‘‘যাঁরা বলেন পশ্চিমবঙ্গ থেকে ইন্ড্রাস্টি চলে যাচ্ছে, তাঁরা ভুল বলছেন।’’ মমতার কথায়, কিছু চিটফান্ড আছে, সেই সব বেনামে নথিভুক্ত হয়। তা বন্ধ হয়ে যায়। তা ছাড়া কোনও শিল্প এ রাজ্য থেকে যাচ্ছে না।
কর্মসংস্থানের কথা বলতে গিয়ে মমতা পরিযায়ী শ্রমিকের প্রসঙ্গ টানেন। তাঁর কথায়, ‘‘এখানে দেড় কোটি শ্রমিক কাজ করেন। আমরা কাউকে বিরক্ত করি না। তবে আমাদের এখানকার শ্রমিকেরা অন্য রাজ্যে কাজ করতে গিয়ে অত্যাচারিত হন।’’ মুখ্যমন্ত্রীর অনুরোধ, ‘‘যাঁরা বাইরে আছেন ফিরে আসুন। কর্মসংস্থানে জোর দেওয়া হয়েছে।’’ রাজ্য সরকারের তরফে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়া হচ্ছে, এমন উদাহরণ তুলে ধরেন মমতা।
সকলকে শান্তিতে থাকার বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর আশঙ্কা, ‘‘ভোটের জন্য কেউ কেউ দাঙ্গা লাগানোর চেষ্টা করেন। তবে আমরা ৩৬৫ দিন থাকি। প্ররোচনায় পা দেবেন না। সকলে শান্তিতে থাকুন।’’ পশ্চিমবঙ্গে সব ধর্মের লোক একসঙ্গে বাস করেন। সেই স্বাধীনতার সময় থেকে। সম্প্রীতির এই বার্তা মনে করিয়ে দিয়ে মমতা বলেন, ‘‘আমরা ভারতীয়।’’ তাঁর সরকার সব ধর্ম, সম্প্রদায়ের মানুষদের জন্য কাজ করেছে, বলেন মুখ্যমন্ত্রীর। তাঁর মতে, সরকার যেমন শ্মশান তৈরি করছে, তেমনই কবরস্থানও করে দিয়েছে। রাজ্যের দিকে দিকে তৈরি হচ্ছে মন্দির, মসজিদ, গুরুদ্বার। পশ্চিমবঙ্গে সব ধর্মের মানুষের সহাবস্থান, তা বার বার মনে করিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
আরও পড়ুন:
সিরিটির নবনির্মিত শ্মশানের উদ্বোধন করতে গিয়ে মমতা প্রয়াত চিত্রপরিচালক তথা অভিনেতা ঋতুপর্ণ ঘোষের কথা স্মরণ করেন মমতা। ঋতুপর্ণের মৃত্যুর পর ওই শ্মশানে গিয়েছিলেন, তখনই তা নতুন করে তৈরি করার কথা ভাবেন বলে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, গত ১৫ বছরে শুধু কলকাতাতেই ৩৫-এর বেশি বৈদ্যুতিক চুল্লির ব্যবস্থা হয়েছে। শুধু শহরে নয়, গ্রামেগঞ্জে অনেক শ্মশান তৈরি হয়েছে তাঁর আমলে। কোনও গরিব পরিবারে যদি সৎকারের খরচ বহনের সামর্থ্য না-থাকে তবে ‘সমব্যথী’ প্রকল্পের সুবিধা আছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।