E-Paper

১০ বছরের পুরনো এসি, পর্যাপ্ত অগ্নি-সুরক্ষা নেই শহরের বহু আবাসনেই

বিপদ বাড়াচ্ছে ১০ বছরের পুরনো শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি)। এমন এসি-র ব্যবহার অবিলম্বে বন্ধের নির্দেশ দিচ্ছে দমকল। গত এক মাসে শহর এবং শহর লাগোয়া একাধিক আবাসনে অগ্নিকাণ্ডের পরে বিষয়টি নতুন করে সামনে আসছে।

নীলোৎপল বিশ্বাস

শেষ আপডেট: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৬:৩৬

—প্রতীকী চিত্র।

রোজই শহরে মাথা তুলছে নতুন নতুন বহুতল। গজিয়ে উঠছে আবাসন। স্বস্তির জীবনের লক্ষ্যে সেখানে ফ্ল্যাট কিনছেন অনেকে। কিন্তু সেই আবাসনে আগুন লাগলে ঘিরে ধরছে চরম আতঙ্ক ও অস্বস্তি। দেখা যাচ্ছে, অধিকাংশ আবাসনেই পর্যাপ্ত অগ্নি-নির্বাপণ ব্যবস্থা নেই। বড় এবং মাঝারি স্তরের আবাসনগুলিতে অগ্নি-সুরক্ষার কিছু বন্দোবস্ত থাকলেও, বেশির ভাগই সময়োপযোগী নয়। যার জেরে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন ফ্ল্যাটে থাকা প্রবীণেরা।

এর মধ্যেই বিপদ বাড়াচ্ছে ১০ বছরের পুরনো শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি)। এমন এসি-র ব্যবহার অবিলম্বে বন্ধের নির্দেশ দিচ্ছে দমকল। গত এক মাসে শহর এবং শহর লাগোয়া একাধিক আবাসনে অগ্নিকাণ্ডের পরে বিষয়টি নতুন করে সামনে আসছে। এ নিয়ে চিন্তায় দমকল দফতর দাবি করছে, বার বার প্রচারেও কাজ হচ্ছে না। ভোটের মুখে কড়া পদক্ষেপ করার ক্ষেত্রেও বুঝে চলার নির্দেশ এসেছে। দমকল দফতরেরই হিসাব, বিপদ মাথায় নিয়েই দিন কাটাচ্ছেন শহরের অন্তত ৮০ শতাংশ আবাসনের বাসিন্দা।

যেমন, মঙ্গলবার আগুন লেগেছিল সাদার্ন অ্যাভিনিউয়ে ১৯৭৮ সালে তৈরি হওয়া একটি আবাসনে। ১০৪টি ফ্ল্যাট থাকা ওই আবাসনে আগুন নেভাতে যাওয়া, কালীঘাট দমকল কেন্দ্রের এক আধিকারিক বলেন, ‘‘অনেক বয়স্ক মানুষ ওখানে থাকেন দেখেছি। কিন্তু, আগুন নেভানোর বন্দোবস্ত সময়োপযোগী নয়। বড় বিপদ ঘটতে পারে।’’ দমকলের এক কর্তার মন্তব্য, ‘‘এই মুহূর্তে শহরের ৮০ শতাংশ আবাসনই এই অবস্থায় রয়েছে। বর্তমানে তিন বছর অন্তর আবাসনের জন্য নো-অবজেকশন সার্টিফিকেট নিতে হয় দমকল থেকে। বেশির ভাগ আবাসন কর্তৃপক্ষই সে পথে হাঁটেন না।’’ এ নিয়ে দমকল দফতরের আর এক কর্তার মন্তব্য, ‘‘পুর বিধি মেনে তৈরি হওয়া আবাসনেরই এই অবস্থা হলে বেআইনি আবাসনগুলির কী হাল, তা ভাবা দরকার।’’ দমকল দফতরের নজরে থাকা এমনই একটি আবাসনের এক বাসিন্দা যদিও বললেন, ‘‘প্রোমোটার জলের রিজ়ার্ভার বানিয়ে দিয়েছিলেন। আর কিছু করা হয়নি। আগুন লাগলে রিজার্ভার দেখিয়ে দেব।’’

‘ডিভিশনাল ফায়ার অফিসার’ (দক্ষিণ কলকাতা) সুদীপ্ত বিট অবশ্য বললেন, ‘‘১৫ মিটারের বেশি উঁচু ভবন হলেই এখন দমকলের ছাড়পত্র নেওয়া বাধ্যতামূলক। এ জন্য নিয়মিত প্রচার চালাচ্ছি। আরও কয়েকটি ব্যাপার মাথায় রাখলে আবাসনে আগুন লাগার ঝুঁকি অনেক কমানো যায়।’’ দমকল দফতর জানাচ্ছে, আবাসনে বেশির ভাগ অগ্নিকাণ্ডের মূলে রয়েছে ১০ বছরের পুরনো এসি। এমন এসি ব্যবহার না করার পাশাপাশি, সারা দিন ধরে এসি না-চালিয়ে রাখতে বলা হচ্ছে। ঘরের একটি বোর্ড থেকে একাধিক বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম না চালানো, মাটিতে বসে রান্না না করা এবং গ্যাস সিলিন্ডার যথাযথ ভাবে ব্যবহারের ব্যাপারে সচেতন হতে বলা হচ্ছে। সেই সঙ্গে ছাদে ওঠা-নামার সিঁড়ি যাতে কোনও ভাবেই অবরুদ্ধ না হয়, তা বিশেষ ভাবে দেখতে বলা হচ্ছে আবাসন কমিটিগুলিকে। মিটার ঘর আবাসনের সিঁড়ির নীচে বা বেরোনোর রাস্তার মুখে না করার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। এক দমকল-কর্তার মন্তব্য, ‘‘বিপদের সময়ে বেরোনোর রাস্তা বন্ধ করে দিলে আর কী বাকি থাকে?’’

দমকলের অধিকর্তা অভিজিৎ পাণ্ডে বলেন, ‘‘এই সব কিছু নিয়েই প্রচার চলে। কলকাতার মতো পুরনো শহরে বহু আবাসনই পুরোটা করে উঠতে পারেনি। দমকল বিভাগ থেকে আরও কড়া পথে এগোনো হবে।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

AC Fire Accident Fire Safety

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy