শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে দক্ষিণ দমদম পুরসভারদুই পুরপ্রতিনিধি ইস্তফা দিয়েছিলেন। যদিও সেই ইস্তফার নেপথ্যে দাবি পূরণ না হওয়া এবং অভিমান রয়েছে বলেই স্থানীয় স্তরে জল্পনা ছিল। এ বার দলীয় নেতৃত্বের কাছেসেই দাবি তুলে ধরেছেন দক্ষিণ দমদমের স্থানীয় নেতৃত্ব। সূত্রের খবর, জেলা নেতৃত্ব সেই সব দাবি বিবেচনা করে দলের উচ্চনেতৃত্বকে জানাবেন। এমনটাই জানা গিয়েছে। যদিও স্থানীয় নেতৃত্বএই বার্তা দেওয়ার কথা প্রকাশ্যে মানেননি।
ঘটনাচক্রে, ইস্তফা দেওয়া দু’জনের এক জন ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের পুরপ্রতিনিধি দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি পুর নির্বাচনে দলের টিকিট না পেয়ে নির্দল প্রার্থী হিসেবে জয়লাভ করেছিলেন। পরে দলে ফেরানো হয় তাঁকে। তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, দক্ষিণ দমদম পুরসভা তিনটি বিধানসভার অংশ নিয়ে গঠিত (রাজারহাট-গোপালপুর,বিধাননগর এবং দমদম)। তার মধ্যে দমদমের ১৭ জন পুরপ্রতিনিধি রয়েছেন। সেখানে চেয়ারম্যান পরিষদেদু’জনের জায়গা হয়েছে। তা-ও আবার একই দফতরকে (জল) দু’টি ভাগে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। ওই ১৭টি ওয়ার্ডের ক্ষেত্রে সরকারিঅনুদান তুলনায় কম মিলেছে। এ জন্য বার বার বলেও কাজ হয়নি। পরিষেবার প্রশ্নে বঞ্চিত হচ্ছে ওই এলাকা।দেবাশিসের দাবি, এই বিষয়ে আগেও দলকে জানানো হয়েছিল।ফের বলা হয়েছে। তাঁর প্রশ্ন, ‘‘বার বার এই এলাকায় জয়ী হওয়ারপুরস্কার কি এটাই? তা হলে পুরপ্রতিনিধিদের ভূমিকা কী?’’
যদিও অন্যদের পাল্টা বক্তব্য, পুরসভার তহবিল থেকে যে সব কাজ হয়েছে, তার তালিকা করা হোক। তা হলেই স্পষ্ট হবে, দক্ষিণদমদম অংশে পরিষেবা দেওয়ার প্রশ্নে কোনও বঞ্চনা হয়েছে কিনা। প্রসঙ্গত, বর্তমান বোর্ডে একাধিক বার দক্ষিণ দমদমের পুরপ্রতিনিধিদের সঙ্গে পুর কর্তৃপক্ষের মতানৈক্য সামনে এসেছে। বিধানসভা নির্বাচন আসন্ন। দলীয় সূত্রের খবর, তার আগে দুই পুরপ্রতিনিধির ইস্তফা, তাঁদের একাংশের দাবি বা অভিমানের খবর জেলা সাংগঠনিক (দমদম ওব্যারাকপুর) স্তরে পৌঁছেছে। সেই কথা সরাসরি জেলা নেতৃত্বে পৌঁছে দিয়েছেন পুরপ্রতিনিধিদের একাংশ।
যদিও প্রকাশ্যে এই বিষয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছেন ইস্তফা দেওয়া দুই পুরপ্রতিনিধি। এক পুরকর্তার দাবি, বারাসতে দলীয় সমাবেশ ঘিরে প্রস্তুতি নিয়ে জেলা নেতৃত্বের সঙ্গে কথা হয়েছে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)