E-Paper

মেট্রোয় শুরু চার দশকের পুরনো বাতানুকূল ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ

বুধবার কলকাতা মেট্রোর নোয়াপাড়া কারশেডে আনুষ্ঠানিক ভাবে ওই কাজের সূচনা করেন মেট্রোর জেনারেল ম্যানেজার শুভ্রাংশুশেখর মিশ্র। কলকাতা মেট্রোয় দমদম থেকে টালিগঞ্জের মধ্যে ভূগর্ভস্থ ১৫টি স্টেশনের জন্য ওই কাজ হচ্ছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১০:৩৮

—প্রতীকী চিত্র।

চার দশকের বেশি পুরনো কলকাতা মেট্রোর উত্তর-দক্ষিণ শাখার ভূগর্ভস্থ স্টেশনগুলির এবং লাগোয়া সুড়ঙ্গের বাতানুকূল ব্যবস্থার খোলনলচে বদলের কাজে হাত দিচ্ছেন মেট্রো কর্তৃপক্ষ। প্রায় ৫৮৫ কোটি টাকা খরচ করে আগামী চার বছরের মধ্যে ওই কাজ সম্পূর্ণ করার কথা। চার দশকের পুরনো উত্তর-দক্ষিণ মেট্রোকে ভবিষ্যতের উপযোগী করতে পরিকাঠামোয় গুরুত্বপূর্ণ বদল হচ্ছে। জলনির্ভর বাতাস ঠান্ডা রাখার যে পুরনো ব্যবস্থা, তা বাতিল করা হবে। সুড়ঙ্গ ঠান্ডা রাখার নতুন প্রযুক্তিতে বাতাসনির্ভর প্রযুক্তি ব্যবহার হবে। ফলে বছরে ১৮ কোটি লিটার ভূগর্ভস্থ জলের সাশ্রয় হওয়া ছাড়াও বিপুল বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে। ফলে বছরে বিদ্যুৎ খাতে অন্তত ১৮ কোটি টাকা বাঁচবে বলে জানান মেট্রোর আধিকারিকেরা।

বুধবার কলকাতা মেট্রোর নোয়াপাড়া কারশেডে আনুষ্ঠানিক ভাবে ওই কাজের সূচনা করেন মেট্রোর জেনারেল ম্যানেজার শুভ্রাংশুশেখর মিশ্র। কলকাতা মেট্রোয় দমদম থেকে টালিগঞ্জের মধ্যে ভূগর্ভস্থ ১৫টি স্টেশনের জন্য ওই কাজ হচ্ছে। প্রথম পর্বে বেলগাছিয়া থেকে পাঁচটি স্টেশন ধরে কাজ শুরু করা হবে। ধাপে ধাপে সুড়ঙ্গ, ভূগর্ভস্থ অন্যান্য স্টেশনে প্রযুক্তি এবং পরিকাঠামো বদলের কাজ হবে।

উত্তর-দক্ষিণ মেট্রোয় এখন জলনির্ভর সুড়ঙ্গ ঠান্ডা করার ব্যবস্থায় ৪৬টি কুলিং টাওয়ার রয়েছে। তার মধ্যে ৩০টির মেয়াদ ফুরিয়েছে। ওই সব যন্ত্র অবিলম্বে বদল করা প্রয়োজন। এ ছাড়াও রবীন্দ্র সরোবর, কালীঘাট এবং চাঁদনি চক স্টেশনের জলনির্ভর বাতানুকূল ব্যবস্থায় ব্যবহৃত যন্ত্রের মেয়াদ আগামী দু’বছরের মধ্যে ফুরিয়ে যাওয়ার কথা। পুরনো ব্যবস্থা অনুযায়ী, ভূগর্ভস্থ স্টেশনগুলির দু’টির মাঝে একটি করে ধরে ১৪টি ১১০ কিলোওয়াটের পাখা দিন-রাত চলে। ওই সব পাখা সুড়ঙ্গের একটি নির্দিষ্ট খোলা অংশে ঠান্ডা বাতাস টেনে ঢোকায়। পুরনো প্রযুক্তির পাখা সুড়ঙ্গের অক্ষ বরাবর বাতাস না পাঠিয়ে একটি নির্দিষ্ট পরিসরের চারদিকে ছড়িয়ে দেয়। এর ফলে বিদ্যুতের খরচ বেশি হয়।

সেখানে নতুন প্রযুক্তির ভ্যারিয়েবল ড্রাইভ যুক্ত পাখা সুড়ঙ্গের অক্ষ বরাবর হাওয়াকে পিছন থেকে টেনে সামনের দিকে ছুঁড়ে দেবে। ফলে সুড়ঙ্গে বায়ু চলাচল বাড়বে এবং বিদ্যুতের খরচ অনেক কম হবে। নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা জুড়বে। আগুন লাগলে যাত্রীদের বেরোনোর পথে বিপরীত দিকে ধোঁয়া টেনে বার করবে স্বয়ংক্রিয় পাখা এবং বিশেষ ডাক্ট। কোথাও আগুন লাগলে তা দ্রুত নির্ণয়ের পাশাপাশি, আগুনের কাছে যাতে বাতাস না পৌঁছয় সেই ব্যবস্থাও থাকবে। বড়সড় অগ্নিকাণ্ডে যাতে সুড়ঙ্গের বায়ু চলাচল সচল রাখা যায়, সে জন্য অগ্নিরোধক বিশেষ কেব্‌ল ব্যবহার করা হচ্ছে। যা আগুনের মধ্যে থেকেও দু’ঘণ্টা স্বাভাবিক ভাবে কাজ করবে বলে জানিয়েছেন ওই কাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থার কলকাতার অধিকর্তা কৌশিক রায়। জাপানের ওই সংস্থা পৃথিবীর গুরুত্বপূর্ণ মেট্রোপথে ওই পাখা বসানোর কাজ করেছে। ওই ব্যবস্থায় প্ল্যাটফর্মে ফলস সিলিং থাকবে না। সুড়ঙ্গের তাপমাত্রা ২৫০ ডিগ্রিতে ঠেকলেও ওই ব্যবস্থা স্বাভাবিক ভাবে কাজ করবে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Metro Railways Kolkata Metro

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy