E-Paper

ট্রান্সফার ফি নিয়ে মিউটেশন আপাতত বন্ধ সল্টলেকে

কাঠা-প্রতি পাঁচ লক্ষ টাকা করে ট্রান্সফার ফি দিয়ে সল্টলেকেআবাসিক জমিতে সম্পত্তি কেনাবেচার যে পদ্ধতি রয়েছে, কলকাতা হাই কোর্টের সিঙ্গল এবং ডিভিশন বেঞ্চে দু’টি মামলার রায়ে তা নাকচ হয়ে গিয়েছে।

প্রবাল গঙ্গোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৭:১৫

— প্রতীকী চিত্র।

সল্টলেকে ট্রান্সফার ফি (হস্তান্তর মূল্য) দিয়ে যে কোনও ধরনের স্থাবর সম্পত্তির মিউটেশন করিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা সাময়িক ভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিল পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর। সূত্রের খবর, আপাতত শুধু রক্তের সম্পর্ক থাকা আত্মীয়েরাই দলিলে নাম পরিবর্তন করতে পারবেন। এমনই একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে দফতরের পক্ষ থেকে। যার জেরে সল্টলেকে জমি, বাড়ি কিংবা কোঅপারেটিভ আবাসনে ফ্ল্যাট কেনার জন্য কাঠা-পিছু পাঁচ লক্ষ টাকা করে ট্রান্সফার ফি পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরে ইতিমধ্যেই যাঁরা জমা দিয়েছেন, তাঁদের এখন দফতরের পরবর্তী ঘোষণার জন্য অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় নেই।

কাঠা-প্রতি পাঁচ লক্ষ টাকা করে ট্রান্সফার ফি দিয়ে সল্টলেকেআবাসিক জমিতে সম্পত্তি কেনাবেচার যে পদ্ধতি রয়েছে, কলকাতা হাই কোর্টের সিঙ্গল এবং ডিভিশন বেঞ্চে দু’টি মামলার রায়ে তা নাকচ হয়ে গিয়েছে। ২০১২ সালে পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর বিজ্ঞপ্তি জারিকরে নিয়ম করেছিল, সল্টলেকে আবাসিক জমিতে কোনও স্থাবর সম্পত্তির নাম পরিবর্তন করতে গেলে কাঠা-প্রতি পাঁচ লক্ষ টাকা করে ট্রান্সফার ফি দিতে হবে।কিন্তু উইলের মাধ্যমে প্রাপ্ত একটি সম্পত্তির মিউটেশনকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া মামলার রায় দিতেগিয়ে ২০১৮ সালে হাই কোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চ ২০১২ সালের ওই বিজ্ঞপ্তি নাকচ করে দেয়। এর পরে ২০২২ সালে ২০১২-র বিজ্ঞপ্তির ধাঁচে আরও একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর। তাতেও কাঠা-প্রতি পাঁচ লক্ষ টাকা ট্রান্সফার ফি-র কথা বলা হয়। ২০২৪ সালে শুরু হওয়া একটি মামলায় হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গত ২৭ জানুয়ারি সেই বিজ্ঞপ্তিটিও নাকচ করে দেয়।

পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর জানিয়েছে, আবাসিক এলাকায় উইল করা, উপহার পাওয়া কিংবা অন্য যে কোনও ধরনের সম্পত্তি, যা কাঠা-প্রতি পাঁচ লক্ষ টাকা ট্রান্সফার ফি-র আওতায় আসে, সেগুলিরমিউটেশন আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। ওই দফতর জানাচ্ছে, ডিভিশনবেঞ্চের রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করবে তারা। তার আগে হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশ মেনেই কাজ হবে। দফতরের আধিকারিকেরা জানান, ২০১৮ সালে যে সম্পত্তি নিয়ে মামলার সূত্রে ২০১২-র বিজ্ঞপ্তি খারিজ হয়েছিল, ২০২২ সালে সেই সম্পত্তির মিউটেশন করে দেওয়া হয়েছে। দফতরের এক পদস্থ আধিকারিকের কথায়, ‘‘সল্টলেকে ৪০ বছর আগে মানুষ ৯৯৯ বছরের লিজ়-চুক্তিতে জমি পেয়েছিলেন। পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর সেই সব জমির মালিক। পরবর্তী কালে দফতরের অনুমতি ছাড়াই বহু জমি-বাড়ি বেআইনি ভাবে হাতবদল হয়েছে। ওই ভাবে যাঁরা জমি-বাড়ি নিয়েছেন, সম্পত্তির দলিল কিন্তু তাঁদের নামে হয়নি। দফতরে এমন বহু আবেদন এসেছে, যেখানে কাগজপত্র খুব সন্দেহজনক। এ সব বিষয় মাথায় রেখেই ফি-রবিনিময়ে ক্রেতার নামে দলিল তৈরি করে দিতে উপায় বার করেছিল সরকার। আমরা সুপ্রিম কোর্টের দিকে চেয়ে আছি।’’ পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘‘আদালতের নির্দেশে মিউটেশন আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে, আমরা দ্রুত সুপ্রিম কোর্টে আপিল করব। কারণ, বিষয়টির সঙ্গে অনেক মানুষের সুবিধা-অসুবিধা জড়িত।’’

এই ঘটনার পরে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। ওয়াকিবহাল মহলের প্রশ্ন, সুপ্রিম কোর্ট যদি হাই কোর্টের নির্দেশই বহাল রাখে, তবে এ পর্যন্ত সল্টলেকে ট্রান্সফার ফি-র বিনিময়ে যত মিউটেশন হয়েছে, সেগুলির বৈধতা নিয়েও কি প্রশ্ন উঠবে? ওইসব সম্পত্তির রেজিস্ট্রেশনের বৈধতাও কি থাকবে?

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Mutation Salt Lake Mutation fees Urban Development

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy