Advertisement
E-Paper

কাজের দিনে মিছিল, ফের রুদ্ধ শহর

রাজনৈতিক ক্ষমতা প্রদর্শনের জেরে ফের স্তব্ধ হল শহর। দীর্ঘ সময় অবরুদ্ধ থাকল ধর্মতলা। যানজট-ভোগান্তি থেকে শুক্রবারও রেহাই পেলেন না শহরবাসী। সৌজন্যে কংগ্রেসের ডাকা নবান্ন অভিযান।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ০১:৫২
নড়বে কখন? মঙ্গলবার, বেন্টিঙ্ক স্ট্রিটে। ছবি: সুদীপ্ত ভৌমিক।

নড়বে কখন? মঙ্গলবার, বেন্টিঙ্ক স্ট্রিটে। ছবি: সুদীপ্ত ভৌমিক।

রাজনৈতিক ক্ষমতা প্রদর্শনের জেরে ফের স্তব্ধ হল শহর। দীর্ঘ সময় অবরুদ্ধ থাকল ধর্মতলা। যানজট-ভোগান্তি থেকে শুক্রবারও রেহাই পেলেন না শহরবাসী। সৌজন্যে কংগ্রেসের ডাকা নবান্ন অভিযান।

গত সপ্তাহেই কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি মঞ্জুলা চেল্লুর কাজের দিনে মিছিল করার বিরুদ্ধে এক জনস্বার্থ মামলায় স্বীকৃত রাজনৈতিক দলগুলিকে যুক্ত করার নির্দেশ দেন। তার পরেও এ দিন ফের রাজনৈতিক দলের ডাকা বিক্ষোভে অবরুদ্ধ থাকল শহরের একাংশ।

সবং-এর কলেজে ছাত্র হত্যা, কেতুগ্রামে সংখ্যালঘু ছাত্রী খুন এবং রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে মঙ্গলবার নবান্ন অভিযানের ডাক দিয়েছিলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী। অভিযান আটকাতে সকাল ১০টার পর থেকেই থেকেই রানি রাসমণি অ্যাভিনিউ এবং ডাফরিন রোডে ব্যারিকেড তৈরি করে পুলিশ। ফলে সকাল থেকে ওই দুই রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এর জেরে এসএন ব্যানার্জি রোড, জহরলাল নেহেরু রোড-সহ দক্ষিণ কলকাতার বিভিন্ন রাস্তাও যানজট হয়।

অবস্থা আরও শোচনীয় হয় রানি রাসমণি অ্যাভিনিউয়ে কংগ্রেসের সভা শুরুর পরে। কংগ্রেস সর্মথকদের আটকাতে কিছু রাস্তা পুরো বন্ধ করা হয়। ত্রিস্তরীয় ব্যারিকেড, জলকামান, কাঁদানে গ্যাস নিয়ে তৈরি ছিল পুলিশও। ডাফরিন রোডে স্টিলের ব্যারিকেড দিয়ে বন্ধ করা হয় রাস্তা। দুপুর দুটো নাগাদ অস্থায়ী মঞ্চ থেকে অধীরবাবু হঠাৎ ঘোষণা করেন, “চলুন রাস্তা অবরোধ করি।”

এর পরেই কয়েক হাজার সর্মথক ডোরিনা ক্রসিংয়ে পৌঁছে অবরোধ শুরু করেন। কংগ্রেস সাংসদ মৌসম বেনজির নুর, বিধায়ক মনোজ চক্রবর্তী-সহ অন্য নেতাদের নিয়ে রাস্তায় বসে পড়েন অধীরবাবু। অভিযোগ, সমর্থকদের একাংশ পুলিশের দিকে ইট ছোড়ে। ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিও হয় তাঁদের।

পুলিশ জানায়, অবরোধে জওহরলাল নেহরু রোড, চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউ, লেনিন সরণি, এস এন ব্যনার্জি রোড, বি বি গাঙ্গুলি স্ট্রিট, কলেজ স্ট্রিট, স্ট্র্যান্ড রোড-সহ বিস্তীর্ণ এলাকা কার্যত রুদ্ধ হয়ে যায়। পুলিশের দাবি, বিভিন্ন রাস্তায় গাড়ি ঘুরিয়ে অবস্থা সামলানো গিয়েছে। এ দিন কয়েক হাজার পুলিশকর্মীকে মোতায়ন করা হয়েছিল। সবচেয়ে বেশি পুলিশকর্মী ছিলেন ধর্মতলা এবং রানি রাসমণি অ্যাভিনিউয়ে। সেখানে ছিলেন কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (৩) আর শিবকুমার-সহ পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তারা।

এত পুলিশ থাকা সত্ত্বেও কেন দেড় ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকল শহরের প্রাণকেন্দ্র? লালবাজার সূত্রে খবর, প্রশাসনের উপর মহল থেকে জোর করে অবরোধ তুলতে নিষেধ করা হয়। যুগ্ম কমিশনার (সদর) রাজীব মিশ্র বলেন, ‘‘বিক্ষোভকারীদের বোঝানোর চেষ্টা করছিলাম। তাতেই সময় লেগেছে। সমঝোতায় পৌঁছনোর পরেই তাঁরা রাস্তা থেকে সরে যান।’’

এ দিনের নবান্ন অভিযানকে ঘিরে নিরাপয়ত্তা মুড়ে দেওয়া হয়েছিল হাওড়ার নবান্নমুখী বিভিন্ন রাস্তা। ফলে হাওড়ার বিভিন্ন রাস্তাতেও যানজটে পড়েন সাধারণ মানুষ। হাওড়া পুলিশ সূত্রের খবর, সাঁতরাগাছিতে বিক্ষোভকারীদের গাড়ি আটকে দেওয়ার ফলে কোনা এক্সপ্রেসওয়ে যানজট হয়। অন্য দিকে ফোরশোর রোড দিয়ে আসা নবান্নমুখী গাড়ি ঘুরিয়ে দেওয়া হয় জিটি রোড দিয়ে।

congress nabanna march nabanna march kolkata stopped kolkata halted adhir choudhury speech congress nabanna
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy