Advertisement
E-Paper

রসনা তৃপ্তিতে শহরে গুগলির রকমারি পদ

পুকুর, ডোবায় এক বার জাল ফেললেই মাছের সঙ্গে ঝাঁকে ঝাঁকে উঠে আসে গুগলি। কত জনই বা তা চেখে দেখে। যদিও বীরভূম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়ায় গুগলি পোস্তর স্বাদ অনেকের পরিচিত। এ বার কলকাতাবাসীর রসনা তৃপ্তিতে গুগলির দোপিঁয়াজি, গুগলি কষার আয়োজন করেছে রাজ্য মৎস্য উন্নয়ন নিগম।

অনুপ চট্টোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: ১০ এপ্রিল ২০১৭ ০০:৪২
জিভে-জল: এমন পদই বিকোচ্ছে দেদার। নিজস্ব চিত্র

জিভে-জল: এমন পদই বিকোচ্ছে দেদার। নিজস্ব চিত্র

পুকুর, ডোবায় এক বার জাল ফেললেই মাছের সঙ্গে ঝাঁকে ঝাঁকে উঠে আসে গুগলি। কত জনই বা তা চেখে দেখে। যদিও বীরভূম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়ায় গুগলি পোস্তর স্বাদ অনেকের পরিচিত। এ বার কলকাতাবাসীর রসনা তৃপ্তিতে গুগলির দোপিঁয়াজি, গুগলি কষার আয়োজন করেছে রাজ্য মৎস্য উন্নয়ন নিগম। নলবনের ফুডপার্কে মাছের নানা পদের সঙ্গে সাজানো গুগলির টিক্কা কিনতে হাজির হচ্ছেন অনেকেই। নিগমের ম্যানেজিং ডিরেক্টর সৌম্যজিৎ দাস জানান, মাত্র দেড় মাসে প্রায় সাড়ে ৪ লক্ষ টাকা আয় হয়েছে গুগলির নানা পদ বিক্রি করে। চাহিদার কথা ভেবে গুগলির স্যুপও বানানো হয়েছে।

এমনিতে গুগলি কিনতে কোনও দাম দিতে হয় না। নিগম কর্তার কথায়, রাজ্যে অনেক জলাশয় রয়েছে তাদের। সেখানে মাছ তোলার সময় উঠে আসে গুগলি। গুগলির খোল থেকে তার মাংস বের করতেই খরচ হয়। তিনি জানান, সুন্দরবন, পশ্চিমাঞ্চলের একাধিক জেলা এবং উত্তর ২৪ পরগনার কিছু এলাকায় স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত মহিলাদের সেই কাজে যুক্ত করা হয়েছে। খোসা ছাড়ানোর জন্য এক কিলোগ্রাম গুগলি পিছু ৬০ টাকা করে মজুরি দেওয়া হয় তাঁদের। গ্রামের গরিব মহিলাদের কর্মসংস্থানের সুযোগও মেলে গুগলির খোলা ছাড়ানোর কাজে।

রাজ্যের মৎস্যমন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিংহ নিজেও বীরভূমের বাসিন্দা। পুকুর, জলাশয় থেকে পাওয়া গুগলি থেকেও যে আয় হতে পারে তা বুঝেই নিগমের কর্তাদের এ ব্যাপারে উৎসাহী করেছেন। সৌম্যজিৎবাবু জানান, নলবনে প্রতিদিন গুগলির চপ, কষা, দোপিঁয়াজি এবং টিক্কা ছাড়াও কাঁচা গুগলি প্যাকেটে বিক্রি করা হয়। নবান্নের একাধিক শীর্ষকর্তা নিয়মিত ফুডপার্কে গিয়ে গুগলি কেনেন। নিউ বালিগঞ্জের বাসিন্দা দিল্লি পাবলিক স্কুলের ছাত্রী ঋতচেতা রায়ের খুব পছন্দের পদ গুগলির দোপিঁয়াজি।

কতটা খাদ্য গুণ রয়েছে গুগলিতে?

নিগম কর্তা সৌম্যজিৎবাবু বলেন, ‘‘ডাক্তারদের কাছে শুনেছি গুগলি খেলে দৃষ্টিশক্তি ভাল থাকে।’’ কত দাম গুগলির নানা পদের? নিগম সূত্রের খবর, স্যুপের দাম প্লেট পিছু ৬০ টাকা। দোপিঁয়াজি ৪০ টাকা প্লেট। আর এক প্লেট গুগলির চপ মিলবে ১০ টাকায়। শুধু নলবনে নয়, শহরের বিভিন্ন মেলায় গুগলির পদ বিক্রির ব্যবস্থা করছে মৎস্য নিগম। রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী পূর্ণেন্দু বসুও বিভিন্ন কৃষিমেলায় গুগলির স্টল করতে উদ্যোগী হচ্ছেন। এ দিন বিধান শিশু উদ্যানে জৈব কৃষিমেলার অনুষ্ঠানেও গুগলি বিক্রি হয়েছে বলে জানায় নিগম কতৃর্পক্ষ।

Oyster Food Park Nalban
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy