প্রায় এক বছর পর শিবপুর ফেরিঘাটে নতুন জেটি তৈরির কাজ শুরু হল। গত এপ্রিলের ভরা কোটাল বানের ধাক্কায় জেটিটি ভেঙে যায়। তার পর থেকেই বন্ধ শিবপুর থেকে চাঁদপাল লঞ্চ চলাচল। ফলে সমস্যায় পড়েন জলপথে কলকাতা থেকে নবান্নে আসা কয়েক হাজার নিত্যযাত্রী।
রাজ্য পরিবহণ দফতর সূত্রে খবর, জেটি তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে হুগলি রিভার ব্রিজ কমিশনারর্স বা এইচআরবিসিকে। ব্যয় বরাদ্দ হয়েছে দেড় কোটি টাকা। সংস্থার দাবি, এপ্রিলেই শেষ হবে জেটির কাজ।
রাজ্যের প্রধান প্রশাসনিক দফতর নবান্নে উঠে আসার পরে জলপথে যোগাযোগের উন্নতিতে ফেরিঘাটগুলি সংস্কারের নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই মতো বছর দুই আগে সেচ দফতর ১ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা খরচ করে শিবপুর ফেরিঘাটের সংস্কারও করেছিল। কিন্তু পরপর দু’বছর বানের ধাক্কায় জেটিটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। গত এপ্রিলে লোহার শিকল ছিঁড়ে ভেসে যায় পন্টুন ও গ্যাংওয়ে।
দীর্ঘ দিন লঞ্চ বন্ধ থাকায় যাত্রীরা শিবপুর লঞ্চঘাট যাত্রী কমিটি গঠন করে আন্দোলন করেন। রাজ্য পরিবহণ দফতরের বিশেষ সচিব আলাপন বন্দ্যোপাধায়ের সঙ্গে দেখা করে অবিলম্বে চলাচল শুরুর আবেদনও করেন। স্মারকলিপি দেওয়া হয় হুগলি নদী জলপথ পরিবহণ সংস্থার সম্পাদক ও হাওড়া পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলর অনুপ চট্টোপাধ্যায়কে।
কেন এত দেরি? পরিবহণ দফতরের এক কর্তা বলেন, ‘‘একটা জেটি বারবার ভাঙছে কেন? এর উত্তর খুঁজতে জেটির কারিগরি, গঙ্গার জোয়ার-ভাটা প্রভৃতি পরীক্ষা করতে হয়েছে। এ কারণেই সময় লেগেছে।’’ হুগলি নদী জলপথ পরিবহণ সমবায় সমিতির পক্ষে জেটি ও লঞ্চের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা শ্যামল নাথ বলেন, ‘‘গঙ্গার জোয়ার-ভাটার হাইড্রোগ্রাফিক পরীক্ষার পর ঠিক হয়েছে জেটির কংক্রিটের রাস্তা আরও ২৫ ফুট গঙ্গার দিকে বাড়ানো হবে। যাতে কোটালের বানে ক্ষতি না হয়।’’
এইচআরবিসির ভাইস চেয়ারম্যান সাধন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘গ্যাংওয়ে ও পন্টুন তৈরির কাজ চলছে। বাকি কংক্রিটের কাজও শুরু হবে। এপ্রিলেই চালু হবে জেটি।’’