E-Paper

বিরাটির ভস্মীভূত যদুবাবুর বাজার নতুন করে তৈরি শুরু

ঘটনাচক্রে বিরাটি রেল স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় গত নভেম্বর মাস থেকে ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে ছোট-বড় তিনটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে গিয়েছে। ২৯ নভেম্বর বিরাটির মধ্য নীলাচলে রেললাইনের নিকটবর্তী এলাকায় আগুনের গ্রাসে বাসস্থান ও দোকান মিলিয়ে ছয়টি ঘর ভস্মীভূত হয়ে গিয়েছিল।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০২ মার্চ ২০২৬ ০৯:২৩

—প্রতীকী চিত্র।

পুড়ে যাওয়া বিরাটির যদুবাবুর বাজার নতুন করে তৈরির কাজ শুরু করল উত্তর দমদম পুরসভা। সম্প্রতি সেই কাজের পরিকাঠামো তৈরিও শুরু হয়েছে। ব্যবসায়ীদের জন্য সেখানে তৈরি হচ্ছে নতুন বাজার। সূত্রের খবর, এ বারের বাজার তৈরিতে সব থেকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে অগ্নি সুরক্ষার দিকে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলে বাজার পর্যন্ত যাতে সহজে দমকলের গাড়ি যাতায়াত করতে পারে, সেই রকম পরিসর রাখা এবং অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা রাখার পরিকল্পনা থাকছে বলে জানিয়েছেন পুর কর্তৃপক্ষ।

ঘটনাচক্রে বিরাটি রেল স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় গত নভেম্বর মাস থেকে ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে ছোট-বড় তিনটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে গিয়েছে। ২৯ নভেম্বর বিরাটির মধ্য নীলাচলে রেললাইনের নিকটবর্তী এলাকায় আগুনের গ্রাসে বাসস্থান ও দোকান মিলিয়ে ছয়টি ঘর ভস্মীভূত হয়ে গিয়েছিল। এর ঠিক এক মাস পরে ২৯ ডিসেম্বর গভীর রাতে ভস্মীভূত হয়ে যায় যদুবাবুর বাজার। সেই ঘটনায় দুই শতাধিক দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চলতি বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি ফের স্টেশন লাগোয়া দু’টি দোকান আগুনে পুড়ে যায়।

অল্প সময়ের মধ্যে বার বার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিরাটি স্টেশন সংলগ্ন এলাকা কার্যত ঘিঞ্জি। দিনরাত অসংখ্য মানুষের যাতায়াত লেগেই থাকে। স্টেশনের কাছেই উড়ালপুল রয়েছে। তার নীচের রাস্তার পরিসর অনেকটাই কম। রাস্তার দু’ধারে, উড়ালপুলের নীচে এবং স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় দোকান-বাজার বসে। সেখানেই আগুনে রান্না করে খাবার বিক্রি হয়। স্থানীয়দের একাংশের কথায়, গ্যাস সিলিন্ডার কিংবা বৈদ্যুতিক তারের থেকে অগ্নিকাণ্ডের মতো বিপদের আশঙ্কা থাকে। যে হেতু পুরনো এই জনপদ, অপরিকল্পিত ভাবে গড়ে উঠেছে, তাই অগ্নি সুরক্ষার ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার প্রয়োজন।

উত্তর দমদমের পুর কর্তৃপক্ষ অবশ্য জানিয়েছেন, এই সমস্যার দিকটি তাঁরা গুরুত্ব সহকারে দেখছেন। ইতিমধ্যে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথাও বলা হয়েছে। আগুনে ক্ষতিগ্রস্তদের সতর্ক করে গ্যাসের সিলিন্ডার কিংবা কাঠকয়লার বদলে ইনডাকশনের মতো জিনিসে আগুন ছাড়াই রান্না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

যদুবাবুর বাজারের ক্ষেত্রে সেই সব দিকেই বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। পুরসভা সূত্রের খবর, বাজারের পরিকাঠামো তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। হাজির ছিলেন স্থানীয় বিধায়ক তথা মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য।

উত্তর দমদম পুরসভার চেয়ারম্যান বিধান বিশ্বাস জানিয়েছেন, অগ্নি সুরক্ষার কথা মাথায় রেখেই যদুবাবুর বাজারকে মডেল বাজার হিসেবে তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছে। মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য তাঁর বিধায়ক কোটার তহবিল থেকে টাকা অনুমোদন করেছেন। জলের ব্যবস্থা, গুদাম, অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থাও থাকবে নতুন বাজারে। এর পাশাপাশি, বিরাটি স্টেশন সংলগ্ন দোকান-বাজারের ক্ষেত্রেও অগ্নি সুরক্ষার বিষয়ে ভাবনাচিন্তা করা হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের এই বিষয় নিয়েও সচেতন করা হচ্ছে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

North Dum Dum Municipality Fire market Birati

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy