E-Paper

পেনশন থেকে চেক, স্টেট ব্যাঙ্কের তিনটি বিভাগ সরলে পরিষেবায় ধাক্কা খাওয়ার আশঙ্কা

সূত্রের খবর, এ রাজ্যে সরকারি পেনশনের বড় অংশই স্টেট ব্যাঙ্কের বিভিন্ন শাখা থেকে বণ্টন হয়। কোনও কারণে পেনশন আটকে গেলে সংশ্লিষ্ট শাখা বহু ক্ষেত্রে তার কারণ গ্রাহককে ঠিকমতো ভাবে বলতে পারে না। সে ক্ষেত্রে তাঁদের পেনশন কেন্দ্রে যোগাযোগ করতে বলা হয়।

প্রজ্ঞানন্দ চৌধুরী

শেষ আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬ ০৭:৩৬

— ফাইল চিত্র।

রাজ্য থেকে স্টেট ব্যাঙ্কের যে তিনটি বিভাগ অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে, তাতে গ্রাহক পরিষেবা ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সূত্রের খবর, এতে বিশেষত সমস্যায় পড়তে পারেন পেনশনভোগীদের একাংশ, এ রাজ্যে প্রতি মাসে যাঁদের পেনশন স্টেট ব্যাঙ্কের মাধ্যমে বণ্টন হয়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ব্যাঙ্কে অ্যাকাউন্ট খোলা ও চেক ক্লিয়ারিংয়ের ক্ষেত্রেও সমস্যার মুখে পড়তে পারেন গ্রাহকেরা।

চলতি মাসেই কলকাতা থেকে স্টেট ব্যাঙ্কের বেঙ্গল সার্কলের (পশ্চিমবঙ্গ, সিকিম এবং আন্দামান ও নিকোবর) চেক ক্লিয়ারিং বা সেন্ট্রাল চেক প্রসেসিং সেন্টার, অ্যাকাউন্ট ওপেনিং বা লায়াবিলিটি সেন্ট্রাল প্রসেসিং সেন্টার এবং পেনশন অথবা সেন্ট্রাল পেনশন প্রসেসিং সেন্টার সরছে। ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্ট খোলা, চেক ক্লিয়ারিং ও পেনশনের ব্যাক অফিসের কাজ ওই তিন বিভাগ থেকেই হয়।

সূত্রের খবর, এ রাজ্যে সরকারি পেনশনের বড় অংশই স্টেট ব্যাঙ্কের বিভিন্ন শাখা থেকে বণ্টন হয়। কোনও কারণে পেনশন আটকে গেলে সংশ্লিষ্ট শাখা বহু ক্ষেত্রে তার কারণ গ্রাহককে ঠিকমতো ভাবে বলতে পারে না। সে ক্ষেত্রে তাঁদের পেনশন কেন্দ্রে যোগাযোগ করতে বলা হয়। পেনশনপ্রাপক নিজেই সরাসরি সেখানে গিয়ে সমস্যার সমাধান করে নিতে পারেন। এ ছাড়াও পেনশনের হার পরিবর্তন হলে, মূল প্রাপক মারা গেলে তাঁর স্ত্রী বা স্বামীর নামে পেনশন স্থানান্তিরত করার ক্ষেত্রে ঝামেলা হলেও এই বিভাগে এসে সমস্যা মেটাতে পারেন। সেই গুরুত্বপূর্ণ বিভাগটি রাজ্য থেকে চলে গেলে স্বশরীরে হাজির হয়ে সমস্যা মেটানোর সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবেন মানুষ। উল্টে প্রবীণদের হয়রানি বাড়বে।

চেক ক্লিয়ারিংয়ের সময়েও বহু ক্ষেত্রে গ্রাহকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হয় প্রসেসিং কেন্দ্রের কর্তাদের। অনেক সময়ে বেশি অঙ্কের টাকার চেক ক্লিয়ারিংয়ের ক্ষেত্রে তাঁরা গ্রাহকের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে চান যে তিনিই চেকটি দিয়েছেন (ইস্যু) কি না। ভিন্ রাজ্যে সেই বিভাগ চলে গেলে ভাষার কারণে গ্রাহকের সঙ্গে কথাবার্তা বলায় সমস্যা হতে পারে বলে দাবি সংশ্লিষ্ট মহলের। অনেক ক্ষেত্রে আবার অ্যাকাউন্টে টাকা থাকা সত্ত্বেও সই অমিল বা চেক ভাঁজ করার ফলে ক্লিয়ারিং আটকে যেত পারে। সেই ব্যাঙ্কের শাখা ঠিকমতো কারণ জানাতে না পারলে গ্রাহক ওই বিভাগে যোগাযোগ করে সমস্যা মেটাতে পারেন। এ বার সেই সুবিধা থাকবে না।

একই ভাবে অ্যাকাউন্ট খোলার পরে তৈরি হওয়া সমস্যা মেটানোর জন্য সরাসরি সংশ্লিষ্ট বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগও হারাবেন এ রাজ্যের মানুষ।

বিভাগ তিনটি যাতে কলকাতা থেকে সরিয়ে না নেওয়া হয়, তার জন্য হস্তক্ষেপের আর্জি জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে চিঠি দিয়েছে ব্যাঙ্ক বাঁচাও দেশ বাঁচাও মঞ্চ। তার যুগ্ম আহ্বায়ক সৌম্য দত্ত বলেন, ‘‘রাজ্য থেকে একের পর এক বিভাগ তুলে নিচ্ছেন স্টেট ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ। ক্রমশ বেঙ্গল সার্কলের গুরুত্ব কমানো হচ্ছে। এটা যাতে না হয়, তার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়ে চিঠি দিয়েছি।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

SBI State Bank of India

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy