E-Paper

দুই দেশের সীমান্তে রাত পার, অপেক্ষায় রয়েছেন ১২ জন

শুক্রবার ভোরে করিমপুরে হোগলবেড়িয়ার রানিনগর গ্রাম আর বাংলাদেশের কুষ্টিয়া জেলার বিলগাথিয়ার মধ্যে জ়িরো পয়েন্টের কাছে ওই ১২ জনকে দেখা যায়।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬ ০৮:৩২
করিমপুরে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার কাছে অপেক্ষা। নিজস্ব চিত্র

করিমপুরে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার কাছে অপেক্ষা। নিজস্ব চিত্র

ভারতের কাঁটাতারের বেড়ার ও-পারে ঘাসঝোপ ভরা মাঠ। তার পরে মাথাভাঙা নদী। তার ও পারে বাংলাদেশের দিকে অপেক্ষায় ১২ জন। চার জন পুরুষ, চার মহিলা আর চার নাবালক। প্রতিবেশী দুই দেশের কেউই তাঁদের ঢুকতে দিতে রাজি নয়।

বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষী বিজিবি (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ)-র দাবি, অনুপ্রবেশকারী না হওয়া সত্ত্বেও ভারত তাদের ঠেলে সে দেশে ঢুকিয়ে দেওয়ার (পুশ ব্যাক) চেষ্টা করছে। তাঁদের ফিরিয়ে নিতে হবে। তা অস্বীকার করে বিএসএফ দাবি করছে, ওই ১২ জনকে আদৌ ভারত থেকে পাঠানো হয়নি, কাজেই ফেরত নেওয়ার প্রশ্ন আসছে না। শুক্রবারের মতো শনিবারও নদিয়ার সীমান্তে দুই বাহিনী এই নিয়ে বৈঠক করে। কিন্তু দু’পক্ষই তাদের অবস্থানে অনড় থাকায় রফাসূত্র বেরোয়নি।

শুক্রবার ভোরে করিমপুরে হোগলবেড়িয়ার রানিনগর গ্রাম আর বাংলাদেশের কুষ্টিয়া জেলার বিলগাথিয়ার মধ্যে জ়িরো পয়েন্টের কাছে ওই ১২ জনকে দেখা যায়। তাঁদের কাছে কোনও দেশেরই পরিচয়পত্র ছিল না। বাংলাদেশের প্রাগপুর সীমান্তের ১৪৮/৩-এস সীমান্ত পিলার লাগোয়া এলাকায় বিজিবি তাদের আটকায় এবং ভারতে পাঠানোর চেষ্টা করে। কিন্তু বিএসএফ দাবি করে, তারা বাংলাদেশেরই সীমান্তবর্তী গ্রামের বাসিন্দা এবং কৌশলে তাঁদের ভারতে ঢোকানোর চেষ্টা হচ্ছে। এই দড়ি টানাটানিতে সন্ধ্যা হয়ে যায় এবং‌ বিএসএফ কাঁটাতারের বেড়ার গেট বন্ধ করে দেয়।

গত ৬ জুনও করিমপুর সীমান্তেই এ রকম কয়েক জনকে দুই দেশের মাঝে বসতিহীন ‘নো ম্যান’স ল্যান্ড’-এ বসে থাকতে দেখা গিয়েছিল। পরের দিন সকালে সেই জায়গায় তাদের আর দেখা যায়নি। কিন্তু এ বার রাত পেরোলেও ১২ জনকে একই জায়গায় দেখা গিয়েছে। তবে সূত্রের দাবি, শুক্রবার সূর্যাস্তের পরে তাদের বাংলাদেশের সীমান্ত লাগোয়া একটি গ্রামে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে তাদের খাওয়ার ব্যবস্থাও করা হয়। ভোরে আবার সীমান্তে ফেরানো হয়েছে।

বিএসএফের বক্তব্য, বিজিবি যেহেতু ১২ জনকে ভারতে পাঠানোর দাবিতে অনড় রয়েছে, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হচ্ছে। যেমন নির্দেশ আসবে, সেই মতো পদক্ষেপ করা হবে। তবে একাধিক বার চেষ্টা করেও বিএসএফের ডিজি (দক্ষিণবঙ্গ) তরণী কুমারের ফোনে যোগাযোগ করা যায়নি।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Nadia

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy