E-Paper

ভোটের রাজনীতি থেকে নজর সরিয়ে কি দখলমুক্ত হবে খালপাড়?

বহু টাকা খরচ করে খালের সংস্কার করা হয়। কিন্তু তার পরেও খুব তাড়াতাড়ি নাব্যতা নষ্ট হয়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে খালে সব ধরনের আবর্জনা ফেলার অভিযোগ ওঠে।

প্রবাল গঙ্গোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: ২৫ মে ২০২৬ ০৬:২৮
অবরুদ্ধ: টালা সেতু থেকে খালের ছবি।

অবরুদ্ধ: টালা সেতু থেকে খালের ছবি। ছবি: স্বাতী চক্রবর্তী।

পুরনো রোগ এ বার কি সারবে?

কলকাতা তো বটেই রাজ্যের সিংহভাগ খালের পাড় দখল হয়ে রয়েছে বেআইনি দখলদারদের বসতিতে। পরিস্থিতি এমনই যে অনেক জায়গায় সেই কারণে খালের সংস্কারেও বিঘ্ন ঘটে। বাম কিংবা তৃণমূল— দুই সরকারই খালের দূষণের অন্যতম কারণ পাড়ের বাসিন্দাদের নোংরা করার বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছিল। কিন্তু ভোটের রাজনীতির কারণে বসতি সরিয়ে শহর ও রাজ্যের নিকাশির পথকে দখলমুক্ত করার সাহস কেউই দেখাতে পারেনি, এমনই অভিযোগ বার বার উঠেছে।

বহু টাকা খরচ করে খালের সংস্কার করা হয়। কিন্তু তার পরেও খুব তাড়াতাড়ি নাব্যতা নষ্ট হয়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে খালে সব ধরনের আবর্জনা ফেলার অভিযোগ ওঠে। বাতিল আসবাব-বিছানা, পশুর দেহ, মানব-বর্জ্য, প্লাস্টিক-সহ পরিবেশ দূষণকারী সব ধরনের বস্তু খালে ফেলা নিয়ে বহু বার সরকারি স্তরে আলোচনা হয়েছে। এ সবের পিছনে খালপাড়ের বেআইনি বসতির ভূমিকা নিয়েও বার বার প্রশ্নের মুখে পড়েছে পুরনো সরকার। তারা দাবি করেছে, খালের প্রতি যত্নশীল হতে তারা খালপাড়ের বাসিন্দাদের মধ্যে প্রচার চালাবে। বাস্তবে প্রতি বারই যে চিত্র উঠে এসেছে, তা হল বেড়াদিলেও তা কেটে ফেলে, সেচ দফতরের বোর্ড উপড়ে ফেলে খালপাড় দখল হয়ে গিয়েছে।

যে কারণে প্রতি বছরই বৃষ্টির পরিমাণ বাড়লে বহু এলাকায় খালের জল উপচে প্লাবিত করে সংলগ্ন এলাকা। শহরের বর্জ্য জল খালে নামতে পারে না। গত বছর এক রাতের বিপুল বৃষ্টিপাতে কলকাতায় বন্যা হয়েছিল। চরম দুর্ভোগে পড়েনমানুষ। বিপুল সংখ্যক গাড়ি বিকল হয়ে যায়। শহরের রাস্তায় এমন জলোচ্ছ্বাসের বিবিধ কারণের একটি অবশ্যই খালপাড়বাসীর খাল দূষিত করার প্রবণতা।

উত্তর কলকাতা কিংবা দক্ষিণ শহরতলির মধ্যে দিয়ে যাওয়া খালগুলির পাশ দিয়ে ঘোরাফেরা করলেই চোখে পড়বে সেই সব অস্থায়ী কাঠামোয় কোথাও কোথাও দোতলা ঘরও উঠেছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই খালের উপরে তৈরি হয়ে রয়েছে বস্তায় ঘেরা বাঁশের কাঠামোর শৌচাগার।

সম্প্রতি রাজ্যের নতুন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়েছেন, ৮ জুন রাজ্যে বর্ষা প্রবেশ করবে, এমনটা ধরে নিয়ে দুর্যোগ মোকাবিলার কাজ শুরু হচ্ছে। সেচ দফতর, কলকাতা পুরসভা, ডিভিসি, কেন্দ্রীয় জল কমিশনের মতো সংস্থার সঙ্গে বৈঠকও করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই সময়ে বাঁধের স্বাস্থ্য খতিয়ে দেখা একটি জরুরি কাজ।

অতীতে দেখা গিয়েছে, বাঁধের উপরে অবৈধ নির্মাণ, বেআইনি ভাবে বাঁধে পাইপ ঢুকিয়ে নদীর জল চাষের খেতে নিয়ে যাওয়ায় বাঁধের ক্ষতি হয়েছে। জবর দখলের কারণে মেরামতির কাজ ঠিক মতো না হওয়ায় বর্ষায় বাঁধ ভেঙে এলাকা ভেসে গিয়েছে। সরকারি আলোচনায় এ সব নিয়ে বছরের পর বছর আলোচনা হয়েছে ঠিকই, কিন্তু ভোট কমার আশঙ্কায় এই ধরনের বেআইনি কাজ ঠেকানো যায়নি।

কলকাতার তিলজলায় একটি কারখানায় আগুন লেগে প্রাণহানির পরে বেআইনি নির্মাণ নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগী হয়েছে নতুন সরকার। যে সব জায়গায় বেআইনি নির্মাণ ভাঙা হয়েছে, সেখানে বেআইনি কর্মকাণ্ড ভোটের স্বার্থে পুরনো শাসকদল প্রশ্রয় দিয়েছে বলেই নতুন সরকারের অভিযোগ। সূত্রের খবর, কোথাও কোথাও অধিগ্রহণ করা জমির নাম বদল করে নিজের নামে করেনি সেচ দফতর। ফলে বেআইনি দখলদার সরাতে খেসারত দিতে হয়েছে দফতরকে। কিছু এলাকায় সেই কাজে গিয়ে স্থানীয় ভাবে চরম হেনস্থায় পড়েছেন সেচ দফতরের আধিকারিকেরা।

রুবির খাল।

রুবির খাল। ছবি: স্বাতী চক্রবর্তী।

বাম আমলে গঙ্গার জল কেষ্টপুর খালে ঢুকিয়ে সেই খালে লঞ্চ চালানো শুরু হয়েছিল। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের দিনে গঙ্গা থেকে নিউ কাট খাল ধরে চলার সময়ে লঞ্চের প্রপেলরে টায়ার জড়িয়ে যায়। নিউ কাট খালেই আটকে পড়া লঞ্চ আর কেষ্টপুর খালে যেতে পারেনি।

রাজ্যের নতুন সরকার খালপাড়ের দখলমুক্ত করে শহরের নিকাশি পথকে কত দিনে নতুন দিশা দেখায়, নজর এখন সে দিকেই।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Canal KMC

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy