E-Paper

খালপাড়ের তেতলা বাড়ি থেকে উদ্ধার কোটি টাকার মাদক! গ্রেফতার এক

ধৃতকে বৃহস্পতিবার বারাসত আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছেন গোয়েন্দারা। এক তদন্তকারী জানান,কলকাতা পুলিশ এলাকার ওই বস্তির বাড়িতে বিভিন্ন জায়গা থেকে মাদক কিনতে আসেন তরণ-তরুণীরা।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ ১০:৪০

—প্রতীকী চিত্র।

খালপাড়ের বস্তিতে আস্ত তেতলা বাড়ি! সেখানে রয়েছে ন’টি ঘর। তার মধ্যে একটি আবার আসবাবপত্রে ঠাসা— ফ্রিজ থেকে শুরু করে দামি আসবাব, কী নেই! ওই ঘরেরই একটি শো-কেসে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার করা হয়েছে এক কেজি ৩০০ গ্রাম ওজনের হেরোইন। যার বাজারমূল্য প্রায় এক কোটি টাকা। সূত্রের খবর, বুধবার বিকেলে উল্টোডাঙা থানা এলাকার ক্যানাল ওয়েস্ট রোডের ওই বস্তির বাড়িটিতে তল্লাশি চালিয়ে ওই মাদক উদ্ধার করেছে রাজ্য পুলিশের এসটিএফ। শো-কেসের ভিতরে জামাকাপড়ের আড়ালে ওই মাদক প্যাকেটে করে লুকিয়ে রাখা ছিল। এই ঘটনায় ওই বাড়ির মালকিনকে গ্রেফতার করেছে এসটিএফ। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতের নাম আসমা খাতুন পেয়াদা। ধৃতের বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে।

ধৃতকে বৃহস্পতিবার বারাসত আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছেন গোয়েন্দারা। এক তদন্তকারী জানান,কলকাতা পুলিশ এলাকার ওই বস্তির বাড়িতে বিভিন্ন জায়গা থেকে মাদক কিনতে আসেন তরণ-তরুণীরা। ঘটনার পর থেকে ধৃত মহিলার স্বামী পলাতক। তার খোঁজে তল্লাশি করছে পুলিশ।

এসটিএফ সূত্রের খবর, গত ২৫ জানুয়ারি নিমতা থানা এলাকার ডাক্তারবাগান থেকে চার মাদক কারবারীকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তল্লাশি চালিয়ে তাদের কাছ থেকে তিন কেজি সন্দেহভাজন মাদক পাউডার এবং ৪১০ গ্রাম হেরোইন বাজেয়াপ্ত করা হয়। ওই ধৃতদের নাম মহম্মদ রফিক, অভিষেক কর্মকার, হাসেম আলি এবং বৃন্দাবন দাস। এদের মধ্যে বৃন্দাবন ওই মাদক নিয়ে এসেছিল নদিয়া থেকে। অভিষেকের কাজ ছিল সেই মাদক উল্টোডাঙায় আসমার কাছে পৌঁছে দেওয়া। বাকি দু’জনও বৃন্দাবনের কাছ থেকে মাদক নিতে এসেছিল।

পুলিশ জানিয়েছে, উল্টোডাঙার ক্যানাল ওয়েস্ট রোডের বস্তি থেকে যে মাদক উদ্ধার করা হয়েছে, তা থেকে পুরিয়া তৈরি করে বিক্রি করা হত। ওই ঘর থেকেই মাদকের এজেন্টরা মাদক নিয়ে শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করত বলেও অভিযোগ।

গোয়েন্দাদের একাংশ জানিয়েছেন, বাইরে থেকে ঝুপড়ি মনে হলেও আসমা ওই বাড়িটিকে মনের মতো করে সাজিয়েছিল। বাইরে থেকে দেখে বোঝা না গেলেও আদতে ওই বাড়ির তিনটি তলার প্রতিটিতে তিনটি করে ঘর রয়েছে। তার একটি থেকেই চলত ওই মাদকের কারবার। সূত্রের দাবি, কী ভাবে পুলিশি নজর এড়িয়ে সেখান থেকে মাদকের কারবার চালত, সেই প্রশ্ন উঠেছে। তবে এ বিষয়ে পুলিশের তরফে কিছু বলা হয়নি।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Ultodanga police investigation

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy