স্টেশনে বুলডোজ়ার নিয়ে এসে বেআইনি হকার উচ্ছেদের পরে ৪৮ ঘণ্টা কেটে গিয়েছে। দমদম জংশন স্টেশনের সেই ধ্বংসস্তূপ রয়ে গিয়েছে একই ভাবে। রবিবারের মতোই স্টেশন জুড়ে উল্টে দেওয়া দোকান, কাঠামোর ধ্বংসস্তূপ, ব্যবসার সামগ্রী পড়ে রয়েছে। সোমবার সকালে কয়েক জন হকার ছোট্ট পরিসরে ভাঙা কাঠামোয় দোকান সাজানোর চেষ্টা করলেও পুলিশের জরিমানার হুমকিতে উঠে যেতে বাধ্য হয়েছেন। রাতারাতি উপার্জন হারানো ব্যবসায়ীদের হতাশার সঙ্গে প্রতিবাদের স্বর বাড়ছে।
শনিবার মধ্যরাতে দমদম জংশন স্টেশন চত্বর পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে মুড়িয়ে বুলডোজ়ার চালিয়ে একের পর এক দোকান ভাঙেন রেল কর্তৃপক্ষ। এক থেকে পাঁচ নম্বর প্ল্যাটফর্ম এবং মেট্রো স্টেশন সংলগ্ন সারি সারি দোকান ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। অভিযোগ, দোকান থেকে ব্যবসার জিনিস বার করার সময়টুকু দেওয়া হয়নি। সোমবার ভাঙা দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে রাজু তরফদার বললেন, ‘‘সাঁজোয়া গাড়ি, কেন্দ্রীয় বাহিনী, পুলিশ— কে ছিল না! জিনিস যে বার করব, সেই সুযোগই দেওয়া হয়নি। কথা বলতে গেলেই পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী লাঠি নিয়ে তেড়ে এসেছে।’’
ব্যবসায়ীরাই জানালেন, সোমবার সকালে অনেকেই ভাঙা কাঠামোয় দোকান সাজানোর চেষ্টা করেছিলেন। জরিমানার ভয় দেখিয়ে পুলিশ তাঁদের উঠিয়ে দেয়। মেট্রো স্টেশনের গলির ভাঙা দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন সেলিম শিকারি। তাঁর কথায়, ‘‘কিছু ফল বাড়িতে রাখা থাকত। সেই কয়েক কেজি ফল এনেছিলাম। পুলিশ লাঠি উঁচিয়ে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করবে বলল। উঠে না গিয়ে কী করব?’’ এখন কী করব— এই প্রশ্ন ঘুরছে অধিকাংশ হকারের মধ্যেই। দিশা না পেয়ে তাঁরা শিয়ালদহে ডিআরএমের কাছে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
অভিযোগ, স্টেশন জুড়ে পড়ে থাকা ভাঙা কাঠামো দ্রুত না সরালে সেগুলি তুলে নিয়ে যাওয়া হবে বলা হয়েছে। স্টেশনের এক ব্যবসায়ী তাপসী বিশ্বাস বললেন, ‘‘ওই ভাঙা কাঠামো নিয়ে আর কী করব? বুলডোজ়ার আমাদের কোমর ভেঙে দিয়েছে।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)