E-Paper

ডিএ-র দাবির আন্দোলনে হারিয়ে গেল পথের দাবি, কাজের দিনে প্রবল দুর্ভোগ

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে বকেয়া ডিএ-র দাবিতে এ দিন দুপুরে ধর্মতলা থেকে হাজরা পর্যন্ত মিছিলের ডাক দেয় একাধিক সরকারি কর্মচারী ইউনিয়ন।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১০:৩২
স্তব্ধ: বকেয়া মহার্ঘ ভাতার দাবিতে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের মিছিলের জেরে রুদ্ধ পথ। বৃহস্পতিবার, ধর্মতলায়।

স্তব্ধ: বকেয়া মহার্ঘ ভাতার দাবিতে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের মিছিলের জেরে রুদ্ধ পথ। বৃহস্পতিবার, ধর্মতলায়। ছবি: বিশ্বনাথ বণিক।

অসুস্থ স্ত্রীকে নিয়ে চাঁদনি চক মেট্রো স্টেশনের কিছুটা আগেই বাস থেকে নেমে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন সামাদ আলি শেখ। দীর্ঘ অপেক্ষারপরেও কোনও উপায় না দেখে,শেষমেশ স্ত্রী বেবি সুলতানাকে নিয়ে হাঁটতে শুরু করেন ধর্মতলার উদ্দেশে। যদিও সেখানে পৌঁছেও ধুলাগড় যাওয়ার বাস পাননি। অগত্যা কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে ছুটি পাওয়া স্ত্রীকে নিয়ে ঘণ্টা দুই ধর্মতলাতেইঅপেক্ষা করেন তিনি। তার পরে বাড়ি ফেরার বাস ধরেন সামাদ। বৃহস্পতিবার বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (ডিএ)-র দাবিতে রাজ্য সরকারি কর্মীদের আন্দোলনের জেরে শুধু সামাদ ও বেবিই নন, রাস্তায় বেরিয়ে ভোগান্তির শিকার হয়েছেন অসংখ্য মানুষ। কেউ গাড়িতে বা বাসে দীর্ঘ ক্ষণ অপেক্ষা করলেন, কেউ বা উপায় না দেখে হেঁটেই গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে বকেয়া ডিএ-র দাবিতে এ দিন দুপুরে ধর্মতলা থেকে হাজরা পর্যন্তমিছিলের ডাক দেয় একাধিক সরকারি কর্মচারী ইউনিয়ন। যদিও ধর্মতলা থেকে চৌরঙ্গি রোড ধরে এগোতেই মিছিল আটকে দেয়পুলিশ। প্রতিবাদে আন্দোলনকারীরা রাস্তায় বসে পড়েন। ফলে অবরুদ্ধহয়ে যায় ধর্মতলা চত্বর। দুপুর ২টোর আগে থেকে প্রায় ৪টে পর্যন্ত রাস্তাতেই বসে ছিলেন আন্দোলনকারীরা। ধর্মতলা আটকে যাওয়ায় তার প্রভাব পড়েআশপাশের বিস্তীর্ণ অংশে। ট্র্যাফিক পুলিশ বিকল্প রাস্তায় যান চলাচলের চেষ্টা করলেও তাতে ভোগান্তি বিশেষ কমেনি।

এ দিন চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউ, লেনিন সরণি, রানি রাসমণি রোড এবং এস এন ব্যানার্জি রোডের একাংশ দীর্ঘ সময় বন্ধ ছিল। সেই যানজটের রেশ পৌঁছয়শিয়ালদহ, মৌলালিতেও। চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউ জুড়ে ছিল গাড়ির লম্বা লাইন। শিয়ালদহ ও ধর্মতলার মধ্যে যান চলাচল বন্ধ হয়েযাওয়ায় ভোগান্তি বাড়ে অসংখ্য মানুষের। দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষার পরেও কোনও বাস বা গণপরিবহণ না পেয়ে বিকল্প রাস্তা ধরেনঅনেকেই। অনেকে আবার তীব্র রোদে হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছেছেন। শুধু তা-ই নয়, নিউ মার্কেটে কেনাকাটা করতে এসেও অনেকে আটকে যান।যেমন, সোনারপুর থেকে মাকে নিয়ে নিউ মার্কেটে বিয়ের কেনাকাটাকরতে এসেছিলেন এক তরুণী। ব্যাগপত্র নিয়ে ধর্মতলায় আটকে পড়েন তিনি। তরুণী বললেন, ‘‘অপেক্ষা করতে করতে প্রায় এক ঘণ্টা পেরিয়ে গেল। কোনও গাড়িই নেই। অ্যাপ-ক্যাব বুক করেছি, সেই গাড়িও আসতে পারছে না।’’

এ দিন ৪টে নাগাদ আন্দোলনকারীরা রাস্তা থেকে উঠে যান। এর পরে ধীরে ধীরে যানচলাচল স্বাভাবিক হয়। ট্র্যাফিক পুলিশের যদিও দাবি, ধর্মতলা বন্ধ থাকলেও বিকল্প পথে গাড়িঘুরিয়ে শহরের গতি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল। এক কর্তার কথায়, ‘‘ধর্মতলা বন্ধ থাকায় যে সব রাস্তায় চাপ বেড়েছিল, সেইসব রাস্তায় অতিরিক্ত পুলিশকর্মীদের নামানো হয়। দ্রুত পরিস্থিতিস্বাভাবিক করার চেষ্টা করাহয়েছে।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Dharmatala

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy