ফের দমদমে জল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটল। বেলঘরিয়া এক্সপ্রেসওয়ের কাছে জল সরবরাহের পাইপলাইনে ফাটল দেখা দেওয়ায় এই বিপত্তি বলে জানা গিয়েছে। এর জেরে দক্ষিণ দমদমের একাধিক ওয়ার্ড এবং দমদম পুর এলাকার কিছু অংশে জল সরবরাহ ব্যাহত হয়। জল সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার কথা পুরসভার তরফ থেকে এলাকায় আগাম না জানানোয় ক্ষুব্ধ বাসিন্দাদের অনেকেই।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বার বার জলকষ্টে ভুগতে হচ্ছে। রবিবার সকাল থেকে কোথাও জল একেবারে আসেনি, কোথাও আবার সরু হয়ে জল পড়েছে। অথচ, প্রশাসনের তরফে কিছুই জানানো হয়নি। স্থানীয় প্রশাসনের যদিও দাবি, এ দিন প্রাথমিক পর্বের মেরামতি শেষ হয়েছে। রাতে পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।
দক্ষিণ দমদম পুরসভা সূত্রের খবর, সম্প্রতি কেএমডিএ-র জল সরবরাহের একটি পাইপলাইনে ফাটল দেখা দেয়। শনিবার রাতেই সেটির মেরামতি শুরু হয়েছে। এর জেরে এ দিন সকাল থেকে এক থেকে ছ’নম্বর এবং ১১ নম্বর ওয়ার্ডে জল সরবরাহ করা যায়নি। জলাধারে যে পরিমাণ জল মজুত ছিল, সেটুকুই সরবরাহ করা গিয়েছে। ওই পাইপলাইন দিয়ে এতগুলি ওয়ার্ডে জল সরবরাহ হয়।
শুধু দক্ষিণ দমদম পুরসভা নয়, দমদম পুরসভার কিছু অংশেও একই কারণে জল সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। রবিবার বেলায় দমদম পুরসভার উপ পুরপ্রধান বরুণ নট্ট দাবি করেন, কাজ শেষ হয়েছে। বিকেলের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে।
বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, এ দিন সকালে প্রমোদনগর, মাঠকল এলাকা থেকে কাজে আসা লোকজনদের কাছ থেকে তাঁরা পাইপলাইনে মেরামতির কথা জানতে পারেন। তার আগে পর্যন্ত আচমকা জল বন্ধের কারণ জানা যায়নি। স্থানীয় প্রশাসনও কিছু জানায়নি। এক বাসিন্দা দীপ্তি বসুর কথায়, ‘‘আগে জানলে বিকল্প ব্যবস্থা করা যেত। যদিও এমন অভিজ্ঞতা নতুন নয়।’’
বাসিন্দাদের অভিযোগ, এর আগে গরম বাড়লে পুর এলাকায় জলের অভাব যেমন ঘটেছে, তেমনই মাঝেমধ্যে মেরামতির নামে জল সরবরাহ ব্যাহতও হয়েছে। পুরসভার অবশ্য দাবি, জল সরবরাহ ব্যাহত হলে এলাকায় প্রচার করে জানিয়ে দেওয়া হয়। বাসিন্দারা সেই দাবি মানতে নারাজ। তাঁদের দাবি, পুরসভার জনসংযোগ ব্যবস্থা দুর্বল।
দক্ষিণ দমদম পুরসভার চেয়ারম্যান পারিষদ মৃন্ময় দাস এবং জল বিভাগের চেয়ারম্যান পারিষদ মুনমুন চট্টোপাধ্যায় জানাচ্ছেন, ওই পাইপলাইন মারফত বিস্তীর্ণ এলাকায় জল সরবরাহ করা হয়। সেই পাইপ ফেটে এই বিপত্তি। কিছু জায়গায় পুরসভা ভূগর্ভস্থ
জল এবং কোথাও কোথাও জলের ট্যাঙ্কার পাঠিয়েছে। রাতের দিকে কাজ শেষ করে জল সরবরাহ শুরু হয়েছে বলেও দাবি দক্ষিণ দমদম পুরসভার।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)