Advertisement
০৫ ডিসেম্বর ২০২২

হাতের লেখাই ধরাল পানশালার গায়িকাকে

অচিন্ত্যবাবুর দাবি, দিদির বিয়ের কথা বলে তাঁর থেকে ১৫ লক্ষ টাকা নেন মাম্পি। দু’বছরের মধ্যে টাকা ফিরিয়ে দেওয়ার কথা বলে কোর্ট-পেপারে চুক্তিও হয়।

প্রতীকী ছবি।

প্রতীকী ছবি।

নিজস্ব সংবাদদাতা
কলকাতা শেষ আপডেট: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০২:৫৪
Share: Save:

১৫ লক্ষ টাকার আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ ছিল তাঁর বিরুদ্ধে। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করে ফেরার ছিলেন তিনি। শেষে হাতের লেখাই ধরিয়ে দিল শুভলীনা গড়াই ওরফে মাম্পি নামের এক পানশালা-গায়িকাকে। শনিবার মধ্যরাতে মানিকতলা থানার পুলিশ তাঁকে শ্রীভূমির একটি ফ্ল্যাট থেকে গ্রেফতার করেছে। রবিবার শিয়ালদহ আদালতে তোলা হলে ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ধৃতকে পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন বিচারক।

Advertisement

পুলিশ সূত্রের খবর, বছর আঠাশের মাম্পির বাড়ি পশ্চিম মেদিনীপুরের কাঁথিতে। তিনি উল্টোডাঙার একটি পানশালায় কাজ করতেন। পানশালার মালিক অচিন্ত্য বসু ২০১৭ সালের মাঝামাঝি মানিকতলা থানায় মাম্পির বিরুদ্ধে আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ দায়ের করেন। অচিন্ত্যবাবুর দাবি, দিদির বিয়ের কথা বলে তাঁর থেকে ১৫ লক্ষ টাকা নেন মাম্পি। দু’বছরের মধ্যে টাকা ফিরিয়ে দেওয়ার কথা বলে কোর্ট-পেপারে চুক্তিও হয়। কিন্তু টাকা নেওয়ার পরেই মাম্পি কাজ ছেড়ে দেন বলে অভিযোগ। অচিন্ত্যবাবুর দাবি, ‘‘২০১৭ সালে আবার পানশালায় কাজে যোগ দিয়ে বলে দ্রুত টাকা মিটিয়ে দেবে। ওঁকে ফের কাজে নিয়েছিলাম। সেই সময়ে পানশালার মেয়েদের থাকার জন্য শ্রীভূমিতে ফ্ল্যাটও কিনেছিলাম। টাকা তো ফেরত দেয়নি, ওই ফ্ল্যাটটাও দখল করে নেয় মাম্পি। কিছু বললেই পুলিশে ভুয়ো মামলা করে ফাঁসানোর কথা বলত। বাধ্য হয়েই মানিকতলা থানায় যাই।’’

মানিকতলা থানার দাবি, মাম্পিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করেন। সেই সঙ্গে ওই চুক্তিপত্রের হাতের লেখা তাঁর নয় বলেও দাবি করেন তরুণী। মাম্পির দাবি ছিল, চুক্তিপত্রে অচিন্ত্যই তাঁর নামে ভুয়ো স্বাক্ষর করেছেন। এর পরে মানিকতলা থানা লালবাজার এবং ভবানী ভবনের দ্বারস্থ হয়। আদালতের অনুমতি নিয়ে মাম্পির লেখা বিশেষজ্ঞদের কাছে পরীক্ষার জন্য পাঠায় পুলিশ। ২০১৮ সালের শেষে সেই রিপোর্ট এলে জানা যায়, চুক্তিপত্রের হাতের লেখা মাম্পিরই। গত জুলাইয়ে মাম্পির নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। এর পর থেকে মাম্পি ফেরার ছিলেন। শ্রীভূমির ফ্ল্যাট এবং মাম্পির কাঁথির বাড়িতে কয়েক বার গিয়েও তাঁকে ধরা যায়নি।

শনিবার রাতে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে শ্রীভূমির ফ্ল্যাটে ফের হানা দেয় পুলিশ। গ্রেফতার করা হয় মাম্পিকে। অচিন্ত্যবাবুর আইনজীবী জয়দীপ দে অবশ্য প্রশ্ন তুলেছেন, ‘‘থানায় মামলা দায়েরের পর থেকে অভিযুক্তের গ্রেফতারিতেই দু’বছর পেরিয়ে গেল?’’ মানিকতলা থানার পুলিশের দাবি, হস্ত-বিশারদের রিপোর্ট এবং আদালতের নির্দেশ পেতে খানিকটা সময় লেগেছে।

Advertisement
(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, Twitter এবং Instagram পেজ)
Follow us on: Save:
Advertisement
Advertisement

Share this article

CLOSE
Popup Close
Something isn't right! Please refresh.