Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

১৯ মে ২০২২ ই-পেপার

URL Copied
Something isn't right! Please refresh.

মাতৃ দিবসেই ছেলের কাছে ফেরাল পুলিশ, আপ্লুত বৃদ্ধা

‘মাদার্স ডে’-তে সেরা উপহারটা পেয়ে গেলেন তন্দ্রা নারায়ণ। হারিয়ে যাওয়া মাকে তাঁর ছেলের কাছে ফিরিয়ে দিল কলকাতা পুলিশ।

তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায়
০৯ মে ২০১৬ ০৩:৫৪
Save
Something isn't right! Please refresh.
ছেলে শ্রীনিবাসন রাওয়ের সঙ্গে তন্দ্রা নারায়ণ। রবিবার। — নিজস্ব চিত্র

ছেলে শ্রীনিবাসন রাওয়ের সঙ্গে তন্দ্রা নারায়ণ। রবিবার। — নিজস্ব চিত্র

Popup Close

‘মাদার্স ডে’-তে সেরা উপহারটা পেয়ে গেলেন তন্দ্রা নারায়ণ। হারিয়ে যাওয়া মাকে তাঁর ছেলের কাছে ফিরিয়ে দিল কলকাতা পুলিশ।

অন্ধ্র প্রদেশের ওই বৃদ্ধাকে গত রবিবার, ১ মে রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ রাস্তায় ইতস্তত ঘুরে বেড়াতে দেখেন উত্তর বন্দর থানা এলাকার পুলিশকর্মীরা। নাম-ধাম কিছুই ঠিকমতো বলতে পারছিলেন না তন্দ্রাদেবী।

অগত্যা পুলিশ থানায় নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে যায় তাঁকে। এ বার সমস্যা হয়ে দাঁড়ায় ভাষা। বৃদ্ধা কী বলছিলেন, কিছুই বোধগম্য হচ্ছিল না পুলিশের। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পণ্যবাহী লরিচালক কিংবা ভাষা অনুবাদের বিভিন্ন মোবাইল ফোনের অ্যাপ— কারও সাহায্যই কাজে আসেনি।

Advertisement

শেষমেশ দীর্ঘ সময়ের কথার মধ্যে থেকে একটিমাত্র শব্দ বুঝতে পারেন কলকাতার পুলিশকর্তারা— ‘তেলুগু’। এর পরেই অন্ধ্রপ্রদেশের পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। সেখানকার প্রতিটি জেলার পুলিশ সুপারদের কাছে বৃদ্ধার ছবি-সহ বিবরণ দিয়ে ফ্যাক্স পাঠায় কলকাতা পুলিশ। অন্ধ্রপ্রদেশের প্রতিটি স্থানীয় থানায় দায়ের হওয়া নিখোঁজ ডায়েরিও খতিয়ে দেখা হয়। সেই সূত্রেই জানা যায়, গত ২৭ এপ্রিল শ্রীকাকুলম জেলার ভেনজাঙ্গি থানায় এই বৃদ্ধার নিখোঁজ হওয়ার ডায়েরি করেছিলেন তাঁর ছেলে শ্রীনিবাসন রাও।

ইতিমধ্যে গত এক সপ্তাহে শারীরিক ভাবে অনেকটাই ভেঙে পড়েছিলেন মা। নিজের কষ্টের কথা বুঝিয়ে বলতে না পারার যন্ত্রণা বয়েই দিন কাটছিল থানায়। তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখে কলকাতা পুলিশই তাঁকে এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে প্রতিদিনই উত্তর বন্দর থানার পুলিশকর্মীরা দেখতে যেতেন তাঁদের ‘নতুন মা’কে। কথা বুঝতে না পারলেও পাশে দাঁড়াতেন। চেনা মুখগুলো দেখে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলতেন বৃদ্ধাও। কিন্তু পাশের শয্যায় কোনও মাকে ছেলের হাতে খাবার খেতে দেখলেই আর চোখের জল ধরে রাখতে পারতেন না। এক পুলিশকর্তা বলেন, ‘‘আমাদের মনে হয়েছিল, নিজের সন্তানকে কাছে না পেয়েই বোধহয় এত কষ্ট পাচ্ছেন উনি। তখনই ঠিক করে ফেলি, যে ভাবেই হোক, ওঁকে বাড়ি ফেরাতে হবে।’’

অন্ধ্র প্রদেশ পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে রবিবার উত্তর বন্দর থানায় হাজির হন ভেনজাঙ্গির বাসিন্দা শ্রীনিবাসন রাও। তিনিই জানান, তাঁর মায়ের নাম তন্দ্রা নারায়ণ। দিন দশেক আগে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিলেন বৃদ্ধা। মাকে ফিরে পেয়ে শ্রীনিবাসন ধন্যবাদ জানান কলকাতা পুলিশ ও উত্তর বন্দর থানাকে। মা-ছেলেকে মিলিয়ে দিতে পেরে খুশি পুলিশও। কলকাতা পুলিশের এক কর্তা বলেন, ‘‘ওঁর হাসি মুখ দেখে ভাল লাগছে।’’

দশ দিন বাদে ছেলেকে কাছে পেয়ে কোনও কথা বলতে পারেননি তন্দ্রাদেবী। বুকে জড়িয়ে অঝোরে কেঁদেছেন শুধু। দশ দিন দূরে থাকার কষ্টের সঙ্গে মিলেমিশে গিয়েছে ছেলেকে ফের কাছে পাওয়ার আনন্দ।

তবে ছেলের সঙ্গে ঘরে ফেরার আগে ‘নতুন পাওয়া ছেলেদের’ বাড়িতে নেমন্তন্ন করতেও ভোলেননি বৃদ্ধা।



Something isn't right! Please refresh.

আরও পড়ুন

Advertisement