একটি অতিথিশালার সামনের ফুটপাত থেকে উদ্ধার হল এক যুবকের রক্তাক্ত মৃতদেহ। মঙ্গলবার সকাল সাতটা নাগাদ ঘটনাটি ঘটেছে টালিগঞ্জ থানা এলাকার রজনী সেন রোডে। মৃতের নাম সুমন্ত ঘোষ (৩৭)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আদতে দুর্গাপুরের বাসিন্দা সুমন্ত একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করতেন। সোমবার দুপুর ২টো নাগাদ তিনি কলকাতায় এসে রজনী সেন রোডের ওই অতিথিশালায় ওঠেন। এ দিন সকালে অতিথিশালার কর্মীরাই ফুটপাতে সুমন্তকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে জানান। পুলিশ এসে দেহ উদ্ধার করে এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে গেলে ওই যুবককে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকেরা।
অতিথিশালার কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ জেনেছে, সেখানকার চারতলায় একটি ঘর নিয়েছিলেন ওই যুবক। সোমবার রাতে তাঁকে শেষ বার দেখেছিলেন কর্মীরা। অতিথিশালার এক কর্মী বলেন, ‘‘রাত ১০টা নাগাদ ওই ব্যক্তির ঘরে খাবার দিতে গেলে তিনি দরজা খুলে খাবার নিয়ে নেন। তার পরে দরজা বন্ধ করে দেন।’’ যদিও পুলিশের দাবি, হোটেলের বাইরে থাকা সিসি ক্যামেরার ফুটেজে ওই যুবককে চারতলা থেকে পড়ে যেতে দেখা গিয়েছে। কিন্তু তিনি পড়ে গিয়েছেন না কি ঝাঁপ দিয়েছেন, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। এ দিনই সুমন্তের দেহের ময়না-তদন্ত হয়। সেই রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর কারণ স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
জানা গিয়েছে, সুমন্তের বাড়ি দুর্গাপুরের ডিএসপি টাউনশিপের বি-জ়োনের ভারতী রোডে। তবে বর্তমানে তিনি স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে স্থানীয় ৫৪ ফুট রোডের পদ্মপুকুর এলাকায় থাকতেন। এ দিন ঘটনার খবর পেয়ে সুমন্তের বাড়িতে যান দুর্গাপুর পুরসভার দু’নম্বর বরোর চেয়ারম্যান রমাপ্রসাদ হালদার। স্থানীয় ফরিদপুর ফাঁড়ি থেকে পুলিশও আসে। রমাপ্রসাদবাবু বলেন, “কী ভাবে এমন ঘটল, তার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চাইছেন মৃতের পরিবারের লোকজন। কলকাতা পুলিশকে সে কথা জানিয়েছেন তাঁরা।’’ পুলিশ জানিয়েছে, আপাতত একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে।