Advertisement
E-Paper

‘গা-বাঁচিয়ে’ চার্জশিট দিল পুলিশ

পানশালায় মদ্যপানকে কেন্দ্র করে দুষ্কৃতীদের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে গণ্ডগোল মাঝরাতে গুলির লড়াইয়ে পৌঁছয়। সেই গুলিবৃষ্টির মধ্যে পড়েই মৃত্যু হয় স্থানীয় যুবক রাহুল মজুমদারের। হরিদেবপুরের সেই ঘটনার ৮০ দিনের মাথায় শনিবার আদালতে চার্জশিট জমা দিয়ে এ কথা জানিয়েছে পুলিশ।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ০০:৩৫

পানশালায় মদ্যপানকে কেন্দ্র করে দুষ্কৃতীদের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে গণ্ডগোল মাঝরাতে গুলির লড়াইয়ে পৌঁছয়। সেই গুলিবৃষ্টির মধ্যে পড়েই মৃত্যু হয় স্থানীয় যুবক রাহুল মজুমদারের। হরিদেবপুরের সেই ঘটনার ৮০ দিনের মাথায় শনিবার আদালতে চার্জশিট জমা দিয়ে এ কথা জানিয়েছে পুলিশ।

লালবাজার সূত্রের খবর, চার্জশিটে বলা হয়েছে ৮ জুলাই রাতে কবরডাঙায় ওই পানশালায় মদ্যপানের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দুষ্কৃতী দলের বিরোধ বাধে। এক দলের নেতৃত্বে ছিল নান্টে, ভোঁতকা, বাপ্পার মতো দুষ্কৃতীরা। অন্য দলে ছিল কালী, দুর্গার মতো দাগিরা। প্রায় ১২১ পাতার চার্জশিটে মূল অভিযুক্ত হিসেবে কালী সিংহ, তার ভাই দুর্গা সিংহ, বাবলু ঘোষ ওরফে নান্টে, ভোঁতকা, বাপ্পা-সহ মোট ১১ জন ধৃতের নাম রয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে খুনের মামলার পাশাপাশি খুনের চেষ্টার অভিযোগ-সহ একাধিক ধারা প্রয়োগের কথা জানানো হয়েছে। তবে গুলিতে ওই যুবকের মৃত্যুর কথা বলা হলেও চার্জশিটে অস্ত্র আইনের কোনও ধারার উল্লেখ নেই। পুলিশের দাবি, ফরেন্সিক রিপোর্ট না আসায় অস্ত্র আইনের কথা বলা হয়নি। ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞদের রিপোর্ট হাতে এলে অতিরিক্ত চার্জশিট জমা দেওয়া হবে। ওই ঘটনায় ১২ জনকে ধরা হয়েছিল। ধনঞ্জয় মিশ্র নামে এক দুষ্কৃতীর সঙ্গে ওই ঘটনায় কোনও যোগসূত্র না মেলায় চার্জশিটে তার নাম লেখা হয়নি।

পুলিশের দাবি, আগে থেকেই হরিদেবপুর এলাকার দখল নিয়ে নান্টেদের সঙ্গে কালীদের গোলমাল চলছিল। পানশালাটি বকলমে কালীরাই চালায়। ঘটনার রাতে নান্টে দল নিয়ে প্রথমে পানশালায় যায়। সেখানে মদ সরবরাহ নিয়ে উভয় পক্ষে বচসা হয়। এর পরে পানশালায় নর্তকীদের সঙ্গে নান্টেরা জোর করে নাচার চেষ্টা করলে কালী-দুর্গার দল বাধা দেয়। এর জেরে দু’পক্ষে মারামারির পরেই এলাকা ছাড়ে নান্টে-সহ তার দলদল। পুলিশ জানায়, বদলা নিতে কিছুক্ষণের মধ্যেই ফিরে আসে নান্টে-সহ তার দলের ন’জন। তখন পানশালার বাইরে ছিল কালী-দুর্গারা। উভয় পক্ষে গুলির লড়াই শুরু হয়। তার মধ্যে পরে যান রাহুল মজুমদার নামে ওই যুবক। চার্জশিটে পুলিশ জানিয়েছে, প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি অনুযায়ী নান্টের গুলিতে মৃত্যু হয় রাহুলের।

ঘটনার পরেই এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল এক দুষ্কৃতীকে। পরে সুরাত থেকে ধরা হয় নান্টেকে। গ্রেফতার হয় বাপ্পা-সহ আরও ন’জন। উদ্ধার হয় ছ’টি আগ্নেয়াস্ত্র। প্রথমে কালী-দুর্গাকে গ্রেফতার না করা হলেও পরে তারা গ্রেফতারা হয়।

লালবাজারের একাংশের দাবি, কালী ও দুর্গার সঙ্গে শাসক দলের একাংশের ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। পুলিশের একাংশের সঙ্গেও তাঁদের ঘনিষ্ঠতা ছিল। খাতায়-কলমে ওই পানশালা তিন ব্যক্তির মালিকানায় থাকলেও তা বকলমে চালাত দুর্গা ও কালী। পানশালাটির পুলিশি ছাড়পত্র ছিল না। আইন ভেঙে নাচগানের আসরও বসত। তবে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, চার্জশিটে অভিযুক্তদের কোনও রাজনৈতিক যোগের কথা বলা হয়নি।

এ দিকে, কলকাতায় এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ক্রেতাসুরক্ষা মন্ত্রী সাধন পাণ্ডে জানান, ‘‘গুলি চালনার ঘটনা শুধু এ রাজ্যে নয়, সব রাজ্যেই হয়। আমেরিকাতেও হয়।’’ তাঁর অভিযোগ, সংবাদমাধ্যম বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে অপপ্রচার করছে। সাধনবাবুর বক্তব্যের প্রেক্ষিতে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরীর কটাক্ষ, ‘‘আমেরিকায় তো দোকানে দোকানে বন্দুক কিনতে পাওয়া যায়। তা হলে এ রাজ্যেও বন্দুক কেনার দেদার লাইসেন্স দিয়ে দেওয়া হোক।’’ তাঁর আরও বক্তব্য, ‘‘আসলে তৃণমূলের নেত্রী যা বলেন, তার সান্ত্রীরাও তাঁকে খুশি করতেই এ সব বলার প্রতিযোগিতায় নেমেছেন।’’

তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়েরও অভিমত, ‘‘যা ঘটনা ঘটছে, তার থেকে বেশি অপপ্রচার হচ্ছে।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘যারা দলীয় নিয়ম ভঙ্গ করবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’

Police Haridevpur charge sheet
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy