E-Paper

প্রতীকের পরিবার ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলতে চায় পুলিশ

বৃহস্পতিবার প্রতীকের লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতে তল্লাশি চালাতে যান ইডি অফিসারেরা। সঙ্গে ছিলেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরা।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ ১০:৩৫
প্রতীক জৈন।

প্রতীক জৈন। ফাইল চিত্র।

আই-প্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশির দিন বহুতল আবাসনের নিরাপত্তারক্ষী এবং কেয়ারটেকারদের মোবাইল ফোনগুলি হেফাজতে নেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করেছিলেন ইডি এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যেরা। লাউডন স্ট্রিটের ওই আবাসনের নিরাপত্তারক্ষী এবং কেয়ারটেকারদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের বয়ান নথিভুক্ত করে এই তথ্য জেনেছেন তদন্তকারীরা।

ইডি-র তল্লাশি চলাকালীন ওই আবাসনের বাসিন্দা এবং প্রতীকের প্রতিবেশীরা কী দেখেছিলেন বা শুনেছিলেন, তা জানতে চায় পুলিশ। এ জন্য আবাসনের বাসিন্দাদের তলব করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রের খবর। তল্লাশিতে ইডি অফিসার এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যদের গতিবিধি কী ছিল, জানতে চেয়েই ওই তলব করা হয়েছে। মূলত প্রতিবেশীদের থেকেও ঘটনার বিবরণ চায় পুলিশ।

গত বৃহস্পতিবার প্রতীকের লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতে তল্লাশি চালাতে যান ইডি অফিসারেরা। সঙ্গে ছিলেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরা। পুলিশের অভিযোগ, স্থানীয় থানাকে না জানিয়েই ইডি-র অফিসারেরা সেখানে গিয়েছিলেন। আই-প্যাকের কর্ণধারের বাড়িতে তল্লাশি হচ্ছে, জানতে পেরে পুলিশ সেখানে যায়। কিন্তু স্থানীয় থানার পুলিশকে বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এর পরে ডিসি (দক্ষিণ) ওই আবাসনে যান। অভিযোগ, কেন্দ্রীয় বাহিনীর তরফে তাঁকেও বাধা দেওয়া হয়। পরে যান কলকাতার নগরপাল মনোজ বর্মা।

তার কয়েক মিনিটের মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী ঘটনাস্থলে পৌঁছন। অভিযোগ, তিনি সেখান থেকে জোর করে বেশ কিছু ফাইল নিয়ে বেরিয়ে যান। ওই ঘটনায় শেক্সপিয়র সরণি থানায় দু’টি মামলা রুজু হয়। একটি পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে রুজু করেছে। অন্য মামলাটি মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে। তিনি জানান, অজ্ঞাতপরিচয় ইডি অফিসার এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের বিরুদ্ধে তথ্য চুরি এবং প্রবেশে আটকে দেওয়া-সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে।

এই ঘটনায় প্রতীক এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলতে চায় পুলিশ। সে দিন ঠিক কী ঘটেছিল, তা জানার জন্যই তাঁদের সঙ্গে কথা বলতে চাইছেন তদন্তকারীরা। তবে, পুলিশ কবে কথা বলবে, সে বিষয়ে লালবাজার কিছু জানায়নি। উল্টো দিকে, পুলিশের তদন্ত চললেও তদন্তকারীরা তাকিয়ে রয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের দিকে। সেখানে ইডি একাধিক মামলা দায়ের করেছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজ্য পুলিশের ডিজি, কলকাতা পুলিশের নগরপাল এবং ডিসি (দক্ষিণ)-র বিরুদ্ধে।

ঘটনার দিন ইডি-র কোন কোন অফিসার এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান সেখানে এসেছিলেন, তা-ও জানতে চাইছেন তদন্তকারীরা। সে জন্য সব কিছু খতিয়ে দেখার পরেই ওই পরিচয় জানতে চেয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নোটিস পাঠানো হবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে প্রাথমিক ভাবে পুলিশ জানতে পেরেছে, ওই দিন তল্লাশি অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন ইডি-র এক জন অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ইডি-র আরও কয়েক জন আধিকারিক।

ইডি-র তল্লাশি এবং পরবর্তী সময়ে শেক্সপিয়র সরণি থানায় মামলা প্রসঙ্গে কলকাতার নগরপাল মনোজ বর্মা বলেন, ‘‘এই বিষয়ে এখনই আমরা কিছু বলতে পারব না। দুটো মামলা হয়েছে। তদন্ত চলছে।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Pratik Jain I-Pac Enforcement Directorate

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy