×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

১৮ এপ্রিল ২০২১ ই-পেপার

বোমা ফাটতেই বিজেপির দিকে আঙুল তৃণমূলের, এনআইএ তদন্ত চাইলেন দিলীপ

নিজস্ব সংবাদদাতা
কলকাতা ০২ অক্টোবর ২০১৮ ১৬:২৭
বিস্ফোরণের পরই শুরু তৃণমূল-বিজেপির মধ্যে রাজনৈতিক চাপানউতোর। গ্র্যাফিক: শৌভিক দেবনাথ।

বিস্ফোরণের পরই শুরু তৃণমূল-বিজেপির মধ্যে রাজনৈতিক চাপানউতোর। গ্র্যাফিক: শৌভিক দেবনাথ।

বিস্ফোরণের অভিঘাত কাটার আগেই শুরু হয়ে গেল তুমুল রাজনৈতিক চাপানউতোর। নাগেরবাজারের বিস্ফোরণস্থলে পৌঁছে রাজ্যের দুই মন্ত্রী সরাসরি আঙুল তুললেন বিজেপি-আরএসএসের দিকে। পাল্টা আক্রমণে নামল বিজেপি। ‘‘যেখানে তৃণমূলের অফিস থাকে, সেখানেই বিস্ফোরণ হয়।’’—মন্তব্য করলেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি দিলীপ ঘোষ। আর কৈলাস বিজয়বর্গীয় জানালেন, প্রয়োজনে এনআইএ-র সঙ্গে কথা বলা হবে।

মঙ্গলবার সকালে বিস্ফোরণ হওয়ার অল্প ক্ষণের মধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছন দক্ষিণ দমদম পুরসভার চেয়ারম্যান পাচু রায়। যে ওয়ার্ডে বিস্ফোরণ হয়েছে, পাচুবাবু সেই ২৩ নম্বর ওয়ার্ডেরই কাউন্সিলর। যে বহুতলটির নীচে বিস্ফোরণ হয়েছে, সেই বহুতলেই পাচুবাবুর অফিস। তাই বিস্ফোরণের পরে এলাকায় পৌঁছে পাচু রায় দাবি করেন, হয়তো তাঁকে খুন করার লক্ষ্যেই ওখানে বোমা রাখা হয়েছিল।

কারা রেখে থাকতে পারে বোমা? কারা খুনের চক্রান্ত করল? পাচু রায় এই প্রশ্নেই নাম না করে বিজেপির দিকে আঙুল তোলেন। তিনি বলেন, ‘‘যারা সারা পশ্চিমবঙ্গে এখন তৃণমূলকে আক্রমণ করছে, আক্রমণ করে বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করছে কিন্তু পারছে না, তারা এখন মরিয়া হয়ে উঠেছে।’’ পাচু রায় জানান, সাম্প্রতিক বাংলা বন্‌ধের আগে ওই এলাকায় তৃণমূলের তরফে ঘোষণা করা হয়েছেল যে, কোনও বন্‌ধ হবে না। তাঁর দাবি, এলাকায় বন্‌ধের কোনও প্রভাব পড়েওনি। তৃণমূলের সঙ্গে পেরে উঠছে না বলেই তৃণমূলকে এই ভাবে নিশানা করার চেষ্টা হচ্ছে বলে দক্ষিণ দমদমের পুরপ্রধানের দাবি।

Advertisement

যে এলাকায় বিস্ফোরণটি হয়েছে, সেটি আবার রাজারহাট-গোপালপুরের বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী পূর্ণেন্দু বসুর নির্বাচনী ক্ষেত্রের মধ্যে পড়ে। পূর্ণেন্দু বসুও তাই দ্রুতই পৌঁছন ঘটনাস্থলে। তিনি কোনও রাখঢাক না করেই আঙুল তোলেন বিজেপির দিকে। পূর্ণেন্দু বলেন, ‘‘আরএসএস-বিজেপি এই ঘটনা ঘটিয়েছে। এটা যথেষ্ট পাকা হাতের কাজ। সিপিএমের এত ক্ষমতা নেই। যারা বাংলা দখলের চেষ্টা করছে, এই ঘটনা তারাই ঘটিয়েছে।’’

রাজ্যের আর এক মন্ত্রী তথা উত্তর ২৪ পরগনা জেলা তৃণমূলের সভাপতি জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকও যান ঘটনাস্থলে। বিজেপির বিরুদ্ধে জ্যোতিপ্রিয়র সুর ছিল আরও চড়া। তিনি বলেন, ‘‘আমার জীবনে দমদমে এই রকম ঘটনা ঘটতে দেখিনি। বিজেপি দিনেদুপুরে মানুষ মেরে দেওয়ার রাজনীতি করছে। ওরা পাচু রায়কে মেরে ফেলতে চেয়েছিল। এটা একেবারে স্পষ্ট, কোনও সন্দেহ নেই।’’

আরও পড়ুন: আমিই হয়তো টার্গেট ছিলাম, অভিযোগ দক্ষিণ দমদমের পুরপ্রধান পাচু রায়ের

বিজেপি এবং আরএসএস কিন্তু সম্পূর্ণ নস্যাৎ করছে তৃণমূলের এই অভিযোগ। রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেছেন, ‘‘তৃণমূলের একটা বাতিক হয়ে গিয়েছে। যেখানে যা ঘটছে, সবই বিজেপির ঘাড়ে চাপিয়ে দিচ্ছে।’’ নিজেদের ঘাড় থেকে দায় ঝেড়ে ফেলে দিলীপ পাল্টা আঙুল তুলেছেন তৃণমূলের দিকেই। তিনি বলেন, ‘‘ভাল করে খেয়াল করলে দেখা যাবে, যেখানে যেখানে তৃণমূলের পার্টি অফিস রয়েছে, সেখানেই বিস্ফোরণ হচ্ছে। আর ওরা দায় চাপাচ্ছে বিজেপির ঘাড়ে।’’ নাম না করে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে কটাক্ষ করে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘‘তদন্ত হওয়ার আগেই মন্ত্রী বলে দিচ্ছেন, কোন সংগঠন বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে, কী বোমা ব্যবহার হয়েছে! কী করে বলেন? উনি কি জ্যোতিষী নাকি!’’ রাজ্য বিজেপির সভাপতির দাবি, আসল ঘটনা চাপা দেওয়ার চেষ্টা শুরু হয়ে গিয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘আমরা এনআইএ তদন্ত দাবি করছি। তা হলেই সামনে আসবে, কী ভাবে বিস্ফোরণ ঘটল।’’



বিস্ফোরণস্থলে পুলিশ ও তদন্তকারীরা।— নিজস্ব চিত্র।

ঘটনাচক্রে, চার বছর আগে এই তারিখেই বিস্ফোরণ ঘটেছিল খাগড়াগড়ে। যে ঘরে বিস্ফোরণ হয়েছিল, তার উপরেই ছিল তৃণমূলের একটি নির্বাচনী কার্যালয়। আর মঙ্গলবার যে বহুতলের নীচে বিস্ফোরণ হল নাগেরবাজারে। সেই বহুতলেই রয়েছে পুরপ্রধান তথা তৃণমূল নেতা পাচু রায়ের অফিস।

আরও পড়ুন: নাগেরবাজারে বড়সড় বিস্ফোরণ, প্রাণ গেল শিশুর, তরজা শুরু তৃণমূল-বিজেপির

সুর চড়িয়েছেন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা তথা এ রাজ্যের সাংগঠনিক পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয়ও। তিনি বলেন, ‘‘তৃণমূলই সর্বত্র গুলি চালাচ্ছে, তৃণমূলই বোমা ছুড়ছে, তৃণমূলের অফিসেই বিস্ফোরণ ঘটছে। গোটা দলটা এখন দুষ্কৃতীদের হাতে চলে গিয়ছে। কখনও সাধারণ মানুষকে আক্রমণ করছে, কখনও নিজেরাই মারামারি করছে। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ সব জানেন। বিজেপির দিকে আঙুল তুললে কেউ বিশ্বাস করবেন না।’’ বিজয়বর্গীয়ের আরও অভিযোগ, তৃণমূলের জমানায় সন্ত্রাসবাদীদের রমরমা বেড়েছে বাংলায়। তাই এই ঘটনার সঙ্গে সন্ত্রাস বা নাশকতার যোগ থাকার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি তিনি। কৈলাস বলেন, ‘‘প্রয়োজন মনে করলে আমরা এআইএ-র সঙ্গে কথা বলব। এনআইএ তদন্ত করে দেখুক, কী ঘটেছে।’’

তৃণমূল নেতারা যে হেতু বিজেপির সঙ্গে আরএসএস-কেও বিঁধেছেন, তাই প্রতিক্রিয়া এসেছে আরএসএসের তরফেও। দক্ষিণবঙ্গে আরএসএসের শীর্ষ নেতা যিনি, সেই জিষ্ণু বসু তৃণমূলের যাবতীয় অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। তাতেই থামেননি, তিনিও তৃণমূলের দিকেই আঙুল তুলেছেন। জিষ্ণু বসু বলেন, ‘‘গোটা তৃণমূলটা এখন সমাজবিরোধীদের দখলে। সন্ত্রাসবাদীরাও ঢুকে পড়েছে। দলের উপরে নিজেদেরই নিয়ন্ত্রণ নেই। তার ফল যা হওয়ার তাই হচ্ছে।’’ কৈলাস বিজয়বর্গীয়ের মতোই এনআইএ তদন্তের কথা শোনা গিয়েছে তাঁর মুখেও। ‘‘তৃণমূলের অভিযোগের জবাব এই ভাবে দিতে চাই না। আমরা বলছি, এনআইএ তদন্ত হোক। কে বিস্ফোরণ ঘটাল, কেন ঘটাল, কী ভাবে ঘটাল— সব স্পষ্ট হয়ে যাবে।’’

(কলকাতা শহরের রোজকার ঘটনার বাছাই করা বাংলা খবর পড়তে চোখ রাখুন আমাদের কলকাতা বিভাগে।)

Advertisement