E-Paper

‌র‌্যাগিংয়ের অভিযোগ কলেজে, ইউজিসি-র চিঠিতে তদন্তে পুলিশ

১২ ফেব্রুয়ারি ইউজিসি ইমেলটি পায়। তাতে পড়ুয়ার দাবি, তিনি ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিপ্লোমা করছেন। প্রথম বর্ষের ছাত্র। তাঁরই বিভাগের দ্বিতীয় ও তৃতীয় বর্ষের কয়েক জন পড়ুয়া তাঁকে প্রতিদিন উত্ত্যক্ত করছেন।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৫:২৩

—প্রতীকী চিত্র।

দিনের পর দিন কলেজে তাঁকে র‌্যাগিংয়ের শিকার হতে হচ্ছে। নানা ভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চলছে। এমনই অভিযোগ জানাতে ইউজিসি-কে ইমেল করেছিলেন উত্তর কলকাতা পলিটেকনিক কলেজের প্রথম বর্ষের এক পড়ুয়া। অভিযোগ পেয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষকে মেল পাঠায় ইউজিসি। সেই সূত্রেই কাশীপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন কলেজ কর্তৃপক্ষ। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি এফআইআর হলেও শুক্রবার পর্যন্ত অভিযোগকারী পড়ুয়াকে পুলিশ খুঁজে পায়নি। চিহ্নিত করা যায়নি অভিযুক্তদেরও।

১২ ফেব্রুয়ারি ইউজিসি ইমেলটি পায়। তাতে পড়ুয়ার দাবি, তিনি ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিপ্লোমা করছেন। প্রথম বর্ষের ছাত্র। তাঁরই বিভাগের দ্বিতীয় ও তৃতীয় বর্ষের কয়েক জন পড়ুয়া তাঁকে প্রতিদিন উত্ত্যক্ত করছেন। তাঁর উপরে দাদাগিরি করা হচ্ছে। তিনি লিখেছেন, ‘পরিচয় জানার নাম করে আমাকে ডেকে নানা অত্যাচার করা হয়। আমাকে দিয়ে জোর করে ডন-বৈঠক দেওয়ানো হয়। নানা ভাবে শরীরে হাত দেওয়া হয়।’ তাঁকে সিগারেটের ছেঁকা দেওয়ারও অভিযোগ করেন ওই পড়ুয়া। এর পরেই নড়েচড়ে বসে ইউজিসি। ১৩ ফেব্রুয়ারি কলেজ কর্তৃপক্ষকে ইমেলে বিষয়টি জানানো হয়। কলেজ কর্তৃপক্ষ পড়ুয়ার খোঁজ করেন। কিন্তু ইমেলে পরিচয় গোপন রেখেছিলেন অভিযোগকারী। কলেজ কর্তৃপক্ষ কাশীপুর থানায় এফআইআর করেন।

পুলিশ জোর করে আটকে রাখা, হুমকি দেওয়া, সম্মানহানি ও সম্মিলিত অপরাধের একাধিক ধারায় মামলা রুজু করেছে। মামলায় যুক্ত করা হয়েছে ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল প্রহিবিশন অব র‌্যাগিং ইন এডুকেশনাল ইনস্টিটিউশন অ্যাক্ট ২০০০’-এর চার নম্বর ধারা। অভিযোগে যে হেতু আক্রান্ত পড়ুয়ার নাম নেই, তাই কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন তদন্তকারীরা। ওই বিভাগের প্রথম বর্ষের কয়েক জন পড়ুয়ার সঙ্গেও কথা বলা হয়। দ্বিতীয় এবং তৃতীয় বর্ষের কয়েক জনের সঙ্গেও পুলিশ কথা বলেছে। কিন্তু অভিযোগকারীকে চিহ্নিত করা যায়নি।

হেনস্থার যে সময়ের কথা চিঠিতে রয়েছে, সেই সময়ের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পুলিশ সংগ্রহ করেছে। গোটা বিষয়টি পুলিশের তরফে ইউজিসি-কে মেল করে জানানো হবে। এ বিষয়ে জানতে সংশ্লিষ্ট কলেজে ফোন করা হলে বলা হয়, ‘‘কলেজে ক্যাম্পাসিং চলছে। অধ্যক্ষ সেখানে ব্যস্ত রয়েছেন।’’

এর আগে র‌্যাগিংয়ের একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজ থেকে। বছর তিনেক আগে এক ছাত্রের মৃত্যু ঘিরে র‌্যাগিংয়ের অভিযোগ ওঠে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে। মেন হস্টেলের তেতলার বারান্দা থেকে পড়ে মৃত্যু হয় বাংলা বিভাগের প্রথম বর্ষের এক পড়ুয়ার। সেই ঘটনায় বিস্তর জলঘোলা হয়। একাধিক সিনিয়র ছাত্রকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গত বছরও যাদবপুরের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের স্নাতকের প্রথম বর্ষের এক ছাত্র র‌্যাগিংয়ের অভিযোগ তুলেছিলেন। সব ক্ষেত্রেই ইউজিসি কড়া অবস্থান নেওয়ার কথা বললেও র‌্যাগিং যে বন্ধ হয়নি, তা পলিটেকনিক কলেজের ঘটনাতেই ফের স্পষ্ট।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Ragging Student Harassment UGC

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy