E-Paper

কাঠামো দুলছিল, বলার পরেও কান দেয়নি কেউ

ভাগ্নে সাহিলকে কলকাতা ঘোরাতে সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলেন মোস্তাকিন। বললেন, “ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়েও ভাগ্নের সঙ্গে কথা হচ্ছিল। বললাম, ‘একটু কষ্ট কর আর খানিকটা সময়। নিশ্চয়ই কেউ না কেউ উদ্ধার করবে আমাদের’।”

প্রসেনজিৎ সাহা

শেষ আপডেট: ২৮ জুন ২০২৬ ০৬:১১
বাড়িতে মোস্তাকিন।

বাড়িতে মোস্তাকিন। — নিজস্ব চিত্র।

বাসন্তী: “গোটা কাঠামোটাই দুলছিল ঢালাইয়ের সময়ে”, বলছেন তারাতলা-কাণ্ডে জখম যুবক মোস্তাকিন গায়েন। তাঁর অভিযোগ, বার বার তা জানালেও কানে তোলেননি ইমারত গড়ায় দায়িত্বপ্রাপ্তেরা। শুক্রবার রাতে কলকাতার হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে মোম্তাকিন ফিরেছেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসন্তীর মুড়োখালির বাড়িতে। এখনও শয্যাশায়ী। ফিরেছেন ওই এলাকারই বাসিন্দা, জখম জউর আলি গায়েন। তাঁদের দুই সঙ্গী খালেক সর্দার ও সাহিল সর্দারের মৃত্যু হয়েছে।

ভাগ্নে সাহিলকে কলকাতা ঘোরাতে সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলেন মোস্তাকিন। বললেন, “ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়েও ভাগ্নের সঙ্গে কথা হচ্ছিল। বললাম, ‘একটু কষ্ট কর আর খানিকটা সময়। নিশ্চয়ই কেউ না কেউ উদ্ধার করবে আমাদের’।” মোস্তাকিন জানান, দুর্ঘটনার প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা পরে তাঁকে উদ্ধার করা হয়। তাঁর দাবি, উদ্ধারকারীদের বার বার ভাগ্নের আটকে থাকার কথা জানালেও তখন কথা শোনা হয়নি। তাঁর খেদ, “তখনই উদ্ধার করলে হয়তো বেঁচে যেত।”

মোস্তাকিন জানান, সে দিন সকাল ৮টা নাগাদ ঢালাই শুরু হয়। কিছু পরেই কাঠামোর বেশ কিছুটা দুলতে থাকে। ইঞ্জিনিয়ার-সহ অন্যদের সে কথা জানিয়েছিলেন। তাঁর আক্ষেপ, “ওঁরা কেউ তখন আমার কথায় গুরুত্ব দিলেন না। দিলে হয়তো এতগুলো প্রাণ রক্ষা পেত!”

মুড়োখালি গ্রামে শনিবার বিকেলে খালেকের দেহ পৌঁছয়। স্ত্রী রোজিনা বলেন, “ইচ্ছে করে খুন করা হয়েছে আমার স্বামীকে আর ওঁর সঙ্গীদের!”

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Taratala KMC

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy