বিজেপিশাসিত রাজ্যে বাংলা ভাষায় কথা বললেই আক্রান্ত হচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের পরিযায়ী শ্রমিকেরা। বাংলা ও বাঙালিদের উপর আক্রমণের ঘটনার প্রতিবাদে সরব হয়েছে বাংলার শাসকদল তৃণমূল। এ বার সেই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে তৃণমূল কাউন্সিলরদের বাজেট অধিবেশনে বাংলায় বক্তৃতা করার আবেদন জানালেন কলকাতা পুরসভায় তৃণমূলের মুখ্যসচেতক বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্ত। কলকাতা পুরসভায় শাসকদলের এমন অনেক কাউন্সিলর রয়েছেন, যাঁদের মাতৃভাষা হিন্দি কিংবা উর্দু। মুখ্য সচেতকের ডাকে সাড়া দিয়ে তারাও অধিবেশনে বাংলায় বক্তৃতা করতে পারেন। শুক্রবার কলকাতা পুরসভায় বাজেট পেশ করেছেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। তাঁর মাতৃভাষা উর্দু হলেও, তিনি বাংলাতেই বাজেট পেশ করেছেন। আগামী সোম ও মঙ্গলবার বাজেট নিয়ে আলোচনা হবে পুরসভা। সেই অধিবেশনে দু’দিনে প্রায় ৪০ জন কাউন্সিলর বক্তৃতা করবেন। বামফ্রন্ট, বিজেপি ও কংগ্রেস কাউন্সিলরদের বাদ দিয়ে সমস্ত তৃণমূল কাউন্সিলররা বাংলায় বক্তৃতা দেবেন বলেই জানা গিয়েছে।
বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির মর্যাদা রক্ষার দাবিতে কলকাতা পুরসভার বাজেট অধিবেশন ঘিরে নতুন বার্তা দিল তৃণমূলের পুর দল। দলীয় মুখ্য সচেতক বাপ্পাদিত্য এক বিবৃতিতে আহ্বান জানিয়েছেন, বাজেট অধিবেশনে সমস্ত বক্তৃতা যেন বাংলায় রাখা হয়। তাঁর দাবি, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বাংলা ভাষাভাষীদের হেনস্থার অভিযোগ উঠছে, এমন পরিস্থিতিতে বাংলা ও বাঙালির আত্মমর্যাদা রক্ষায় এই পদক্ষেপ দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন, যে বাংলার মননে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘জন গণ মন’ এবং বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘বন্দেমাতরম’ অনুরণিত হয়, সেই বাংলা ভাষায় কথা বলার অধিকার নিয়েও প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। তাঁর কথায়, বিজেপি শাসিত কয়েকটি ভিন্ রাজ্যে বাংলা ভাষায় কথা বলার জন্য বাঙালিদের হেনস্থার ঘটনা সামনে এসেছে, যা গভীর উদ্বেগের।
আরও পড়ুন:
এই প্রেক্ষাপটে বাপ্পাদিত্য জানান, বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁদের অবস্থানকে সমর্থন জানিয়ে পুরসভার সকল সদস্যদের কাছে আবেদন করা হয়েছে, বাজেট অধিবেশনে বাংলা ভাষাকেই একমাত্র ভাষা হিসেবে ব্যবহার করতে। মুখ্য সচেতকের অনুরোধ মেনে বাংলাতেই বাজেট বক্তৃতা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ২০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বিজয় উপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘‘আমার মাতৃভাষা হিন্দি হলেও, আমার জন্ম, কর্ম, বেড়ে ওঠা সবই কলকাতায়। আমি নিজেকে বাঙালি বলতেই বেশি পছন্দ করি। তাই পুর অধিবেশনে বাজেট বক্তৃতা বাংলা করা নিয়ে আমার কাছে যে আবেদন এসেছে, তা আমি মেনে চলব। দু’দিনের আলোচনায় যে দিনই আমি বক্তৃতা করা সুযোগ পাব, সে দিনই আমি বাংলায় বক্তৃতা করব।’’ ১৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূলের যুবা কাউন্সিলর শামস ইকবালের মাতৃভাষা আবার উর্দু। কিন্তু দলের কথা মেনেই বাজেট অধিবেশনে বাংলায় বক্তৃতা করবেন তিনিও। শামস বলেন, ‘‘আমার মাতৃভাষা যাই হোক। আমি সব ভাষাভাষীর মানুষের সঙ্গে মিশেই কলকাতায় বড় হয়েছি। আমার মা-বাবা সব ভাষাভাষীর মানুষকে মর্যাদা দিতে শিখিয়েছেন। আর বাংলা তো আমাদের প্রাণের ভাষা, সেই ভাষায় বক্তৃতা দেওয়া তো আমার জন্য সৌভাগ্যের। বাজেট সংক্রান্ত বিষয়ে পড়াশোনা করেই আমি বাংলাতেই বক্তৃতা দেব।’’
রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে ভাষা ও সংস্কৃতির প্রশ্নে জনমত সংগঠিত করতেই বিজেপির বিরুদ্ধে এই কৌশল নিয়েছে তৃণমূল পুর দল।