চারহাত এক হল। সিঁদুরে রাঙা হল অভিনেত্রী শ্যামৌপ্তির মুদলির সিঁথি। ঠিক যেমনটা কল্পনা করেছিলেন। অভিনেতা রণজয় বিষ্ণুর সঙ্গে সাতপাকে বাঁধা পড়লেন নায়িকা। ঠিক যেমনটা পরিকল্পনা করেছিলেন তাঁরা। তেমনই হয়েছে। বিয়েতে তথাকথিত বেনারসির সাজে সাজবেন না, বলেছিলেন অভিনেত্রী। নিজের মনের মতো সাজেই ধরা দিলেন নতুন কনে।
আমন্ত্রিতের তালিকা ছিল লম্বা। ইন্ডাস্ট্রির প্রায় সব চেনা মুখকেই দেখা গেল নায়ক-নায়িকার বিয়েতে। এসেছিলেন ছোটপর্দা থেকে বড়পর্দার অনেক অভিনেতাই। রণজয়-শ্যামৌপ্তিকে নতুন জীবনের শুভেচ্ছা জানাতে আসেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। ফুলের তোড়া হাতে দম্পতিকে শুভেচ্ছা জানান রুদ্রনীল ঘোষ। নিজের বিয়ে নিয়ে খুনসুটি করতে ভোলেননি। আদৃত রায়, পারিজাত চৌধুরী, তথাগত মুখোপাধ্যায়, বিবৃতি চট্টোপাধ্যায়-সহ অভিনয়জগতের একাধিক চেনা মুখকে এ দিন দেখা যায় বিয়েবাড়িতে।
বিয়েতে যতই ব্যস্ত থাকুন না কেন, নতুন বর-কনের আপ্যায়ণে কোনও খামতি ছিল না। প্রায় প্রত্যেককে সমান গুরুত্ব দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। সকাল থেকে গায়েহলুদ পর্বের ছবি ছড়িয়ে পড়েছে চারিদিকে। তার পর থেকেই দর্শকের কৌতূহল তাঁদের বিয়ের ছবি দেখার।
পরিণতি পেল প্রেম। নিজস্ব চিত্র।
শুটিংয়ের সুবাদে অনেক বারই রণজয় এবং শ্যামৌপ্তিকে বিয়ের দৃশ্যে দেখা গিয়েছে। কিন্তু বাস্তবে নায়ক-নায়িকাকে বিয়ের দিনে ঠিক কেমন লাগবে? সেই প্রশ্নই ঘুরছিল অনুরাগীদের মনে। অবশেষে নবদম্পতির ছবি প্রকাশ্যে। তাঁদের দেখে খুশি সকলে। রণজয়-শ্যামৌপ্তির বিবাহের আসর সেজেছিল নানা ধরনের ফুল আর বাহারি আলোয়। মণ্ডপে রজনীগন্ধার সজ্জা। বিশাল মঞ্চে হবু দম্পতির ‘গ্র্যান্ড এন্ট্রি’ ছিল নজরকাড়া। আবহে বেজেছে গান, পর্দায় দেখানো হয়েছে জুটির প্রেমকাহিনি। ঠিক যেন সিনেমার মতো।
বর-কনের সাজে রণজয়-শ্যামৌপ্তি। ছবি: সংগৃহীত।
শ্যামৌপ্তির একটাই আবদার ছিল রণজয়ের কাছে। নাকে যেন সিঁদুর পরে। সিঁদুর রাঙা শ্যামৌপ্তির লাজুক চাউনি দেখে স্বামী রণজয়ও মুগ্ধ। বিয়েতে খাওয়া-দাওয়ার আয়োজনও হয়েছিল এলাহি। একাধিক স্টার্টারের সঙ্গে গলা ভেজানোর জন্য শরবতের ঢালাও ব্যবস্থা। বাঙালিয়ানায় মোড়া বিয়ের মেনুতেও ছিল বাঙালি ছোঁয়া। চিংড়ি থেকে পাঁঠার মাংস— সবই ছিল পাতে।