E-Paper

উড়ালপুলে গতির তুফান তুলে দুর্ঘটনায় বাইক, মৃত্যু দুই যুবকের

পুলিশের দাবি, বাইকের অতিরিক্ত গতির কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। উল্টোডাঙা উড়ালপুলের বাইপাসের দিকের রাস্তা ধরে ওই চার জন লেক টাউনের দিকে নামছিলেন।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৬ মে ২০২৫ ০৬:৫৮
উল্টোডাঙা উড়ালপুলের দুর্ঘটনাস্থল। পড়ে রয়েছে বাইকের ভাঙা অংশ। সোমবার।

উল্টোডাঙা উড়ালপুলের দুর্ঘটনাস্থল। পড়ে রয়েছে বাইকের ভাঙা অংশ। সোমবার। নিজস্ব চিত্র।

শহরে আবারও বেপরোয়া গতির শিকার হলেন মোটরবাইক আরোহীরা।

উল্টোডাঙা উড়ালপুল ধরে বেপরোয়া গতিতে একটি মোটরবাইকে চেপে যাচ্ছিলেন চার যুবক। উড়ালপুলে বাঁক নেওয়ার সময়ে চালক বাইকের নিয়ন্ত্রণ হারালে চার জনই রাস্তায় ছিটকে পড়ে জখম হন। তাঁদের মধ্যে দু’জনের মৃত্যু হয়। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনা ঘটেছে সোমবার ভোরে, বিধাননগর কমিশনারেটের লেক টাউন থানা এলাকার উল্টোডাঙা উড়ালপুলের উপরে। পুলিশ জানায়, মৃতদের নাম মহম্মদ রহমান (২০) ও মহম্মদ শোয়েব (২১)। অন্য দুই জখম আরোহীর নাম মহম্মদ সোহেল ও মহম্মদ শাহরুখ। তাঁদের মধ্যে সোহেলের অবস্থা অত্যন্ত সঙ্কটজনক। ওই চার যুবকের কারও মাথাতেই হেলমেট ছিল না বলে পুলিশ জানিয়েছে। তাঁদের সকলেরই বাড়ি পার্ক সার্কাস এলাকায়।

পুলিশের দাবি, বাইকের অতিরিক্ত গতির কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। উল্টোডাঙা উড়ালপুলের বাইপাসের দিকের রাস্তা ধরে ওই চার জন লেক টাউনের দিকে নামছিলেন। উড়ালপুলের বাঁকের মুখে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলায় বাইকটি রেলিংয়ে ধাক্কা মারে। ছিটকে পড়েন চার আরোহী। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁদের উদ্ধার করে আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায় পুলিশ। সেখানে রহমান ও শোয়েবকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকেরা।

উল্টোডাঙা উড়ালপুলের উপরে লেক টাউনের দিকে নামার ওই বাঁকে অতীতেও একাধিক প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটেছে। এমনকি, গতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারায় বাইক নিয়ে উড়ালপুলের উপর থেকে সটান নীচে পড়েও বাইক আরোহীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। তার পরে কেএমডিএ-র তরফে উড়ালপুলের ওই অংশে লোহার জাল লাগিয়ে দেওয়া হয়। পুলিশ জানাচ্ছে, লোহার জাল থাকার কারণেই এ দিন ওই বাইক আরোহীরা তাতে ধাক্কা খেয়ে উড়ালপুলের উপরেই ছিটকে পড়েন। জাল না থাকলে তাঁরাও সোজা উড়ালপুলের নীচে গিয়ে পড়তেন। লোহার জালের যে অংশে বাইকটি ধাক্কা মারে, সেখানে এ দিন রক্তের দাগ লেগে থাকতে দেখা যায়।

মৃত ও আহত যুবকদের পরিবার সূত্রের খবর, তাঁরা সকলেই অতি নিম্নবিত্ত পরিবারের। দুর্ঘটনায় মৃত রহমান মার্বেলের উপরে রঙের কাজ করতেন। শোয়েব কাজ করতেন হাওয়াই চটির দোকানে। আকস্মিক এই ঘটনায় বাক্‌রুদ্ধ তাঁদের পরিবারের সকলে। এ দিন দুপুরে আর জি কর হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, ট্রমা কেয়ারের সামনে ভিড় জমেছে। লোকজন উদ্বিগ্ন আহত সোহেল ও শাখরুখের শারীরিক অবস্থা নিয়ে। সোহেল মৃত শোয়েবের আপন ভাই। তাঁদের বাবা খুরশিদ কাঁদতে কাঁদতে বললেন, ‘‘সর্বনাশ হয়ে গেল আমাদের। জানি না, কার বাইক নিয়ে বেরিয়েছিল ওরা।’’ মৃত রহমানের মা আফরোজ বেগমকে মাথা চাপড়ে কাঁদতে দেখা যায়। তিনি বলেন, ‘‘আমার একটাই সন্তান। আমি কাকে নিয়ে বাঁচব? আমাকে কে দেখবে? ছেলে তো একটু ঘুরে আসছি বলে বেরিয়েছিল।’’

প্রাথমিক ভাবে দুর্ঘটনাগ্রস্তদের পরিবারের লোকজন জানতে পেরেছেন, চার বন্ধু একটি বাইকে চেপেই বেরিয়েছিলেন। কিন্তু সেই বাইক তাঁরা কার কাছ থেকে নিয়ে গিয়েছিলেন, তা স্পষ্ট নয় রহমান কিংবা শোয়েবের পরিবারের কাছে। খুরশিদ বলেন, ‘‘আমি একটি ফ্ল্যাটে নিরাপত্তাকর্মীর কাজ করি। দুর্ঘটনার সময়ে তপসিয়ার একটি আবাসনে কাজ করছিলাম। সকালে খবর পাই, ছেলের দুর্ঘটনা ঘটেছে।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Road Accident Ultadanga Flyover

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy