E-Paper

দায়ের এক ডজন মামলা! ফের হেফাজতে বাপ্পাদিত্য

মহিলা আইনজীবীকে মারধর, তাঁর বাড়িতে ভাঙচুর চালানোএবং অগ্নি-সংযোগের ঘটনায় দায়ের হওয়া একটি মামলায় রবিবার বাপ্পাদিত্যকে পুলিশি হেফাজত থেকে আলিপুরের মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে পেশ করা হয়।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২২ জুন ২০২৬ ০৭:৩৯
বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্ত।

বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্ত।

নিজস্ব সিন্ডিকেট বাহিনী তৈরি করে ২০২১ সালের বিধানসভা ভোট পরবর্তী সময়ে এলাকায় অপরাধ সংঘটিত করা, এক মহিলা আইনজীবীকে মারধর করে দু’লক্ষ টাকা আদায়, তোলাবাজি-সহ একাধিক অভিযোগে পাটুলি থানার পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়া, ১০১ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল পুরপ্রতিনিধি বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্তকে সশস্ত্র বাহিনী নিয়ে হামলা চালানো এবং তোলাবাজির আর একটি মামলায় ‘শোন অ্যারেস্ট’ করল পুলিশ।

এক মহিলা আইনজীবীকে মারধর, তাঁর বাড়িতে ভাঙচুর চালানোএবং অগ্নি-সংযোগের ঘটনায় দায়ের হওয়া একটি মামলায় রবিবার বাপ্পাদিত্যকে পুলিশি হেফাজত থেকে আলিপুরের মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে পেশ করা হয়। এই মামলায় পুলিশেরতরফে বাপ্পাদিত্যের জেল হেফাজতের আর্জি জানানো হলে বিচারক তা মঞ্জুর করেন। এর পরেই আবার সশস্ত্র বাহিনী নিয়ে হামলা চালানো এবং তোলাবাজির ঘটনায় পাটুলিথানাতেই দায়ের হওয়া আর একটি মামলায় ওই পুরপ্রতিনিধির পুলিশি হেফাজতের জন্য আবেদন জানান সরকারি আইনজীবী। আবেদনশুনে বিচারক ৪ জুলাই পর্যন্ত বাপ্পাদিত্যকে পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন বলে আদালত সূত্রের খবর।

এ দিন আদালতে সরকারি আইনজীবী শুভাশিস ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘বাপ্পাদিত্য এক জন জনপ্রতিনিধি। অথচ, তাঁর কার্যকলাপ অন্ধকার জগতের অপরাধীদের মতো। তিনি নিজস্ব বাহিনী নিয়ে এক জন মহিলা আইনজীবীকে মারধর করে তাঁর বাড়িতে ভাঙচুর চালিয়ে শুধু অগ্নি-সংযোগই করেননি, ওই আইনজীবীর কাছ থেকে কয়েক লক্ষ টাকা নিয়ে তাঁকে এলাকাছাড়া করে রেখেছিলেন।’’

এর পাশাপাশি, সম্প্রতি বাপ্পাদিত্যের বিরুদ্ধে দায়ের হয়েছে আরও একটি মামলা। অভিযোগ, পুরপ্রতিনিধির সিন্ডিকেট বাহিনীর এক দুষ্কৃতী আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ভয় দেখিয়ে, এক ব্যক্তিকে মারধর করে কয়েক লক্ষ টাকা লুট করে। অভিযুক্ত বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে রয়েছে। পুলিশের দাবি, জেরায় ওই দুষ্কৃতী জানিয়েছে, সে বাপ্পাদিত্যের নির্দেশে ওই ঘটনা ঘটিয়েছিল এবং লুট করা টাকার একটি অংশ নিয়েছিলেন পুরপ্রতিনিধি। এই মামলায় এ দিন সরকারি আইনজীবী বলেন, ‘‘অভিযুক্ত দুষ্কৃতীর ব্যবহার করা আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার এবং এই ঘটনায় বাপ্পাদিত্য-ঘনিষ্ঠ আর কোন কোন দুষ্কৃতী জড়িত, তা পুরপ্রতিনিধিকে হেফাজতে নিয়ে জানা প্রয়োজন। সেই কারণে বাপ্পাদিত্যের পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানানো হচ্ছে।’’

তবে, এ দিন পুরপ্রতিনিধির তরফে কোনও আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না। জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের তরফে আইনজীবী সৈকত রক্ষিত বাপ্পাদিত্যের জামিনের আবেদন জানিয়ে বলেন, ‘‘প্রতিহিংসাবশত মামলা করা হয়েছে। দু’টি মামলার কোনওটিতেই অভিযোগ প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তাই অভিযুক্তকে জামিন দেওয়া হোক।’’

প্রসঙ্গত, এলাকায় সশস্ত্র হামলা চালানো, ভাঙচুর, তোলাবাজি, যৌন হেনস্থা-সহ পাটুলি থানায় বাপ্পাদিত্যের বিরুদ্ধে ১২টি মামলা দায়ের হয়েছে। তার মধ্যে দু’টি মামলায় বাপ্পাদিত্যকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বাকি ১০টি মামলার তদন্ত আপাতত প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশকর্তারা। প্রয়োজনে ওই সব মামলাতেও বাপ্পাদিত্যকে হেফাজতে নেওয়া হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Patuli

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy