জমি আন্দোলন করেই ক্ষমতায় আসা। তাই বিশেষ আর্থিক অঞ্চল (এসইজ়েড বা সেজ) গড়ার প্রশ্নে গোড়া থেকেই নেতিবাচক অবস্থান নিয়ে এসেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একাধিক শিল্প সংস্থা বারংবার আর্জি জানিয়ে, অপেক্ষা করে, অবশেষে পাড়ি জমিয়েছে অন্য রাজ্যে। আগামী দিনে রাজ্যের শিল্পায়নের ক্ষেত্রে এসইজ়েড গড়ার প্রশ্নে ইতিবাচক পথে হাঁটার ইঙ্গিত দিয়েছে শাসক শিবির।
শিল্পের প্রশ্নে আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গের ছবিটি পাল্টাতে গোড়া থেকেই উদ্যোগী নতুন সরকার। এ জন্য প্রয়োজন বড় মাপের বিনিয়োগ ও আর্থিক লগ্নি। সূত্রের মতে, যা নিয়ে কথা বলতে আগামী সপ্তাহে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের সঙ্গে দেখা করতে ফের দিল্লি আসবেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। বিজেপি সূত্রের মতে, বিনিয়োগের পাশাপাশি, ঋণভারে জর্জরিত পশ্চিমবঙ্গের প্রয়োজন বিশেষ আর্থিক প্যাকেজ। পূর্ববর্তী সরকারের ঋণ ছাড়াও ভোটের আগে মহিলা-যুবকদের জন্য বিজেপি যে আর্থিক সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা পূরণ করতে প্রয়োজন বেশ কয়েক হাজার কোটি টাকা। শুধু তা-ই নয়, সরকারি কর্মচারীদের ডিএ-এর অর্থের একাংশই কেবল মিটিয়েছে আগের সরকার। উপরন্তু ক্ষমতায় এলে সপ্তম বেতন কমিশনের সুপারিশ কার্যকর হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে রেখেছে বিজেপি। ফলে আগামী দিনে বড় মাপের আর্থিক সাহায্য ছাড়া যে ওই আর্থিক চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করা যথেষ্ট কঠিন, তা বিলক্ষণ বুঝতে পারছেন সদ্য দায়িত্ব নেওয়াবিজেপি নেতারা।
এ দিকে রাজ্যে পট পরিবর্তনের পরেই বিনিয়োগের ছবিটি ক্রমশ উজ্জ্বল হচ্ছে বলে দাবি করছেন শাসক শিবিরের নেতারা। বিনিয়োগের প্রশ্নে রাজ্যকে তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পের আদর্শ গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরতে বিশেষ আর্থিক অঞ্চল ঘোষণার কথা ভাবা হয়েছে। যাতে বিভিন্ন ধরনের করছাড়ের সুযোগ নিয়ে লগ্নি করতে এগিয়ে আসে তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাগুলি। রাজ্য বিজেপির এক নেতার কথায়, ‘‘বিনিয়োগকারীরা ছাড় চায়। যে ছাড় এসইজ়েডে লগ্নি হলে, তবেই পাওয়া সম্ভব। কিন্তু সেই যুক্তি মানতে চায়নি আগের সরকার। তাই পূর্ববর্তী আমলে ইনফোসিস-উইপ্রোর মতো সংস্থাগুলি রাজ্যে বিনিয়োগের প্রশ্নে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েও পিছিয়ে আসে (যদিও দীর্ঘ টালবাহানার পরে ইনফোসিস ও পরে আইটিসি-কে ২৫ একর করে জমি দেয় রাজ্য)।’’ সে সময়ে মমতার যুক্তি ছিল, লগ্নি টানতে তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পের যে ধরনের চাহিদা থাকে, তা মেটাতে প্রস্তুত তাঁর সরকার। কিন্তু তিনি দলীয় নীতির কারণে এসইজ়েডে সম্মতি দিতে রাজি নন। বিষয়টি নিয়ে বিস্তর টালবাহানার ফলে ক্রমশ উৎসাহ হারিয়ে ফেলেন বিনিয়োগকারীরা। পশ্চিমবঙ্গ ছেড়ে বিনিয়োগের প্রশ্নে অন্য রাজ্যে চলে যায় একের পর জাতীয় ও আন্তর্জাতিক তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা। ইতিমধ্যেই একাধিক তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা আদর্শ পরিবেশ হলে রাজ্যে বিনিয়োগ করার প্রশ্নে বর্তমান শাসক শিবিরের কাছে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পের পাশাপাশি একাধিক ভারী শিল্প সংস্থা বিনিয়োগ করার প্রশ্নে আগ্রহ দেখিয়েছে। কিন্তু ভারী শিল্পের জন্য বড় মাপের জমি প্রয়োজন। যা পাওয়া পশ্চিমবঙ্গে বড় মাপের সমস্যা। শমীকের মতে, ‘‘এই সমস্যা মেটাতে আগামী ছয় মাসের মধ্যে সরকার জমি নীতি নিয়ে আসতে চলেছে। যাতে সব পক্ষের স্বার্থের কথা ভাবা হবে।’’ যাঁদের জমি নেওয়া হবে, তাঁদের জমির মূল্য ধরে দেওয়ার পাশাপাশি পরিবারের সমর্থ ব্যক্তিরা যাতে দীর্ঘমেয়াদি ভিত্তিতে আয়ের রাস্তা পান, তা নিশ্চিত করার উপরেই জোর দেবে রাজ্য সরকার।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)