টুকটুকের দিকে চকোলেট এগিয়ে দিয়ে জাজ-জেঠু জানতে চাইলেন, ‘কার সঙ্গে থাকতে চাও তুমি, বাবা না মা?’ টুকটুকের চোখে ভেসে উঠল বাবার হাসিখুশি মুখটা। দাদু-ঠাকুমার মুখও। কিন্তু মাকে ছেড়ে সে থাকবে কী করে? একটু থমকে, ঢোঁক গিলে, কাঁপা গলায় টুকটুক বলল— ‘মা...।’
কার অধিকার?
বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের ক্ষেত্রে সন্তান কার কাছে থাকবে, আইনে তা ছাপ মেরে বলে দেওয়া নেই। আইন বলছে, যাঁর কাছে থাকলে সন্তানের সর্বাঙ্গীন মঙ্গল, তাঁর কাছেই থাকা উচিত। সন্তানের যদি বোঝার ক্ষমতা তৈরি হয়ে থাকে, তবে তারও মত নিতে হবে।
এমনিতে ঘটে কী?
সাধারণত মাকেই সন্তানের দায়িত্ব দেওয়া হয়। কেননা সাধারণ ধারণা হল, রেঁধে খাওয়ানো থেকে স্কুলের হোমওয়ার্ক করিয়ে দেওয়া, রোজকার যত্ন-নজরদারি মায়েরাই ভাল করতে পারেন। কিন্তু যদি দেখা যায় যে মা সন্তান পালনে অপারগ, হয়তো তিনি এমন চাকরি করেন যে বাড়িতে সময় দিতে পারেন না বা তাঁর নিজেরই ঠিকঠাক থাকার জায়গা নেই, বাবাকে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।
অন্য জনের অধিকার?
সন্তান মায়ের কাছে থাকলেও বাবা নির্দিষ্ট সময় অন্তর, ধরা যাক সপ্তাহান্তে বা মাসে দু’বার, তার সঙ্গে দেখা করতে পারেন। দিতে পারেন উপহার। স্কুলে ‘পেরেন্টস মিট’-এও যেতে পারেন। ছুটির সময়ে মায়ের সম্মতি নিয়ে সন্তানকে নিজের কাছে এনে রাখতেও পারেন। সন্তান বাবার কাছে থাকলে মায়ের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম। তবে তাঁরা কতটা কী করতে পারবেন বা পারবেন না, তার সবটাই বিচ্ছেদের পর্বে আদালতে ঠিক করে নিতে হবে। যেমন, বিচ্ছেদের শর্ত হিসেবে পরে সন্তানের সঙ্গে দেখা করার অধিকার বাবা বা মা ছেড়েও দিতে পারেন।
বাবা-মা কেউ যদি সন্তানকে নিতে না চান বা যোগ্য বিবেচিত না হন?
বাবা হয়তো মাতাল, মা অন্য কোনও সম্পর্কে জড়িয়ে সন্তানকে রাখতে অনিচ্ছুক— সাধারণত দাদু-দিদাকে (যে কোনও তরফের) দায়িত্ব দেওয়া হয়। তাঁরা সেই দায়িত্ব নিতে চান কি না বা পারবেন কি না, তা অবশ্য বিবেচ্য। কেউ না নিলে হোমই হবে সেই শিশুর ঠিকানা।
খরচ জোগাবে কে?
বাবা যদি স্বচ্ছল হন, সন্তান মায়ের কাছে থাকলেও তার যাবতীয় খরচ জোগানোর দায়িত্ব বাবার। ছেলের ক্ষেত্রে ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত, মেয়ের ক্ষেত্রে বিয়ে পর্যন্ত সব খরচ, এমনকী বিয়ের খরচও তাঁরই দেওয়ার কথা। সন্তান যদি বাবার কাছে থাকে এবং মা ভাল রোজগার করেন, তাঁর উপরে একই দায়িত্ব বর্তায়। তবে যিনি সন্তান রাখছেন, বিচ্ছেদের শর্ত হিসেবে তিনি অপর জনকে সেই দায় থেকে মুক্তিও দিতে পারেন।
সন্তানের যত্ন না হলে?
বিচ্ছেদের সময়কার পরিস্থিতি যদি পরে পাল্টে যায় এবং তার জেরে সন্তানের যত্ন বা নিরাপত্তার অভাব ঘটে, অন্য পক্ষ ফের আদালতে যেতে পারেন। যেমন সন্তান হয়তো মায়ের কাছে ছিল। মা ফের বিয়ে করেছেন এবং বাবা মনে করছেন যে সেই নতুন সংসারে ছেলে বা মেয়েটি ভাল নেই, তিনি সন্তান ফেরত চাইতে পারেন।