আর জি কর-কাণ্ডের আবহে ‘রাত দখল’ হয়েছিল। এ বার হকার উচ্ছেদ রুখতে সিপিএমের শ্রমিক সংগঠন সিটু-সহ মূলত বামপন্থী বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতৃত্বে বুধবার সোদপুর স্টেশনে ‘রাত পাহারা’ দিলেন হকারদের একাংশ। উচ্ছেদের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবারও নানা প্রান্তে বামেদের প্রতিবাদ অব্যাহত রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সিপিএম রাজনীতি করতে চাইছে বলে পাল্টা সরব হয়েছে বিজেপি।
উচ্ছেদ রুখতে সোদপুর স্টেশনে ওই রাতে সিটু অনুমোদিত রেলওয়ে হকার্স ইউনিয়ন-সহ বিভিন্ন সংগঠন ‘পাহারা’ দিয়েছে। ছিলেন সিটু নেতা গার্গী চট্টোপাধ্যায়, কলতান দাশগুপ্ত, সিপিআই (এম-এল) লিবারেশনের উত্তর ২৪ পরগনা জেলা সম্পাদক নবেন্দু দাশগুপ্ত প্রমুখ। সকালে হয়েছে মিছিলও। সোদপুরের স্টেশন ম্যানেজারের সঙ্গে শ্রমিক নেতৃত্ব দেখা করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, তাঁরা রেলের উন্নয়নের বিরুদ্ধে নন। কিন্তু পুনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদ চলবে না। হকারদের লাইসেন্স দিতে হবে। এই আবহে কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য অধীর চৌধুরীও বলেছেন, “কর্মসংস্থান না-থাকাতেই মানুষ শখে নয়, বাধ্য হয়ে হকারি করছেন। এই সরকার হাকরদের পেটে মারছে। উচ্ছেদের আগে পুনর্বাসন দিতে হবে। সরকার সংবেদনশীল হোক।” দমদম ক্যান্টনমেন্ট ও দমদম স্টেশন চত্বরে আজ, শুক্রবার হকার উচ্ছেদের নোটিস দিয়েছে রেল। উচ্ছেদের বিরুদ্ধে সকাল থেকে ক্যান্টনমেন্ট যৌথ সংগ্রাম কমিটি স্টেশন চত্বরে জমায়েতের ডাক দিয়েছে।
বিজেপি বিধায়ক রীতেশ তিওয়ারি পাল্টা বলেছেন, “এটা প্রশাসনিক কাজ। এর সঙ্গে রাজনীতিকে গুলিয়ে ফেলা ঠিক নয়। সিপিএমের হাতে কিছু না-থাকায় বিষয়টাকে খড়কুটো করে জনজীবনে ভেসে থাকতে চাইছে। ৪৯ বছর ধরে এই ঘৃণ্য রাজনীতি রাজ্যটার সর্বনাশ করেছে।” উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ, জাতীয় হকার আইন ২০১৪ অনুযায়ী ‘ভেন্ডিং কমিটি’র মাধ্যমে হকারদের সচিত্র পরিচয়পত্র দেওয়ার মতো নানা দাবিতে সরব হয়েছেন লিবারেশনের শ্রমিক সংগঠন এআইসিসিটিইউ-র রাজ্য সম্পাদক দিবাকর ভট্টাচার্য।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)