Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

০৯ ডিসেম্বর ২০২১ ই-পেপার

ব্যারাকপুরে দীনেশকে হারালেন ‘বাহুবলী’ অর্জুন

সুপ্রকাশ মণ্ডল
২৪ মে ২০১৯ ০৪:৩৯
ছেলে পবনের সঙ্গে অর্জুন সিংহ। ছবি: বিশ্বনাথ বণিক

ছেলে পবনের সঙ্গে অর্জুন সিংহ। ছবি: বিশ্বনাথ বণিক

গণনাকেন্দ্রে ঢোকা ইস্তক, একটি চেয়ারে ঠায় বসে ছিলেন তিনি। একের পর এক রাউন্ডের ফল এসেছে। চোখ বুলিয়েছেন, কখনও মুখে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। কখনও আবার হাসতে হাসতে সঙ্গীদের কারও পিঠ চাপড়ে বলেছেন, “দেখা, হামনে কহা থা না!” দিনের শেষে হাসি চওড়া হয়ছে অর্জুন সিংহের। ব্যারাকপুর কেন্দ্রে তৃণমূলের দু’বারের সাংসদ দীনেশ ত্রিবেদীকে হারিয়ে বিজেপি প্রার্থী অর্জুন বলছেন, “মানুষ মমতা এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে জবাব দিয়েছে। আগামী দিনে সেই জবাব আরও তীব্র হবে।”

তৃণমূলের চারবারের বিধায়ক অর্জুন যেদিন বিজেপির প্রার্থী হলেন, সে দিন থেকেই ব্যারাকপুর কেন্দ্র নিয়ে সব মহলেই কৌতূহল চড়েছিল। প্রশ্ন ছিল অর্জুন কি পারবেন ঘাসফুলের বাগানে পদ্ম ফোটাতে? লড়াই তীব্র ছিল। ভোটে সব বিধানসভা কেন্দ্রে নানান সমীকরণ হয়েছে। তবে দীনেশের পক্ষেই বাজির দর ছিল বেশি। কিন্তু তাকে ভুল প্রমাণ করলেন ভাটপাড়ার ‘বাহুবলী’ নেতা।

একমাত্র আমডাঙা ছাড়া আর কোনও বিধানসভা কেন্দ্রেই বলার মতো ‘লিড’ পায়নি তৃণমূল। নোয়াপাড়ায় মাত্র কয়েকশো ভোটের লিড। বাকি বিধানসভায় অর্জুনের প্রাপ্ত ভোটকে ছাড়িয়ে যেতে পারেনি তৃণমূল। জয়ের ব্যবধান মাত্র সাড়ে চোদ্দো হাজার হলেও, অঙ্ককে গুরুত্ব দিতে নারাজ অর্জুন। তবে নৈহাটি, জগদ্দল এবং ব্যারাকপুরের মতো শক্ত ঘাঁটিতে বিজেপির এই ফল তৃণমূল নেতৃত্বের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলতে বাধ্য।

Advertisement

ব্যারাকপুরের ভোট পরিচালনার ভার মমতা দিয়েছিলেন নৈহাটির বিধায়ক পার্থ ভৌমিককে। তাঁর গড়েই অর্জুন প্রায় দু’হাজার ভোটে এগিয়ে যান। বীজপুর বিধানসভা নিয়েও সকলের আগ্রহ ছিল বেশি। এই কেন্দ্রের বিধায়ক শুভ্রাংশু রায় বিজেপি নেতা মুকুল রায়ের পুত্র। এই কেন্দ্রে অর্জুন সাড়ে সাত হাজারেরও বেশি ভোটে এগিয়ে যান। ভোটের ফল সামনে আসতেই নানা জল্পনা শুরু হয়ে যায়। ব্যারাকপুরের গণনা নিয়ে এ দিন তৃণমূল এবং বিজেপি দুই শিবিরেই সকাল থেকে টেনশন ছিল তুঙ্গে। কখনও অর্জুন এগোচ্ছেন তো কখনও দীনেশ। এক সময় পর পর চারটি রাউন্ডে এগিয়ে যান দীনেশ। আমডাঙা কেন্দ্রে দীনেশ ৩৫ হাজারেরও বেশি ভোটে ‘লিড’ পান। তবে আমডাঙার ‘লিড’ কার্যত মুছে যায় ভাটপাড়ায় এসে। নিজের গড়ে অর্জুন জেতেন প্রায় ৩০ হাজার ভোটে। বাকি কেন্দ্রগুলিতে খুব কম ব্যবধানে জিতলেও জয় ছুঁতে আর বেগ পেতে হয়নি অর্জুনকে।

বিকেলের দিকে যখন অর্জুনের জয় স্পষ্ট হয়ে যায়, তখন অর্জুনকে ঘিরে থাকা দলীয় সমর্থকেরা ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দিতে শুরু করেন। তিনি যখন ১১ হাজার ভোটে পিছিয়ে, তখন অর্জুনের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় তাঁর সঙ্গে হাত মিলিয়ে তাঁকে শুভেচ্ছা জানান দীনেশ। যাওয়ার সময় তাঁকে ঘিরে ধরে ‘জয় শ্রীরাম’ বলে বিক্ষোভ দেখানো হয়। দীনেশও পাল্টা ‘জয় শ্রীরাম’ বলেন।

দীনেশ বলেন, “নৈহাটি, ব্যারাকপুর, জগদ্দলের ফলে আমি হতাশ। এই কেন্দ্রগুলিতে আরও ভাল ফল আশা করেছিলাম। তবে যা হয়েছে, মেনে নিতে হবে।” অর্জুন বলেন, “মমতাদির সঙ্গে আমার কোনও ব্যক্তিগত শত্রুতা নেই। আমি শুধু বলব যাঁরা দল করছেন, তাঁদের মানুষ বলে মনে করুন। আর এই সেদিন দলে এসে অভিষেক বড় নেতা হয়ে কথায় কথায় সবাইকে অপমান করবে, তা মেনে নেওয়া যায় না। মানুষকে চাকর-বাকর ভাবাটা উনি ছাড়ুন।”

আরও পড়ুন

Advertisement