Advertisement
E-Paper

পুরস্কারের টোপ কেন, কৈফিয়ত তলব জিতেন্দ্রের

নির্বাচনী বিধি ভাঙার অভিযোগ মানতে চাননি মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথবাবুও।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২১ মার্চ ২০১৯ ০৫:১১
বাবুল সুপ্রিয়র নাম করে ফোন এসেছিল বলে দাবি জিতেন্দ্র তিওয়ারির। —ফাইল চিত্র।

বাবুল সুপ্রিয়র নাম করে ফোন এসেছিল বলে দাবি জিতেন্দ্র তিওয়ারির। —ফাইল চিত্র।

লোকসভার ভোটে প্রচার-গান বেঁধে সদ্য শো-কজের মুখে পড়েছেন আসানসোলের বিদায়ী বিজেপি সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়। তার পরেই নির্বাচনী বিধিভঙ্গের অভিযোগে বুধবার আসানসোলের মেয়র জিতেন্দ্র তিওয়ারিকে কৈফিয়ত তলব করল (শো-কজ) নির্বাচন কমিশন। রাজ্যের মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষের বিরুদ্ধে বিধিভঙ্গের অভিযোগের ক্ষেত্রে জেলা নির্বাচন অফিসার তথা জেলাশাসকের কাছ থেকে রিপোর্ট চেয়েছে তারা।

বিধিভঙ্গ এবং বিরূপ মন্তব্যের অভিযোগ তুলে কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম, তৃণমূলের বীরভূম জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল, রবীন্দ্রনাথবাবু এবং জিতেন্দ্রকে ভোট প্রক্রিয়া থেকে দূরে রাখার দাবি জানিয়েছে বিজেপি। দলের রাজ্য সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার, সাংসদ রূপা গঙ্গোপাধ্যায় এ দিন এই নিয়ে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী অফিসার (সিইও) আরিজ আফতাবের সঙ্গে দেখা করেন। পরে জয়প্রকাশবাবু বলেন, ‘‘ফিরহাদ, অনুব্রত, রবীন্দ্রনাথ ঘোষ উস্কে যাচ্ছেন। আর জিতেন্দ্র বলছেন, ‘লিড যত, বরাদ্দ তত।’ এটা কি ভোট কেনাবেচা চলছে? এই চার জনের বিরুদ্ধে নির্বাচনী বিধিভঙ্গের অভিযোগ করেছি আমরা।’’

জিতেন্দ্র মঙ্গলবার পশ্চিম বর্ধমানের জামুড়িয়ার এক সভায় তাঁর কাউন্সিলরদের উদ্দেশে বলেছিলেন, ভোটে নিজের নিজের ওয়ার্ড থেকে ‘লিড’ দিতে পারলে পুরস্কার মিলবে। বুধবারেই জিতেন্দ্রের কৈফিয়ত তলব করেছে কমিশন। পশ্চিম বর্ধমানের অতিরিক্ত জেলাশাসক (নির্বাচন) অরিন্দম রায় বলেন, ‘‘জামুড়িয়ার অ্যাসিস্ট্যান্ট রিটার্নিং অফিসারের মাধ্যমে শো-কজ নোটিস পাঠানো হয়েছে জিতেন্দ্র তিওয়ারির কাছে। আগামী ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে জবাব চাওয়া হয়েছে। জবাবের পরে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে।’’ বিজেপির অভিযোগকে গুরুত্ব না-দিয়ে তির্যক সুরে জিতেন্দ্র বলেন, ‘‘এই সব অভিযোগের মূল্যহীন। বিজেপি নেতারা যদি এ ভাবে বারবার কমিশনে চিঠি লেখেন, তা হলে চিঠি লেখার দক্ষতা বাড়বে। হাতে লিখলে হাতের লেখা ভাল হবে।’’ শো-কজ নোটিস পেয়েছেন বলে জানিয়ে জিতেন্দ্র বলেন, ‘‘কমিশন ৩৬ ঘণ্টা সময় দিয়েছে। তার মধ্যেই জবাব দেবো।’’ কী কারণে ‘লিড যত, বরাদ্দ তত’ বলেছিলেন আসানসোলের মেয়র? দলীয় কাউন্সিলরদের উদ্বুব্ধ করতেই তিনি এই ধরনের মন্তব্য করেছেন বলে জানান জিতেন্দ্র।

দিল্লি দখলের লড়াই, লোকসভা নির্বাচন ২০১৯

নির্বাচনী বিধি ভাঙার অভিযোগ মানতে চাননি মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথবাবুও। ‘‘কোথাও কোনও রকম বিধিভঙ্গ করা হয়নি। আমরা আমাদের কর্মীদের সাহস জুগিয়েছি,’’ বলেন তিনি। এ প্রসঙ্গে কোচবিহারের জেলা নির্বাচন অফিসার তথা জেলাশাসক কৌশিক সাহা কোনও মন্তব্য করতে চাননি। ফিরহাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ খতিয়ে দেখছে কমিশন। তার পরেই পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে।

অনুব্রতকেও ইতিমধ্যে শো-কজ করেছে কমিশন। তবে সেই চিঠি তিনি এখনও পাননি বলে বীরভূম জেলা তৃণমূল সভাপতির দাবি। অনুব্রতের পরে বিধিভঙ্গের অভিযোগে নোটিস পাঠানো হয়েছে তৃণমূলের বীরভূম সহ-সভাপতি মলয় মুখোপাধ্যায়ের কাছে। তিনি জেলা আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটরও। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, মলয়বাবুর বিরুদ্ধে অভিযোগ, নির্বাচনী বিধি বলবৎ হওয়ার পরে জেলার গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা সত্ত্বেও সম্প্রতি তিনি শাসক দলের সভায় উপস্থিত ছিলেন। খুনে অভিযুক্ত এক তৃণমূল নেতা যাতে জামিন পান, সেই জন্য অনুব্রত সেখানে তাঁর (মলয়বাবুর) কাছে সুপারিশ করছিলেন। এই প্রসঙ্গে মলয়বাবু বলেছেন, ‘‘কমিশনের কাছ থেকে তিনটি প্রশ্ন সংবলিত একটি চিঠি পেয়েছি। উত্তরও দিয়েছি।’’

পঞ্চায়েত ও গ্রামীণ উন্নয়নে বরাদ্দ অর্থ ছাড়ার ক্ষেত্রে নির্বাচনী বিধি ভাঙার অভিযোগ তুলেছে বামফ্রন্ট। কমিশনকে চিঠি দিয়েছে তারা।

EC Asansol Jitendra Tiwari Lok Sabha Election 2019 লোকসভা ভোট ২০১৯ Video
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy