সব ঠিক থাকলে ভবানীপুর উপনির্বাচনের ফল ঘোষণার পরের দিনই আনুষ্ঠানিক ভাবে লক্ষ্মীর ভান্ডারের আর্থিক সহায়তাপ্রদান চালু করতে পারে রাজ্য। আজ, রবিবার ভবানীপুর, শমসেরগঞ্জ এবং জঙ্গিপুরে ভোটের ফলাফল প্রকাশ হবে। আগামিকাল, সোমবার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে একটি অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে লক্ষ্মীর ভান্ডারের আর্থিক সহায়তাপ্রদান চালু করার পরিকল্পনা করছে রাজ্য। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও।
প্রশাসনিক সূত্রের খবর, দুয়ারে সরকারের শিবিরগুলিতে সব মিলিয়ে প্রায় ১ কোটি ৮০ লক্ষ মানুষ এই প্রকল্পে সুবিধা চেয়ে আবেদন করেছিলেন। তার মধ্যে প্রায় দেড় কোটি আবেদনপত্র মঞ্জুর হয়েছে। বাকিগুলি এখনও যাচাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে। রাজ্য সরকার আগেই ঘোষণা করেছিল, সেপ্টেম্বর থেকে প্রকল্পের আর্থিক সুবিধা দেওয়া হবে উপভোক্তাদের। সেই মতো আপাতত প্রায় এক হাজার কোটি টাকা বরাদ্দও করা হয়েছে। সেই খাত থেকেই কাল, সোমবার থেকে আর্থিক সহায়তাপ্রদান চালু করা হবে।
তবে ৩০ অক্টোবর চারটি উপনির্বাচন থাকায় নির্বাচনী বিধির কারণে সংশ্লিষ্ট জেলাগুলির উপভোক্তাদের এখনই পরিষেবা দিতে পারবে না নবান্ন। তাই দুই ২৪ পরগনা, নদিয়া এবং কোচবিহার বাদে বাকি জেলাগুলির উপভোক্তাদের আর্থিক সুবিধা দেওয়া হবে বলে সরকারি সূত্রের খবর। শনিবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘এই চার জেলা বাদে লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা আমরা সব জেলাকেই দিয়ে দেব। সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের টাকা এক সঙ্গে দিয়ে দেব। নির্বাচন থাকায় ওই চারটি জেলায় ভোট মিটলে নভেম্বরে সেই টাকা দেওয়া হবে। কমিশনের থেকে অনুমতি নিয়েই এই সিদ্ধান্ত হয়েছে।’’
রাজ্যের আমলা মহলের দাবি, তৃতীয় বারের জন্য ক্ষমতায় এসে যে নতুন সামাজিক প্রকল্পগুলি সরকার চালু করেছে, তার মধ্যে লক্ষ্মীর
ভান্ডার সব থেকে বড়। ফলে শুরু থেকেই প্রকল্পের দিকে বাড়তি
নজর দিয়েছিল প্রশাসন। এমনকি, দুয়ারে সরকারের শিবিরগুলিতে লক্ষ্মীর ভান্ডারের জন্য পৃথক ব্যবস্থা করতে হয় জেলা প্রশাসনকে। আবেদনকারীদের সহযোগিতা করা, যাচাই-পদ্ধতি, অনুমোদিত আবেদনপত্রগুলিকে তালিকাভুক্ত করা ইত্যাদি সব কাজে বাড়তি পরিকাঠামোও তৈরি করতে হয়েছে। জেলা-কর্তাদের অনেকেই জানাচ্ছেন, এ সব কাজে সব মিলিয়ে প্রায় ৭ কোটি টাকা খরচ করেছে সরকার। ফলে পরিষেবা প্রদানেও যে সরকার ত্রুটি রাখবে না, তা স্পষ্ট।