E-Paper

কেন্দ্র টাকা দিলে রাজ্যই বেড়া দেবে সীমান্তে: মমতা

বিজেপির দাবি, অনুপ্রবেশকারীরা তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্ক। বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্যের কথায়, কেবল অনুপ্রবেশই নয়, অনুপ্রবেশকারীদের ভারতীয় জাল পরিচয়পত্র করিয়ে দিয়ে কাজ পাইয়ে দেওয়ার পিছনে তৃণমূলের চক্র সক্রিয় রয়েছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৮:৪৫
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। —ফাইল চিত্র।

সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া লাগাতে বিএসএফকে পশ্চিমবঙ্গ সরকার জমি দিচ্ছে না, এই অভিযোগ দীর্ঘ দিনের। সম্প্রতি ওই সংক্রান্ত একটি মামলায় আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে রাজ্যের ৯টি বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী জেলায় প্রয়োজনীয় জমি বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাই কোর্ট। আজ দিল্লিতে সাংবাদিক সম্মেলনে এই সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বললেন, ‘‘কেন্দ্র টাকা দিলে আমরাই ওই কাজ (কাঁটাতারের বেড়া) করে দেব।’’

বিজেপির দাবি, অনুপ্রবেশকারীরা তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্ক। বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্যের কথায়, কেবল অনুপ্রবেশই নয়, অনুপ্রবেশকারীদের ভারতীয় জাল পরিচয়পত্র করিয়ে দিয়ে কাজ পাইয়ে দেওয়ার পিছনে তৃণমূলের চক্র সক্রিয় রয়েছে। মঙ্গলবার পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ, ‘‘জমি দিতে ইচ্ছাকৃত বিলম্ব অনুপ্রবেশ ও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারীদের রক্ষা করার উদ্দেশ্যেই করা হচ্ছে। এটা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ভয়াবহ আশঙ্কার।’’

আজ এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে মমতা বলেন, ‘‘পূর্ব সীমান্তের দায়িত্বে রয়েছে বিএসএফ। তা হলে অনুপ্রবেশ রোখার দায়িত্ব কার হবে? কে নিয়ন্ত্রণ করে সীমান্ত?’’ পশ্চিমবঙ্গে মুসলিমদের জনসংখ্যা তুলনামূলক বেশি বলেই তাঁদের পরিকল্পিত ভাবে নিশানা করা হচ্ছে বলে আজ সরব হন মমতা। তিনি বলেন, ‘‘রাজ্যের জনসংখ্যার প্রায় ৩৩ শতাংশ মুসলিম। এটা আজ থেকে নয়। স্বাধীনতার সময় থেকেই। বিজেপি কি চায় আমি মুসলিমদের ছুড়ে ফেলে দেব?’’

বিজেপির যুক্তি, সমস্যা ভারতীয় মুসলিমদের নিয়ে নয়। যারা এ দেশে প্রবেশ করে জন-ভারসাম্য নষ্ট করে চলেছে, দেশের রসদ ও চাকরির বাজারে ভাগ বসাচ্ছে, সমস্যাটা তাদের নিয়ে। ওই অনুপ্রবেশকারীরা দেশের নিরাপত্তার জন্য বিপদের। মমতার দাবি, আন্তর্জাতিক সীমান্তের নিরাপত্তা এবং অনুপ্রবেশ রোখার যাবতীয় দায়িত্ব কেন্দ্রের। সেখানে রাজ্যের কোনও হাত নেই। আর বিএসএফকে জমি দেওয়ার ব্যাপারে হাইকোর্টের নির্দেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘আদালত কখনও কখনও নির্দেশ দিয়ে থাকে। ...আমরা আগে অনেক জমি দিয়েছি। কেবল সীমান্তে বেড়ার জন্যই নয়। কয়লা-তেল উত্তোলনে জমি ছাড়াও সশস্ত্র সীমা বল (এসএসবি), সিআরপিএফ, সিআইএসএফ, রেলওয়ের কাজের জন্য জমি দিয়েছি। রাজ্যের হাতে দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়া হোক, রাজ্য করে নেবে। টাকা যদি কেন্দ্র দেয়, তা হলে আমরা করে দেব।’’

আগের নিয়মে সীমান্ত থেকে ১৫ কিলোমিটার পর্যন্ত বিএসএফের নজরদারির আওতায় ছিল। এখন সেই সীমানা বাড়িয়ে ৫০ কিলোমিটার করা হয়েছে। মমতার মতে, নির্বাচনের আগে বিষয়টি নিয়ে তৎপরতা বাড়ার পিছনে নির্দিষ্ট কারণ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সীমান্ত এলাকায় মেরুকরণের রাজনীতির লক্ষ্যেই এই সক্রিয়তা।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Mamata Banerjee West Bengal government Central Government BSF

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy