E-Paper

ইডির নজরে কি পুলিশের কর্তারাও

কয়লা পাচারে উদ্ধার হওয়া নথি এবং কয়লা ব্যবসায়ীদের বয়ানের ভিত্তিতে আপাতত পাঁচ জন পুলিশ কর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলে দাবি তদন্তকারীদের।

শুভাশিস ঘটক

শেষ আপডেট: ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৮:৪১

— প্রতীকী চিত্র।

প্রভাবশালী-ঘনিষ্ঠ কয়লা ব‍্যবসায়ীদের ডায়েরিতে কয়েকটি নাম দেখেই তাঁদের চোখ কপালে উঠেছিল বলে দাবি ইডির তদন্তকারীদের। সূত্রের খবর, গত বছরের শেষে দায়ের করা কয়লা পাচারের নতুন মামলায় সুবিধাভোগী বলে তার পরই কয়েক জন পুলিশকর্তাকে চিহ্নিত করেছেন তাঁরা। দাবি, ব‍্যবসায়ীদের পরে এ বার ডিআইজি, আইজি স্তরের সেই পুলিশকর্তাদের তলব করে জিজ্ঞাসাবাদের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইডি।

কয়লা পাচারে উদ্ধার হওয়া নথি এবং কয়লা ব্যবসায়ীদের বয়ানের ভিত্তিতে আপাতত পাঁচ জন পুলিশ কর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলে দাবি তদন্তকারীদের। ইডি সূত্রে দাবি, ২০২৫এর কয়লা পাচারের মামলাতেও কালো টাকার একটি লভ্যাংশ পুলিশকর্তাদের পকেটে গিয়েছে বলে প্রাথমিক তথ্য সূত্র মিলেছে। ওই সব সূত্রের ভিত্তিতেই আগামী সপ্তাহ থেকে পুলিশকর্তাদের তলব করা হতে পারে।ওই পুলিশকর্তাদের পরিজন, ঘনিষ্ঠদের গত ১০ বছরের আয়কর রিটার্ন, সম্পত্তি ও ব্যাঙ্ক আমানতের‌ নথি-সহ তলব করা হচ্ছে বলেওসূত্রে দাবি।

প্রসঙ্গত, মাস দু’য়েক আগেই বেআইনি কয়লা পাচারে ঝাড়খণ্ড এবং পশ্চিমবঙ্গের প্রভাবশালী ঘনিষ্ঠ কয়লা মাফিয়া ও ব্যবসায়ীদের বাড়িতে প্রায় ৪৮ ঘন্টা তল্লাশি চালানো হয়। মূলত ঝাড়খণ্ডের বিসিসিএল খনি থেকে বেআইনি ভাবে কয়লা তুলে এ রাজ্যের বিভিন্ন ইটভাটা, স্পঞ্জ আয়রনের কারখানায় কয়লা পাচার করা হচ্ছিল বলে দাবি ইডির। ২০২২ থেকে বেআইনি কয়লা পাচারের এই রমরমার শুরু বলে দাবি করছেন তদন্তকারীরা। ২০২৫এ আসানসোল কমিশনারেটের কয়েকটি এফআইআরের ভিত্তিতে দিল্লির সদর দফতরে ইসিআইআর (এনফোর্সমেন্ট কেস ইনফরমেশন রিপোর্ট) দায়ের করে তদন্ত শুরু করে ইডি।

ইডি সূত্রে খবর, তল্লাশি অভিযানে ১৫ কোটি টাকা নগদ এবং বিপুল পরিমাণে সোনা ও রুপোর গয়না উদ্ধার হয়েছিল।

পাশাপাশি, কয়লা পাচারের কালো টাকার বেআইনি আর্থিক লেনদেন এবং হাওয়ালার মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা টাকারও বহু নথি উদ্ধার হয়েছিল।

ইডির এক কর্তার কথায়, “এখনও পর্যন্ত ঝাড়খণ্ড এবং এ রাজ্যের ১৮ জন প্রভাবশালী ঘনিষ্ঠ কয়লা মাফিয়া তথা ব্যবসায়ীকে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।” তিনি বলেন, “কয়লা ব্যবসায়ীদের বাড়ি ও অফিস থেকে ৩০টিরও বেশি ডায়েরি উদ্ধার হয়েছিল। তাতে কয়লাকেনা ও বিক্রির হিসেবের ফিরিস্তি লেখা। বেআইনি কয়লাপাচারে প্রভাবশালী-সহ একাধিক পুলিশকর্তাকে কালো টাকার লভ্যাংশ পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল বলেও ওই সব ডায়েরিতে নাম, তারিখসুদ্ধ লেখা রয়েছে। এ বার তাঁদের তলবেরই তোড়জোড় চলছে।”

প্রসঙ্গত, ২০২০এর ইডির কয়লা পাচারের মামলায় ১২ জন পুলিশকর্তাকে দিল্লিতে তলব করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। ইডির দাবি, ২০১৫ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত ইসিএলের আসানসোল, দুর্গাপুর, পুরুলিয়া, বীরভূম, বাঁকুড়ার খনি থেকে বেআইনি ভাবে প্রায় ২৭০০ কোটি টাকার কয়লা পাচার করা হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। এবং ওই টাকার একটি বড় অংশ প্রভাবশালী এবং পুলিশকর্তাদের পকেটে গিয়েছিল।

কয়লা পাচারের মামলায় জড়িত সন্দেহে তখন ওই পুলিশকর্তাদের দিল্লির সদরে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাঁদের পরিজন, ঘনিষ্ঠদের ব্যাঙ্ক আমানতের নথি ও সম্পত্তির দলিলও জমা নেওয়া হয়।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Coal Case ED

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy