E-Paper

তলানিতে আয়, বেহাল পরিষেবা নিয়ে ধুঁকছে হাওড়া পুরসভা

হাওড়া পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্পত্তি কর, মিউটেশন, লাইসেন্স বা বিল্ডিং দফতরের মতো যে সব দফতর ছিল পুর আয়ের প্রধান উৎস, চলতি আর্থিক বছরে সে সব দফতরের আয় প্রত্যাশিত লক্ষ্যমাত্রার ৪০ শতাংশেও পৌঁছয়নি।

দেবাশিস দাশ

শেষ আপডেট: ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:২৩

—প্রতীকী চিত্র।

আক্ষরিক অর্থেই চরম আর্থিক সঙ্কটে ভুগছে হাওড়া পুরসভা। এক দিকে পুরসভার নিজস্ব আয় প্রায়তলানিতে ঠেকেছে। অন্য দিকে, ইঞ্জিনিয়ার, অফিসারের অভাবে প্রতিটি দফতর ধুঁকছে। পুর পরিষেবা কাকে বলে, কার্যত সেটাই ভুলতে বসেছেন সাধারণ মানুষ। যার ফলে ভাঙাচোরা রাস্তাঘাট, যত্রতত্র পড়ে থাকা আবর্জনা, জঞ্জাল উপচে পড়া ভ্যাট, অপরিষ্কার নর্দমা, বেআইনি পার্কিং এবং অবাধে গড়ে ওঠা বেআইনি বহুতলই হয়ে উঠেছে গত সাত বছর ধরে নির্বাচন না-হওয়া হাওড়া শহরের প্রধান পরিচয়।

হাওড়া পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্পত্তি কর, মিউটেশন, লাইসেন্স বা বিল্ডিং দফতরের মতো যে সব দফতর ছিল পুর আয়ের প্রধান উৎস, চলতি আর্থিক বছরে সে সব দফতরের আয় প্রত্যাশিত লক্ষ্যমাত্রার ৪০ শতাংশেও পৌঁছয়নি। পুরকর্মীদের একাংশের বক্তব্য, পুরসভার কোষাগারের এমন হাল গত ৩০ বছরে হয়নি। পরিস্থিতি এমনই পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, আগামীআর্থিক বছরে অস্থায়ী সাড়ে তিন হাজার কর্মীর বেতন কী ভাবে হবে, সেটাই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। হাওড়া পুরসভার এক শীর্ষ কর্তা বলছেন, ‘‘এই পুরসভার নিজস্ব আয় কিছু আর নেই বললেই চলে। বর্তমানে প্রায় সবটাই সরকারি অনুদান থেকে চালাতে হচ্ছে। চলতি আর্থিক বছরে পুরসভার একাধিক ইঞ্জিনিয়ার অবসর নেওয়ায় বিল্ডিং দফতরের আয় যেমন তলানিতে ঠেকেছে, তেমনই অনলাইনে টাকা জমা দেওয়ার ব্যবস্থা চালু হওয়া সত্ত্বেও বিভিন্ন প্রযুক্তিগত সমস্যার জেরে তা আটকে থাকছে। ফলে, লাইসেন্স, মিউটেশন, সম্পত্তি কর থেকে আয় তলানিতে নেমে এসেছে।’’

কিন্তু কেন এমন হাল হাওড়া পুরসভার?

সেখানকার বর্ষীয়ান এক কর্মী বলেন, ‘‘এমন বেহাল দশার প্রধান কারণ, গত সাত বছর ধরে পুর নির্বাচন হয়নি। আর একটি বড় কারণ, পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের তরফে হাওড়া পুরসভার প্রতি চরম অবহেলা। কারণ, গত সাত বছরে বার বার পুর চেয়ারপার্সন ও পুর কমিশনারদের রাজনৈতিক কারণে বদলি করে দেওয়া হয়েছে। ফলে, বার বার মুখ থুবড়ে পড়েছে পুর পরিষেবা সংক্রান্ত বিষয়গুলি।’’ পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে,বিভিন্ন দফতরের শূন্য পদে অফিসার নিয়োগ না করে পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর কাজ চালানোর জন্য কেএমডিএ থেকে গত কয়েক বছরে আট জন ইঞ্জিনিয়ার ও অফিসারকে ডেপুটেশনে পুরসভায় পাঠিয়েছে। কিন্তু অভিযোগ, ডেপুটেশনে কাজ করতে আসা ওই ইঞ্জিনিয়ার ও অফিসারেরা দায়সারা ভাবে কাজ করায় রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ কোনও ভাবেই বাড়ছে না।

পুরসভার এক পদস্থ ইঞ্জিনিয়ার বললেন, ‘‘যে ভাবে কেএমডিএ-কে রাস্তা তৈরি থেকে সব কাজেরইদায়িত্ব দিয়ে দেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে অনেক প্রশ্ন উঠছে। এমনকি, সম্প্রতি পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর থেকে নোট পাঠিয়ে পুর কমিশনারের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে,শহর সাফাইয়ের পুরো দায়িত্ব কেএমডিএ-কে দেওয়া হলে তাঁর কোনও আপত্তি আছে কিনা। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, হাওড়া পুরসভার নিয়ন্ত্রণ কি তা হলে ধীরে ধীরে কেএমডিএ-র হাতেই চলে যাবে? আমরা কি সকলে চাকরি হারাব?’’

এই সব প্রশ্নের উত্তর এখনই না মিললেও এ কথা ঠিক যে, বর্তমানে হাওড়া পুরসভার যা অবস্থা, তাতে রাস্তা মেরামতি থেকে পানীয় জল সরবরাহ— সব কাজই পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের অধীনস্থ কেএমডিএ-কে দিয়েই করানো হচ্ছে। আর এ নিয়ে ক্ষোভ জমেছে পুরসভার আধিকারিকদের মনে। তাঁরা বলছেন, কেএমডিএ-কে যেখানে কোটি কোটি টাকার কাজ দেওয়া হচ্ছে, সেখানে অর্থ বরাদ্দ না হওয়ায় হাওড়া পুরসভার অফিসার, ইঞ্জিনিয়ার ও কর্মীরা কোনও কাজই করতে পারছেন না। যার ফলে পুর কোষাগার ক্রমেই ফাঁকা হচ্ছে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Howrah Municipal Corporation Municipality

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy