Advertisement
E-Paper

সুপ্রিম নির্দেশের পরের দিনই জেলাশাসকদের সঙ্গে বৈঠকে আচমকা মমতা! বার্তা: একাধিক আমলা তাঁর আতশ কাচের নীচে

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরে সোমবারই বৈঠকের বিষয়টি জানাজানি হয়ছিল। আনুষ্ঠানিক ভাবে বৈঠকটি ডেকেছিলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী। কিন্তু মঙ্গলবার সেই বৈঠকে কিছু ক্ষণের জন্য অংশগ্রহণ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২০ জানুয়ারি ২০২৬ ২৩:৪৫
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। —ফাইল চিত্র।

এসআইআর নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরের দিনই মঙ্গলবার বৈঠক হল রাজ্য প্রশাসনে। সমস্ত জেলাশাসকের সেই বৈঠকে ‘আচমকা’ হাজির হয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট বার্তা দিয়ে দিলেন, কোনও বৈধ্য ভোটারের নাম বাদ দেওয়া যাবে না। তার চেয়েও বড় বিষয়, জেলাশাসকদের উদ্দেশে মমতা যে বার্তা দিয়েছেন, যে ভাবে কয়েক জন জেলাশাসক সম্পর্কে নেতিবাচক বার্তা দিয়েছেন তাতে সাধারণ প্রশাসনের মধ্যে ‘থরহরি কম্প’ অবস্থা তৈরি হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরে সোমবারই বৈঠকের বিষয়টি জানাজানি হয়ছিল। আনুষ্ঠানিক ভাবে বৈঠকটি ডেকেছিলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী। কিন্তু মঙ্গলবার সেই বৈঠকেই আচমকা চলে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা। নবান্ন সূত্রে খবর, সর্বসাকুল‍্যে জেলাশাসকদের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী হাজির ছিলেন মেরেকেটে মিনিট ১০-১২। তার মধ্যেই তিনি বার্তা দিয়ে দেন, লজিক্যাল ডিস্ক্রিপেন্সির নামে কারও নাম যেন বাদ না-যায়।

এর পরেই আসে মোচড়। সূত্রের খবর, মমতা হঠাৎ বলেন, তাঁর কাছে খবর আছে তিন-চার জন জেলাশাসক নির্বাচন কমিশন এবং কেন্দ্রীয় সরকারের হয়ে কাজ করছেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা এ-ও মনে করিয়ে দেন, নির্বাচন কমিশনের কাজকর্ম শেষ হওয়ার পরে রাজ্য সরকারের নিয়ন্ত্রণে তাঁদের কাজ করতে হবে। ফলে তারা যেন ‘ভুল’ না করেন।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশকে জেলাশাসকদের বৈঠকে আইনি জয় হিসাবে দেখাতে চেয়েছেন মমতা। নবান্ন সূত্রে খবর, তিনি বলেছেন, রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্ট থেকে জয় ছিনিয়ে এনেছে। আর আপনারা পারবেন না? ঘটনাচক্রে যাঁরা জেলাশাসক তাঁরাই নির্বাচন কমিশনের খাতায় জেলার মুখ্য নির্বাচনিক আধিকারিক (ডিইআরও)।

তবে, কোন তিন-চার জন জেলাশাসক কমিশন বা নরেন্দ্র মোদীর সরকারের হয়ে কাজ করছেন, তা নির্দিষ্ট করেননি মুখ্যমন্ত্রী মমতা। রাজ্যের অবসরপ্রাপ্ত এক আমলার কথায়, “মমতার এটাই হচ্ছে প্রত্যুৎপন্নমতিত্ব। তিনি এমন একটি কথা সাধারণ প্রশাসনিক বৈঠকে বললেন, যাতে এসআইআর পর্বে কমিশনের থেকে বেশি ‘চাপ’ তিনি তৈরি করতে পারেন।

রাজনৈতিক মহলের অনেকের মতে, মমতা জানেন এসআইআরের বাকি পর্ব সম্পন্ন করতে সাংগঠনিক ভাবে তৃণমূলকে কী কী করতে হবে। দলগত ভাবে সেই দায়িত্ব অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাঁধে। আগামী ২৪ জানুয়ারি এ বিষয়ে ভার্চুয়াল বৈঠক করবেন অভিষেক। তার আগে প্রশাসনে ‘ওষুধ’ প্রয়োগ করে রাখলেন প্রশাসক মমতা। ঘটনাচক্রে তিনিই তৃণমূলের সর্বময় নেত্রী।

Mamata Banerjee West Bengal government Special Intensive Revision District magistrate
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy