Advertisement
E-Paper

বৈঠক শুরু হতেই পথে মানববন্ধন

পাহাড়ে বন্‌ধ উঠছে কি না তা নিয়ে বিকেল থেকেই উৎকণ্ঠা বাড়ছিল শিলিগুড়ি-সহ উত্তরবঙ্গের সমতল জুড়েই। বন্‌ধ প্রত্যাহারের ঘোষণা হবে বলেও ভেবে রেখেছিলেন অনেকে। যদিও বৈঠকে পাহাড়ের রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা শান্তি ফেরানোর কথা বলায় আশ্বস্ত সকলেই।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ৩০ অগস্ট ২০১৭ ০৪:০০
হাতে হাত: পথে বাসিন্দারা। মঙ্গলবার ছবি: স্বরূপ সরকার।

হাতে হাত: পথে বাসিন্দারা। মঙ্গলবার ছবি: স্বরূপ সরকার।

কেউ কলেজ পড়ুয়া, কেউ অবসরপ্রাপ্ত সরকারি আধিকারিক। চারটে বাজতেই হাতে হাত ধরে হিলকার্ট রোডের পাশে দাঁড়িয়ে পড়লেন ওঁরা। শুরু হল মানববন্ধন। শিলিগুড়ির হাসমিচক থেকে হিলকার্ট ধরে ভিড় এগোতে থাকল। পাহাড় সমস্যা নিয়ে নবান্নে বৈঠক শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সমতলে মানববন্ধনের ডাক দিয়েছিল ‘ইয়ুথ ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন। সোশাল নেটওয়ার্কিং সাইট এবং মুখে মুখে কর্মসূচির কথা প্রচার হয়েছিল। তাতেই বাসিন্দারা স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া দিয়েছেন বলে দাবি উদ্যোক্তাদের। পাহাড়ে শান্তি ফেরানোর বার্তা দিয়েই আয়োজন হয়েছিল মানবন্ধনের। পাহাড়ে শান্তি চেয়ে উদ্যোক্তাদের কয়েকজন বুকে পোস্টারও ঝুলিয়েছিলেন।

পাহাড়ে বন্‌ধ উঠছে কি না তা নিয়ে বিকেল থেকেই উৎকণ্ঠা বাড়ছিল শিলিগুড়ি-সহ উত্তরবঙ্গের সমতল জুড়েই। বন্‌ধ প্রত্যাহারের ঘোষণা হবে বলেও ভেবে রেখেছিলেন অনেকে। যদিও বৈঠকে পাহাড়ের রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা শান্তি ফেরানোর কথা বলায় আশ্বস্ত সকলেই। যেমন শিলিগুড়ি বার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক চন্দন দে বললেন, ‘‘এতদিন একটা অচলাবস্থা ছিল। তার থেকে অন্তত বের হওয়া গিয়েছে। আশা করছি দ্রুত বন্‌ধও উঠবে।’’ পাহাড় বন্‌ধে প্রভাব পড়েছিল সমতলের ব্যবসাতেও। শিলিগুড়ির নিয়ন্ত্রিত বাজারের পাইকারদের সংগঠনের অন্যতম মুখপাত্র বাপি চৌধুরী বলেন, ‘‘আলোচনা যখন শুরু হয়েছে নিশ্চিত কোনও ফলাফলও মিলবে।’’

নবান্নে বৈঠকের পরে মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে পাহাড়ের বিভিন্ন দলের প্রতিনিধিরা শান্তি ফেরানোর কথা বলছেন। এই দৃশ্যে খুশি সমতলের সব মহলই। পর্যটন ব্যবসায়ী সম্রাট সান্যাল ফেসবুকে পোস্ট করেছেন পাহাড় স্বাভাবিক হওয়ার আশার ভাবনা। সম্রাটবাবু বলেন, ‘‘এ দিনের বৈঠকের পরে একটা কথাই বলতে পারি, দ্রুত কোনও সুখবরের অপেক্ষাতে রইলাম।’’ কাদের ফাঁকেই পাহাড়ের বৈঠকের খোঁজ নিয়েছেন নিউ জলপাইগুড়ির স্টেশন ডিরেক্টর পার্থসারথী শীল। তিনি বলেন, ‘‘বন্‌ধের কারণে টয়ট্রেনও চলছে না। ইউনেস্কো টয়ট্রেনকে হেরিটেজ মর্যাদা দিয়েছে। আর বেশিদিন বন্ধ থাকলে ইউনেস্কো কোনও কড়া সিদ্ধান্ত নিক, এটা নিশ্চই কেউ চাইবে না।’’

এ দিন হাসমি চক থেকে সেবক মোড় পর্যন্ত শিলিগুড়িতে মানববন্ধন হয়েছিল। এক ছাত্রীর কথায়, ‘‘আমার এক সহপাঠী পাহাড়ের বাসিন্দা। বন্‌ধের কারণে এখন কলেজেও আসছে না। রাজনীতি বুঝি না, কিন্তু কারও পড়াশোনা এ ভাবে বন্ধ হবে তা মেনে নেওয়া যায় না। পাহাড় দ্রুত স্বাভাবিক হওয়ার আর্জি জানাতেই মানববন্ধনে যোগ দিয়েছি।’’

Darjeeling Unrest Manav Bandhan GJM Indefinite Strike Gorkhaland Mamata Banerjee মানববন্ধন
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy