E-Paper

এক লাখি ‘লিড’ চান অভিষেক

দলের প্রার্থী শিউলি সাহার সমর্থনে সভা করতে রবিবার বিকেলে কেশপুরের আনন্দপুরে আসেন অভিষেক।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৩ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:৩৯
আনন্দপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার বিকেলে।

আনন্দপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার বিকেলে। নিজস্ব চিত্র ।

একলাখি ব্যবধানের ধারা কেশপুরে অব্যাহত রাখতে চান তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার কেশপুরে প্রচারে এসে কাঙ্খিত ব্যবধান স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি। নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে বিভিন্ন জায়গাকে আগলে রাখার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন অভিষেক। কেশপুরেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। সঙ্গে জুড়েছে ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’।

দলের প্রার্থী শিউলি সাহার সমর্থনে সভা করতে রবিবার বিকেলে কেশপুরের আনন্দপুরে আসেন অভিষেক। ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটের আগে, ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত ভোটের আগেও আনন্দপুরে এসে সভা করেছেন তিনি। অভিষেক বলেছেন, ‘‘এখানে তৃণমূলকে এক লক্ষের বেশি ব্যবধানে জেতাতে হবে।’’ তাঁর আশ্বাস, ‘‘আপনারা যে ভাবে আমাদের ভালবাসার ঋণে আবদ্ধ করেছেন, আমি নতমস্তকে আপনাদের কৃতজ্ঞতা, প্রণাম জানাই। আমার লোকসভা কেন্দ্র ডায়মন্ডহারবার যে ভাবে আগলে রাখি, কেশপুরও ব্যতিক্রম হবে না। এখানের উন্নয়নের দায়িত্ব, দায়ভার আমার। আমি কথা দিয়ে যাচ্ছি।’’

প্রতিশ্রুতি দিলে তিনি যে তা পালন করেন এ বার নির্বাচনী জনসভায় তা-ও বার বার বলতে শোনা যাচ্ছে অভিষেককে। তিনি বলেন, ‘‘আমি কথা দিয়ে গিয়েছিলাম চব্বিশের নির্বাচনের সময় যে, কেশপুর থেকে আপনারা এক লক্ষের বেশি ব্যবধানে জেতান। এখানে আগামী দিন আমার যতটুকু সামর্থ আছে, আমি নিজের মতো করে উন্নয়ন করার চেষ্টা করব।’’ চব্বিশের লোকসভা ভোটে কেশপুর থেকে তৃণমূলের ‘লিড’ ছিল প্রায় ১ লক্ষ ৩ হাজার। কেশপুরের উন্নয়নে কী কী কাজ হয়েছে, তার বিস্তারিত খতিয়ানও দেন অভিষেক। তাঁকে বলতে শোনা গিয়েছে, ‘‘আগামী ৫ বছরে ২০০ কোটি টাকার রাস্তা কেশপুর পাবে, দায়িত্ব আমার।’’

সিপিএম এবং বিজেপিকে এক আসনে বসিয়ে আক্রমণ শানিয়েছেন অভিষেক। সেই প্রসঙ্গেই তুলেছেন অতীতের সন্ত্রাসের প্রসঙ্গ। তিনি বলেন, ‘’সিপিএমের আমলের ৩৪ বছরের শুধু বামদুর্গ নয় কেশপুর, অপশাসন- সন্ত্রাসের আঁতুড়ঘর ছিল এই এলাকা। জামশেদ আলি ভবন থেকে কার্যত কেশপুরের ১৫টি অঞ্চল চালানো হত।’’ অভিষেক যোগ করেন, ‘‘সিপিএমের অন্যতম নেতা, যার নাম তন্ময় ঘোষ, সে এখন বিজেপির নেতা। তার ভাইও বিজেপি নেতা। নতুন বোতলে, পুরনো মদ। জার্সিটা পাল্টেছে। বাম থেকে রাম হয়েছে। লাল ফ্যাকাসে হলে গেরুয়া হয়ে যায়। সিপিএমের হার্মাদরা আবার বিজেপির জার্সি পরে এলাকা অশান্ত করতে নেমেছে।’’ অভিষেক তাঁকে আক্রমণ করেছেন শুনে কেশপুরের বিজেপি নেতা তন্ময় ঘোষের প্রতিক্রিয়া, ‘‘ব্যক্তি আক্রমণ করে লাভ নেই। এ সব কথা বলে ওরা আসলে সন্ত্রাস করারই চেষ্টা করছে। কেশপুরের মানুষ এ বার তৃণমূলকে প্রত্যাখান করবে। কোনও শক্তি নেই এখানে এ বার তৃণমূলকে জেতাবে!’’ কেশপুরের সিপিএম প্রার্থী গুরুপদ মণ্ডল বলেন, "তৃণমূল এবং বিজেপি, একই মুদ্রার এপিঠ- ওপিঠ। একে অপরের পরিপূরক।"

কেশপুর বরা বরই শাসকের পক্ষে থাকে। ২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনে অবশ্য তৃণমূলের জয়ের ব্যবধান কমে দাঁড়িয়েছিল একুশ হাজারে। দ্বন্দ্বের জেরে ব্যবধান কমেছিল বলে উঠে এসেছিল দলের অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনায়। এ দিন কেশপুর ছাড়ার আগে দলের সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার বার্তা দিয়েছেন অভিষেক। শুধু উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে থেমে থাকেননি অভিষেক। তিনি শুনিয়েছেন, ‘‘কেশপুরের দায়িত্ব আমার। ৪ তারিখের পর আবার কেশপুর আসব।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Keshpur Abhishek Banerjee

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy